শুধু বাড়ে না ধানের দাম

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

শুধু বাড়ে না ধানের দাম

নুর আলম, নীলফামারী ৬:৩০ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৯

শুধু বাড়ে না ধানের দাম

‘কোন জিনিসের দাম বাড়ে নাই? সবগুলার দাম বাড়ি গেইছে। খালি বাড়ে নাই ধানের দাম। কৃষক মারা যায়ছে, হামারতিক কাহো না দ্যাখে।’

আক্ষেপ করে বলছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি গ্রামের পাতিপাড়ার কৃষক লোকমান হোসেন।

তিনি বোরো মৌসুমে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। তিন বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ধান হতে পারে। বর্তমান বাজার দর ৪০০ টাকা মণ ধরলেও ৫৪ মণ ধানে আসবে ২১ হাজার ৬শ’ টাকা। নগদে লোকসান ৮ হাজার ৪শ’ টাকা।

এমন পরিসংখ্যান দেখিয়ে লোকমান আঞ্চলিক ভাষায় যা বললেন, তার সরল অর্থ, কৃষক ধানেই মরবে।

একই এলাকার আরেক কৃষক আবেদ আলীর ভাষ্য, বাজারে ধান নিলে বিক্রি হয় ৪শ’ টাকা মণ। কিন্তু, এই বাজারেও শ্রমিকের দিন হাজিরা দিতে হয় সাত থেকে ৭৫০ টাকা। ধানের চেয়ে শ্রমিকের মজুরিই বেশি। কৃষকেরা কি করবে? পথে বসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গতবার বাজার একটু ভাল ছিল। এবার উল্টো হইল। ছয়জনের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ল।’

ঢেলাপীড় ফুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাশেম আলীর ৮ বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ হয়েছে ৯২ হাজার টাকা। বাজারের যে অবস্থা, লাভতো দূরের কথা। আসল ওঠা নিয়ায় তার যত দুশ্চিন্তা!

কাশেম আলী বলেন, ‘সামনের বছর থেকে ধান আবাদ করব না। ভুট্টা, কুশাইর ছাড়াও শাক-সবজি করব। ওগুলোতেই ভাল লাভ আসিবে।’

ঢেলাপীড় এলাকায় পাঁচজন দল বেঁধে ধান কাটছেন। দলনেতা রায়হান আলী বলেন, ‘আমরা জমি থেকে ধান কেটে রাস্তায় দিয়ে আসছি। এখান থেকে আমাদের কাজ শেষ। ধানের মালিক সেখান থেকে ব্যবস্থা করে নিয়ে যাবেন।
আমরা মজুরি নিচ্ছে ৭০০ টাকা। কারণ পোষায় না। অনেক খাটুনি।’

নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, পলাশবাড়ি, টুপামারী, কচুকাটা, পঞ্চপুকুর, চড়াইখোলা, সংগলশী, সোনারায়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সোনালী ধানের সমারোহ দেখা গেছে।

কোথাও ক্ষেতে কামলারা ব্যস্ত ফসল কাটতে। কোথাও দল করে নিয়ে আসছে মাড়াই করতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরর নীলফামারী উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৮৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, ‘এবার ধানের বাজার মন্দা। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে তারা আগামী মৌসুমে ধান চাষে নিরুৎসাহিত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ক্ষতি পুষিতে দিতে হলে তাদের পাশে থাকতে হবে। আরও কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এনএ/আইএম

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও