রংপুরে আলুর ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫

রংপুরে আলুর ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

সুশান্ত ভৌমিক, রংপুর ৫:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০২, ২০১৯

রংপুরে আলুর ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

অন্যতম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রংপুরে শুরু হয়েছে জমি থেকে আগাম জাতের আলু উত্তোলন। চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন, আর ভালো দর পেয়ে উচ্ছ্বসিত এ অঞ্চলের কৃষক।

দরপতন না ঘটলে এবার গত কয়েক বছরের ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াবেন এমনই আশাবাদ কৃষকদের। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি।

আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন।
রংপুর সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্চ, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ আলু চাষিরা আগে ভাগেই দ্রুত বর্ধনশীল জাতের গ্রানোলা, লরা, মিউজিকা, ক্যারেজ, রোমানা ও ফাটা পাকরি চাষ করেছেন।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে দিন দিন। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু ক্ষেতে। আর এরই মধ্যে আগাম জাতের আলু ঘরে তোলার কাজ শুরু করেছেন অনেকেই। কৃষকরা ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন ও বিক্রি শুরু করেছেন।

রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের ইশ্বরপুর কান্ডিপাড়া গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, জমি চাষ, সার, ওষুধ, সেচ, নিড়ানো, বাঁধাইসহ আলু উত্তোলন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে গড়ে ৪৫ হাজার টাকা।

চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু উত্তোলন করে প্রতি শতাংশে ফলন পাওয়া গেছে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ মণ । উত্তোলিত এসব আলু প্রকারভেদে চাষিরা প্রতি মণ আলু বিক্রি করছেন ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা দরে।
এতে প্রতি বিঘায় লাভ হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। পীরগাছা উপজেলার দেউতি গ্রামের সোনা মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গ্রামের গোলাম রব্বানী জানান, এবার তিনি চার বিঘা জমিতে সেভেন জাতের আগাম আলু তুলেছেন। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয় ১৪ হাজার টাকা। চার বিঘা জমির আলু তুলে সব খরচ বাদে লাভ করেছেন ৭৫ হাজার টাকা।

রংপুরের একই উপজেলার বলদিপুকুর গ্রামের হারুন মন্ডল জানান, ৫৭ শতক আলু তুলে ৮৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। আলু ক্ষেতে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে আলু বিক্রি করেছেন ৬২ হাজার টাকা। সব খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা।

পীরগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে আলু ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন, কাউনিয়া উপজেলার হাতেম মিয়া ও বদরগঞ্জ উপজেলার মান্নান মন্ডল জানান, বর্তমানে জাতভেদে আলু ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে কেনা-বেচা হচ্ছে। এবার কৃষকরা আলুর ভালো দাম পাবে বলেও মন্তব্য করেন তারা ।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শাহিন আলম জানান, গতবারের তুলনায় এবার আলু ভালো ফলন হয়েছে। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।

এমএ