আমনের ক্ষতি পুষাতে তিস্তার চরে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

আমনের ক্ষতি পুষাতে তিস্তার চরে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ

আরিফুর রশীদ, লালমনিরহাট ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

আমনের ক্ষতি পুষাতে তিস্তার চরে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ

সর্বনাশা তিস্তানদী এখন ধু-ধু বালুচর। আর এই বালুচরে বর্ষায় আমন ধান চাষ হয় না বন্যার কারণে। তাই আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিস্তার চরে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ করেছে চর এলাকার কৃষকেরা।

এ এলাকার প্রধান ও একমাত্র অর্থকারী ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এ বালুচরে এবারে ব্যাপকহারে চাষ হয়েছে ভুট্টা।

চর অঞ্চলের জমিতে ভুট্টা ফসল লাভজনক হওয়ায় কৃষক এখন ভুট্টা চাষে ঝুকে পড়েছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা জুরে ভুট্টা গাছ ছুয়েছে মাঠ। ভুট্টা একটু দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও লাভ বেশি তাই আমন ধান কাটার পর থেকে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষক।

আগাম জাতের ভুট্টা ক্ষেতের সবল চারাগাছ আর আবহাওয়ার আদ্রতা দেখে অধিক ফলনের স্বপ্নে কৃষকের মনে আনন্দে ভরে উঠেছে।

উপজেলার ধুবনী গ্রামের তিস্তার চর এলাকার ভুট্টাচাষি সাহেদ আলী বলেন, নিজের জমি না থাকলেও অন্যর ৫ বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে ভুট্টা আবাদ করেছি। জমির মালিককে প্রতিবিঘা জমির জন্য ৩ হাজার ৫শ টাকা দিয়েছি। সার, বীজ ও সেচসহ সকল ব্যয় বাদ দিয়েও প্রতি বিঘা জমিতে কম হলেও ৭/৮ হাজার টাকা লাভ হবে আল্লাহর রহমতে। আগাম ভুট্টা আবাদ করলে ফলন ভালো হয় তাই আমি আগাম জাতের ভুট্টাচাষ করেছি।



একই উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, সর্বনাশা এ তিস্তা নদীর চরে আমন ধানের আবাদ হয় না তাই আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম জাতের ভুট্টাচাষ করে সবাই। রবি মৌসুমের আবাদের টাকা দিয়ে সারা বছর পরিবারের নিয়ে চলতে হয়। অন্য ফসল এ চর এলাকায় আবাদ করলে ফলন ভালো হয় না এবং পরিবারের খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ব্যয় করা খুবই কষ্ট হয়। তাই আমি ভালো ফলনের আশায় মৌ-সীড কোম্পানির আগাম জাতের বিশাল-৬৪০৫ হাইব্রিড ভুট্টাবীজ ক্ষেতে বপন করেছি। ক্ষেতের সবল সুস্থ ভুট্টাগাছ দেখে ফলন বেশি হওয়ার আশা করছি।

এ এলাকার কৃষক সুজন মিয়া জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর অন্য ফসল তামাক, গমচাষ করলে যে, লাভ হয় তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয় ভুট্টা আবাদে। প্রতি বিঘায় ৪০ মণ পর্যন্ত ভুট্টা হয় এবং ব্যয় হয় প্রতি বিঘায় ৫/৬ হাজার টাকা আর বিক্রি করি ১৫/১৮ হাজার টাকা। গত বছর উৎপাদিত ভুট্টা এখন বাজারে ভালোদামে বিক্রি হচ্ছে। শুধুমাত্র ভুট্টা ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সকল ভুট্টাচাষি লাভবান হবে।

সরেজমিনে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী, সির্ন্দুনা, নিজ গড্ডিমারী, হলদীবাড়ী, উত্তর পারুলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, এ বছর ভুট্টাচাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে অনেক গুণ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিক হারে ভুট্টাচাষ করা হয়েছে। এছাড়াও আদ্রতা এবং সবল ভুট্টাগাছ দেখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে সকলেই।

দক্ষিণ গড্ডিমারী এলাকার আ. রহমান রুপম জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসলই শুধু নয় দেখতেও সুন্দর এর যেমন সমাহার দেখা যায় তেমনি সবুজ রংয়ে ভরে গেছে মাঠ। তাই উচ্চ ফলনশীল দাদাভাই ও ৯১৮১ সহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টাচাষ করছে সবাই।

উপজেলার মেডিকেল মোড় এলাকার বীজ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সবচেয়ে বেশি মৌ-সীড কোম্পানির ভুট্টা বীজ বিক্রি হয়েছে এবারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় গত বছরে ভুট্টাচাষ হয়েছিল ১০ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আর এ বছর ১২ হাজার ৮৮৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টাচাষ করা হয়েছে। কৃষকদেরকে ভুট্টাচাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং তামাক চাষ না করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আশা করছি আগামীতে কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে দ্বিগুণ হারে ভুট্টাচাষ করবে। গত বছরের তুলনায় এবারে ভুট্টাগাছে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। আশা করা যায় আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা এ বছর বেশি লাভবান হবে।

এইচআর

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও