সমতলে চাষীদের চা চাষ বদলে দিয়েছে জীবনমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫

সমতলে চাষীদের চা চাষ বদলে দিয়েছে জীবনমান

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ১২:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

সমতলে চাষীদের চা চাষ বদলে দিয়েছে জীবনমান

পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চা চাষ। ক্ষুদ্র চাষীদের উদ্যোগে দিন দিন বাড়ছে চায়ের উৎপাদন। এতে বদলে গেছে ক্ষুদ্র চাষীদের জীবন। দেশের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নুতন মাত্রা।

দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়। এখানে সমতল ভুমিতে চা চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে ক্ষুদ্র চা চাষীদের। বাড়ির আনাচে-কানাচে পতিত জমিতে চা চাষ করছেন তারা।

মাত্র কয়েক বছর আগে যে জমিতে কোনো ফসলের চাষ হতো সেই জমিতে এখন একটি পাতা দুটি কুড়ির বাগান। দিনদিন বাড়ছে চা চাষের পরিধি। চায়ের মান ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যে পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।

জানা গেছে, সিলেটের চা বাগানগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে পঞ্চগড়ের চায়ের।

ক্ষুদ্র চা চাষীরা জানান, চা চাষ করে অল্প খরচে বেশি লাভ পাচ্ছেন তারা। তাছাড়া চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যেই খরচ উঠে আসে।

চা চাষীরা বলেন, আরো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

অমরখানা ইউনিয়নের আবালুপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র চা চাষী আবু হানিফা, জয়দুল ইসলাম, আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে আমরা আমাদের নিজ নিজ জমিতে চা চাষ করেছি, বছরে খরচ বাদে অনেক লাভ করতেছি। ছেলেমেয়ের পড়ালেখাসহ বিয়েসাদি দিতে আর কোনো অর্থের অসুবিধা হয় না।

তারা বলেন, তবে সরকারি ভাবে আমাদের কে যদি উপযুক্ত ট্রেনিংসহ কমসুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয় তবে আরো অনেকে চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

একই ইউনিয়নের বড়কামাত গ্রামের চা চাষী আব্দুল গনি.  রহিম উদ্দিন বলেন, চা চাষে এতো লাভ আগে জানি নাই। চা চাষে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

পঞ্চগড়ে নর্দান চা কারখানা ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পঞ্চগড়ের চা চাষীরা নিজেদের উদ্যোগেই ব্যাপক চা চাষ শুরু করেছে। সিলেটের চা বাগানগুলো এখন বয়সের চাপে রুগ্ন হতে চলেছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়ের বাগানগুলোতে উৎপাদন ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়াতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এই জেলায় চা বিদেশে রপ্তানী করে বিপুল রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। তবে এর জন্য দরকার সরকারি পৃষ্টপোষকতা

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিগত ২০১৭ সালে এই জেলায় লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ চা উৎপাদিত হয়েছে।

তিনি বলেন, পঞ্চগড় জেলায় নতুন পুরোনো ১২টি চা কারখানা থেকে ৫৪ লক্ষ ৪৬ হাজার কেজি চা ঊৎপাদন হযেছে। এবছরও জেলায় বিপুল পরিমাণ চা উৎপাদনের প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, পঞ্চগড় জেলায় এপর্যন্ত ২২শত হেক্টর জমিতে চা আবাদ সম্প্রসারণ হয়েছে। আগামীতে এসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার চা চাষী আছে। এরমধ্যে ৮১২ জন চা চাষীকে চা বোর্ড নিবন্ধনের আওতায় এনেছে।

পঞ্চগড় জেলায় বৃহৎ নয়টি বাগানসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রায় ৪০০০ বাগান রয়েছে।

পঞ্চগড় জেলায় ২২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার লাইসেন্স প্রদান করা হলেও কারখানা স্থাপিত হয়েছে মাত্র ১১টি। এসব কারখানা চাষীদের কাছ থেকে সবুজ চা পাতা কিনে তা থেকে চা তৈরি (মেড টি) করে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল পঞ্চগড় জেলা, এই চা চাষকে আরো ত্বরান্বিত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন- এমন প্রত্যাশা চা চাষী এবং চা সংশ্লিষ্টদের।

এসবি