সবজি কৃষকের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ফাঁদে পাখি

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

সবজি কৃষকের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ফাঁদে পাখি

মেহেদী হাসান মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) ৫:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯

সবজি কৃষকের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ফাঁদে পাখি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজিক্ষেতে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে কৃষকের পেতে রাখা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে নির্বিচারে মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব এসব পাখি হত্যার বিষয় নিয়ে তেমন মাথাব্যথা না থাকলেও নিষিদ্ধ এ কারেন্ট জালের ব্যবহার ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এরমধ্যে বেগুন ও টমেটোর ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের পাখির আনাগোনা থাকায় কৃষকরা ফসলরক্ষায় নানা ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।

ক্ষেতের মধ্যে খুঁটি পুঁতে তাতে বিভিন্ন রংয়ের ফিতা টানানো, টিনের ঢনঢনি বাজানো, কাকতাড়ুয়া স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনেকেই ব্যবহার করছেন। তবে বেশির ভাগ কৃষক কারেন্ট জাল দিয়ে ফসলের ক্ষেতকে পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছেন। এতে করে ওই ক্ষেতে পোকা কিংবা সবজি খেতে আসা বক, শালিক, ঘুঘু, বাঁদুর, চড়ুইসহ বিভিন্ন দেশীয় পাখি জালে আটকে মারা পড়ছে।

উজানচর ইউনিয়নের পূর্ব উজানচর হাবিল মণ্ডলের পাড়ার কৃষক মো. আবুল শেখ জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। এতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও মোটামুটি ভালো। কিন্তু ক্ষেতে পাখি বসে বেগুনে ঠোকা দিয়ে অনেক বেগুন নষ্ট করে ফেলছে। ঠোকানো বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পাখি ঠেকানো যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে কারেন্ট জাল দিয়েছি।

নিষিদ্ধ এই জাল কীভাবে সংগ্রহ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন কারেন্ট জাল কিনতে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই জেলেদের কাছ থেকে পুরনো জাল কিনে সবজিক্ষেত ঢেকে দিয়েছি। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, কিছু সবজিক্ষেতে পাখি ক্ষতি করলেও অনেক ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলের উপকার করে। তাই পাখি মারা যাওয়ার মতো কারেন্ট জাল পদ্ধতি ব্যবহার করা ঠিক না। বিকল্প হিসেবে তিনি ক্ষেতের চারদিক ও মাঝখান দিয়ে ঘন ঘন খুঁটি পুঁতে নানা রংয়ের পাতলা ফিতা টানিয়ে দিয়ে পাখির উপদ্রব থেকে সবজি রক্ষা করা য়ায়। বাতাসে এসব ফিতায় সৃষ্ট শব্দে পাখি ভয় পেয়ে ক্ষেতে তেমন একটা বসে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মুহা. মোহায়মেন আক্তার বলেন, পাখি প্রকৃতি ও কৃষকেরও বন্ধু। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অনেক বেশি। তারা যতটুকু না ফসলের ক্ষতি করে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি উপকার করে থাকে। তাই পাখি তাড়াতে কারেন্ট জালের মতো মৃত্যুফাঁদ পাতা উচিত না।

তিনি বলেন, কারেন্ট জাল সবক্ষেত্রেই অবৈধ। গোয়ালন্দ নদী এলাকা হওয়ায় কৃষকরা জেলেদের কাছ থেকে সহজেই পুরনো কারেন্ট জাল সংগ্রহ করতে পারে। এতে কৃষকরা এই পদ্ধতিতে সবজি রক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং উপজেলার অনেক কৃষকই কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন বলে শুনেছি। খোঁজ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা হবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, ক্ষতিকর এ পদ্ধতি ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এরপরও যদি জাল ব্যবহার করতেই হয় তবে তা কারেন্ট জাল অবশ্যই না। বড় ফাঁকাওয়ালা সুতার জাল ব্যবহার করলে তাতে পাখি আটকা পড়বে কিন্তু মরবে না।

এইচআর