দামে হতাশা নিয়েই নড়াইলে বোরোচাষিদের ব্যস্ততা

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

দামে হতাশা নিয়েই নড়াইলে বোরোচাষিদের ব্যস্ততা

আবদুস সাত্তার, নড়াইল ৮:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

দামে হতাশা নিয়েই নড়াইলে বোরোচাষিদের ব্যস্ততা

ধানে উদ্বৃত্ত নড়াইল জেলার চাষিরা বিগত আমন মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত নাম না পাওয়ার হতাশা নিয়েই এখন বোরো ধানচাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, জমি প্রস্তুত ও রোপণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। চলতি মৌসুমে ধানের ন্যায্য দাম পাবেন এমনটাই আশা করছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। গত বছর ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এ বছর অতিরিক্ত ১০ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বোরা আবাদ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছরও জেলায় ধানের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

তবে গত বছর বোরো মৌসুম ও আমন মৌসুমে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশা যেন কাটছে না।

নড়াইল সদর উপজেলার জঙ্গল গ্রামের কৃষক নান্নু শেখ বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম প্রতিমণ মাত্র ৬শ টাকা। কিন্তু ধান লাগানো একজন শ্রমিকের মূল্য ৫০০ টাকা। এছাড়া জমিচাষের জন্য সেচযন্ত্র, পানিসেচ, সারসহ অন্যান্য উপকরণে যে দাম তাতে ধান লাগিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। বাপ-দাদার পেশা এবং অন্য কোনো পেশায় যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় ধান লাগাতে হচ্ছে।’

লোহাগড়া উপজেলার বাড়িভাঙ্গা গ্রামের কৃষক সৈয়দ বুলবুল আলী বলেন, ‘ধানচাষ করে কোনো লাভ নেই। লেখাপড়া জানি না, তাই ডাল-ভাত খাওয়ার জন্যই ধান লাগাতে হয়। ধান লাগানোতে যে খরচ তা কোনোভাবেই উঠছে না। ধানের প্রতিমণ যদি এক হাজার টাকা করা হয় তাহলে বেঁচে থাকা সম্ভব। আমার তিনটি ছেলে, তাদের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের খরচ চালানো খুবই কষ্ট হচ্ছে। বাজারে সব কিছুর দাম বেশি হলেও কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম নেই।’

কৃষক নেতা খন্দকার শওকত বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা দিলেও কৃষকদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা দিলেও প্রকৃত কৃষকরা পাচ্ছেন না। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করলেই কৃষকরা বেঁচে থাকবে। আশা করি কৃষিবান্ধব সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে বোরো ধানের প্রধান শত্রু বিপিএইচ ও ব্লাষ্ট দমন করতে পারলে এ বছরও ধানের বাম্পার ফলন হবে। ধানে উদ্বৃত্ত নড়াইল জেলায় উৎপাদিত ধান এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।’

এইচআর

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও