কারেন্ট পোকায় ভেস্তে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

কারেন্ট পোকায় ভেস্তে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ২:২৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

কারেন্ট পোকায় ভেস্তে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

উত্তরের খাদ্যভান্ডার বলে খ্যাত নওগাঁ। দিগন্ত জোড়া মাঠে কার্তিকের শেষে হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে আমন ধানের সোনালী শীষ। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কৃষকরা ঘরে তুলবে সোনালী ফসল। কিন্তু শেষ মূহুর্তে এসে কারেন্ট পোকার (বাদামি গাছ ফড়িং) আক্রমনে ভেস্তে যেতে বসেছে কৃষকের স্বপ্ন।

আক্রান্ত ধান ক্রমেই শুকিয়ে চিটায় পরিনত হচ্ছে। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রতিকার। চলতি মৌসুমে আমন রোপনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও কারেন্ট পোকার আক্রমনে ধান উৎপাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, এটা এমন এক জাতের পোকা যা কোন ফসলের মাঠে আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। কারেন্টের মতো দ্রুতগতির কারণেই এটি কৃষকদের কাছে কারেন্ট পোকা নামে পরিচিত। তবে যেসব মাঠে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়নি সেসব এলাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলায় উফশী জাতের ৮ হাজার ৬৯০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৯৭৫ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ৭০ হেক্টর, রাণীনগরে উফশী জাতের ১৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৪৫ হেক্টর, আত্রাইয়ে উফশী জাতের ৩ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ১২৫ হেক্টর, বদলগাছিতে উফশী জাতের ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৫০০ হেক্টর, মহাদেবপুরে উফশী জাতের ১৮ হাজার ৪০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর, পত্নীতলায় উফশী জাতের ২৫ হাজার ১০০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৩ হাজার হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ১০ হেক্টর, ধামইরহাটে উফশী জাতের ১৯ হাজার ৪৩ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৬৬৩ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ৫০ হেক্টর, সাপাহারে উফশী জাতের ১০ হাজার ১০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৫০ হেক্টর, পোরশায় উফশী জাতের ১৫ হাজার ৪৮২ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১ হাজার ২৭০ হেক্টর, মান্দায় উফশী জাতের ১৩ হাজার ৩১০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৪৬০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে উফশী জাতের ২৫ হাজার ৩০৬ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবছর।

মহাদেবপুর উপজেলার বাগধানা গ্রামের কৃষক সমরাজ মন্ডল বলেন, জমির ধান পেকে গেছে বললেই চলে। সেই ধানে হঠাৎ করে কারেন্ট পোকা আক্রমণ করায় কীটনাশক স্প্রে করেছি। তারপরও কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পারিনি। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অন্য কোম্পানির কীটনাশক এনে আবারো স্প্রে করেছি।

উপজেলার বামনসাতা গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান বলেন, কীটনাশক স্প্রে করেও কারেন্ট পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্প্রে করলে ২-৩ দিন কিছুটা আক্রমণ কম থাকে।

চৌমাশিয়া গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাজারের কীটনাশকগুলো ভেজাল কি না কর্তৃপক্ষকে তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। কারণ স্প্রে করার পরও তা দমন করা যাচ্ছেনা। আমাদের সোনালী ফসল তোলার যে স্বপ্ন ছিল সেটি ভেস্তে যেতে বসেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এরই মধ্যে কৃষকদের মাঝে এ সম্পর্কিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কারেন্ট পোকার হাত থেকে রেহাই পেতে আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকা নির্ণয় করে কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বিকেআর/এমকে

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও