রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে লাভবান কৃষক

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে লাভবান কৃষক

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৯

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে লাভবান কৃষক

দেশের চাহিদার ১৪ ভাগ পেঁয়াজ রাজবাড়ীতে উৎপন্ন হয়ে থাকে। আর মসলা জাতীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজ অন্যতম। আর বাজার দর অধিক হওয়ায় পেঁয়াজের বীজকে কালো সোনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

তাই দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কৃষকরা পেঁয়াজসহ পেঁয়াজ বীজের আবাদ বাড়িয়েছেন।

রাজবাড়ীতে প্রতি বছরের মতো এবারও পেঁয়াজ বীজের চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকেরা। এ কারণে রাজবাড়ীতে প্রতিবছর পেঁয়াজের বীজ বেশি করে আবাদ করা হয়।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা,পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে এ বছর পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে ৩শ ৫ হেক্টর। গতবছর আবাদ হয়েছিল ২শ ৯০ হেক্টর, যা গত বছরের  তুলনায় ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, পেঁয়াজ বীজের চাষ করে রাজবাড়ীর কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন ,যার কারণে কৃষকেরা ফলন ভালো ও বেশি দাম পাওয়ায় পেঁয়াজ বীজের চাষ করছেন।

রাজবাড়ী সদরের দ্বাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক লিটন শেখ বলেন, তিনি প্রতি বছর পেঁয়াজ বীজের চাষ করেন। এ বছর তিনি চার বিঘা জমিতে বীজের চাষ করেছেন, চাষ, সার বীজ এবং কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এই চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৫ থেকে ৬ মণ পেঁয়াজ বীজ পাবেন বলে আশা করছেন।

তিনি জানান, এই বীজ তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন এবং সব বাদ দিয়ে তিনি ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বীজ বিক্রি করে লাভ করতে পারবেন।

তিনি পেঁয়াজের বীজ চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছেন। এ বছর ভালো লাভের কারণে বীজের চাষ বাড়িয়েছেন। গত বছর ২ বিঘা জমিতে চাষ করে লাভবান হওয়ায় এ বছর ৪ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন।

অন্য আরেক চাষি বলেন, এ বছর পেঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। কোনো ধরনের পরিবেশের বিপর্যয় না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। বর্তমানে প্রতিকেজি বীজের বাজার দর তিন থেকে চার হাজার টাকা, আর মণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো বাজার দর পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে ফলন পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ, প্রতিমণ বীজ ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করে থাকেন। পেঁয়াজ বীজের চাষ করে চাষিরা স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ জেলায় পেঁয়াজ এবং বীজের চাষ করেন ৬ হাজারেরও বেশি কৃষক।

কৃষকেরা আরো জানান, পেঁয়াজ বীজের উচ্চ মূল্য এবং এটি লাভজনক হওয়ায় তারা দিনদিন বীজের চাষে ঝুকছেন। তাছাড়া বীজের চাষ করে কৃষকেরা বীজের সাথে খেত থেকে যে পেঁয়াজ পান তা পেঁয়াজ বীজের চাষ করতে যে খরচ হয় তা উঠে আসে বলে জানান।

রাজবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৮৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে। এ বীজ চাষ করে কৃষকের বিনিয়োগের ৪ ভাগের তিন ভাগই লাভ হয়ে থাকে। তবে কালবৈশাখী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পেঁয়াজ বীজ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। শতক প্রতি দুই কেজি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে আর প্রতিকেজি বীজ ৪ হাজার টাকায় বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। সেই হিসেবে শতক থেকে ৮ হাজার টাকার মতো বীজ বিক্রি করা যায়। বীজ চাষে কৃষকদের এসএমই চাষি হিসেবে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে বীজের চাহিদা কৃষকরা যেন মিটাতে পারেন এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন সেই কারণে সরকারের প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রবি মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের সাথে  সাথে পেঁয়াজ বীজেরও চাষ করে থাকেন। এ বছর ৩শ ৫হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে পরিপক্ব অবস্থায় বীজ রয়েছে। তবে কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ক্ষতি না হলে বীজের উৎপাদন ভালো হবে।

জেলার মোট পেয়াজ বীজ উৎপাদনের মধ্যে কালুখালী ও সদর উপজেলায় এর আবাদ বেশি হয়ে থাকে। ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় কৃষকেরা  বীজের আবাদ বেশি করছেন। গত বছর বাজার মূল্য ভালো থাকায় এ বছর বীজের চাষ বেশি করেছেন। তবে তিনি আশা করছেন এ বছরও বাজার দর বেশি পাবেন।

এইচআর

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও