সৌদিতে ‘কৃষি শ্রমিক’, দেশে সফল উদ্যোক্তা

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

সৌদিতে ‘কৃষি শ্রমিক’, দেশে সফল উদ্যোক্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৩:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

সৌদিতে ‘কৃষি শ্রমিক’, দেশে সফল উদ্যোক্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কয়েক বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন জাকির হোসেন। অপর দিকে বিদেশ যেতে আগ্রহী লোকদের নিজের গড়া কৃষি খামারে কর্মসংস্থান করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

জেলার সদর উপজেলার মজলিশপুরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার জাকির হোসেন। জীবিকার তাগিদে চলে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে গিয়ে পান কৃষি শ্রমিকের কাজ। ৮ বছর কৃষি শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেন সৌদি আরবে। সে সময় ভাবেন সৌদির মাটি থেকে বাংলাদেশের মাটি উর্বর ও বিভিন্ন সবজি চাষ উপযোগী। এখানে যে পরিশ্রম তা যদি দেশে করা যায় তাহলে নিজেও স্বাবলম্বী হওয়া যাবে অপরদিকে বিদেশগামী বেকার লোকদেরও দেশেই কর্মসংস্থান করা যাবে।

এই উৎসাহ নিয়ে ২০১১ সাল থেকে  জাকির ২ লক্ষ টাকা পুঁজিতে এগ্রিকালচার ফার্ম করে গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষ শুরু করেন। চাষ শুরু করেন টমেটো, লাউ, ঢেড়স, কাকরোল, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, করলা, শীতকালে সিম, ফুল কপি,বাঁধাকপি, গাজর, মুলাসহ নানান সবজি।

তার ফার্মে মূলত বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে টমেটো। প্রথমে লোকসান হলেও এখন ২২বিঘা জমিতে সবজির চাষ করে মাসিক ২ লক্ষ টাকা আয় ও দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় করে তার যে মুনাফা তা দিয়ে বর্তমানে মূলধন ১৫ লক্ষ টাকা। প্রতিদিন ৩০/৪০জন শ্রমিক কাজ করছেন তার ফার্মে। তারাও পরিবার পরিজন নিয়ে খুশি।

নিজ এলাকায় সবজি চাষে সফলতা পাওয়ায় পার্শ্ববর্তীতে সরাইল জেলার কালিকচ্ছে চারবিঘা জমি লিজ নিয়ে বারি-৮ টমেটো চাষ শুরু করেন তিনি। এর পাশেই করছেন লাউয়ের চাষ। এতেও বাম্পার ফলন পেয়েছেন জাকির। এ বছর ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করে টমেটো চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হবেন তিনি। এখন প্রতিদিন স্থানীয় বাজার ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পাইকারদের কাছে অসময়ের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় কেজি দরে বিক্রি করায় অধিক মুনাফা হচ্ছেন।

প্রতিদিন তার খামারে ৩০/৪০ জন শ্রমিক  কাজ করছেন। তারাও  পরিবার পরিজন নিয়ে খুশি। এখন প্রতিদিন ৫মন টমেটো ও ২/৩ শত লাউ সহ অন্যান্য সবজি বিক্রি হলেও শীতের সবজি উৎপাদন হলে তখন আয় আরও বাড়বে। কৃষি বিভাগের লোকজন তাকে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন। তার প্রকল্পটি দেখে এলাকার অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের লোকজন তাকে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন। তার প্রকল্পটি দেখে এলাকার অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। সহায়তা হিসেবে এবছরই কৃষি বিভাগ ৩০ হাজার টাকার কপির বীজ চারা প্রদান করেছে। সম্প্রতি চীনা একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটি পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়ে তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।  

কৃষক জাকির হোসেন বলেন, সৌদি আরবে থাকাকালীন আমার ভাবনা ছিল দেশে এসে কৃষি খামার করব। আমার বিশ্বাস ছিল, যদি সৌদির বালি মাটিতে কাজ করে আমরা সবজি উৎপাদন করতে পারি তাহলে কেন বাংলাদেশের উর্বর মাটিতে সবজি উৎপাদন করতে পারব না। এই ভাবনা থেকে দেশে ফিরে কৃষি খামার করেছি। উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির কদর বেশি থাকায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার পাচ্ছি। 

খামারে কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, আমরা এখানে কাজ করে ভালো আছি। মাসে ১০/১২ হাজার টাকা বেতন পাই।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিভাগ উপ-পরিচালক মো. আবু নাসের জানান, বারি-৮ টমেটো চাষে আমরা সকল ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সহায়তা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে জাকির হোসেনের প্রকল্পের জন্য পরামর্শ ছাড়াও বীজ সার সহ নানাভাবে আমরা সহায়তা করছি।

জাকির হোসেনের মতো অন্যরাও এমনি প্রকল্প নিয়ে কাজ করে স্বাবলম্বী হবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশকে স্বনির্ভর করতে এগিয়ে আসবেন এমনটিই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এএইচআর/বিএইচ/