পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষক ঝুঁকছেন সবজিতে

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষক ঝুঁকছেন সবজিতে

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৯

পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষক ঝুঁকছেন সবজিতে

উত্তরাঞ্চল নওগাঁ জেলা ধান ও সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ধান ও সবজির পাশপাশি আবাদ হয়ে থাকে পাটেরও।

তবে উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং জাগ দেয়ার জায়গা না থাকায় প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। ফলে এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ বলা হলেও সেই প্রবাদ এখন বিলীন হওয়ার পথে।

পাটচাষে আগ্রহ কমে এখন সবজির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। তবে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা বলছেন, প্রতি বিঘাতে পাটের আবাদ করতে হাল চাষ ৬শ টাকা, বীজ ২শ টাকা, সার, ওষধ, নীড়ানি, সেচ ৪ হাজার টাকা, শ্রমিকের খাবার ২ হাজার টাকা, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘাপ্রতি পাট উৎপাদন হয় ১০-১৪ মণ।

বদলগাছীর বালুভরা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘পাটের আবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা জাগ দেয়ার জায়গা না থাকা এবং পানি। পাট কাটার পর ভেজানোর জন্য যে সময় পানির দরকার তা পাওয়া যায় না। গত বছর একবিঘা জমিতে আবাদ করেছিলাম। এ সমস্যার কারণে এ বছর আবাদ করিনি। সে জমিমে এখন পটল করেছি। প্রতিদিন পটল তুলে বাজারে বিক্রি করছি। ভালো দাম পাচ্ছি। পাটের মতো ঝামেলা পোহাতে হয় না।’

নাজিরপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এ বছর একবিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। আলু আবাদের পর জমি ফেলে না রেখে ওই জমিতে পাট লাগানো হয়। পাট লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে ওঠানো পর্যন্ত প্রচুর কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় আমরা মূল্য পাই না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৫ হেক্টর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ।’

তিনি জানান, আঁশ ছাড়ানোর সময় পানি না পাওয়ায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে এবং স্বল্প পানিতে আবাদে উৎসাহিত করার ফলে পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষক এখন সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।

এইচআর

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও