জাপানি গোপী ধান চাষ হচ্ছে মাগুরায়

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাপানি গোপী ধান চাষ হচ্ছে মাগুরায়

ফয়সাল পারভেজ: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

জাপানি গোপী ধান চাষ হচ্ছে মাগুরায়

চারদিকে সবুজে ভরা ধানক্ষেত। বিশাল মাঠ জুড়ে সবুজ রঙে আমন থেকে আউশ সব ধরনের ধানে দখল করেছে। হঠাৎ মাঝ বরাবর কিছু জমিতে বেগুনী বর্ণের ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে। দেখে মনে হবে আগুনে ঝলসে গেছে পুরোটাই।

রাস্তা থেকে নেমে ক্ষেতের আইল ধরে গেলেই বেগুনী বর্ণের ধানে আশ্বিনের হিমেল বাতাসের দোল চোখে পড়বে। অবাক না হয়ে যেন পারা যায় না।

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বারগাতি ইউনিয়নের সিংড়া বাজার সংলগ্ন মাঠে এ দৃশ্য যেন প্রতিদিনই অবাক করে দিচ্ছে আগত উৎসুক জনতার। বেগুনী রঙের ধান রোপনের কৃষক উক্ত এলাকার গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনেকটা শখ করেই দুমাস আগে ১০ শতক জমিতে এই ধান রোপন করেছেন। সময়ের সাথে ফুলে যাচ্ছে ধানের শীষ। খুশিতে তিনি অপেক্ষায় আছেন এই চালের ভাত খেতে কেমন হবে।

এই কৃষক জানান, নতুন জাতের এ ধানের নাম জাপানি গোপি রাইচ। বললেন সংগ্রহের পেছনের রয়েছে ছোট একটি গল্প। তার বড় ছেলে একজন সরকারি কর্মকর্তা বিধায় সুযোগ হয়েছিল জাপান দেশ সফরে। জাপান সফর শেষে বাড়িতে এলে জাপানি গোপি রাইচ সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। কিছু বীজ বাবাকে দেখান এবং নিজেদের জমিতে চাষ করতে বলেন। ছেলের অনুরোধেই তিনি  ১০ শতক জমিতে এই অজানা ধানের বীজ রোপণ করেন।

তিনি ছেলের কাছ থেকে শুনেছেন এই জাপানি রাইচের বিশেষ একটি গুন। জাপানে এই রাইচ অনেকটা ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রনে ব্যবহার করা হয়। এখন অপেক্ষায় আছেন ধানের ফলন কেমন আসে। তবে তিনি ধারণা করছেন আবহাওয়া ভাল থাকলে লাগানো জমি থেকে পাঁচ মণ ধান উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিংড়া বাজারে এ ধান নিয়ে কথা হয় স্থানীয় কৃষক লতিফের সাথে। তিনি বলেন, আমরা খুব অবাক হইছি এই ধান দেখে, বেগুনী রং ক্যাংবা হয়। ধান হলি কিছু দিতি কইছি গোবিন্দ দারে। মাঠে লাগাই দেকপানে।

অপর কৃষক মিরাজ বলেন, শুনতেছি এই ধানের চাল রান্না করে খালি ডায়াবেটিকস কমে।

শালিখা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, জাপানি গোপি ধান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও এটি উচ্চফলণশীল বলে ধারনা করা হচ্ছে। সঠিক ভাবে যত্ন নিলে ভাল ফলন আসতে পারে। ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রনে এই ধানর চাল কোন কাজ করে কিনা তাদের জানা নেই।

এফপি/জেডএস/

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও