শংকর জাতের গাভী পালনে সাবলম্বী যশোরের খামারিরা

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

শংকর জাতের গাভী পালনে সাবলম্বী যশোরের খামারিরা

যশোর ব্যুরো ৩:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

শংকর জাতের গাভী পালনে সাবলম্বী যশোরের খামারিরা

চারটি গাভী প্রতিদিন ২২-২৩ লিটার দুধ দিচ্ছে। সেই দুধ বিক্রির টাকায় সংসার চলে রেবেকা খাতুনের। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে গাভী পালন করছেন তিনি। ১৪ বছর হলো স্বামী মারা গেছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন গাভী পালন। উন্নত জাতের গাভী পালন করে সাবলম্বী হয়েছেন যশোর সদর উপজেলার মোবারককাটি গ্রামের রেবেকা খাতুন (৫০)।

শংকর জাতের গাভী পালন করে প্রতিদিন দুধ উৎপাদন করছেন। ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রির টাকায় রেবেকা খাতুনের সংসার চলছে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। চার শতক জমিও কিনেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা এসডিআই’র ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রোডাকশন ফর ইম্প্রভড নিউট্রিশন প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে রেবেকা খাতুনও তার গাভীর বাছুর নিয়ে আসেন। ২৪জন খামারি শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শন করেন।

রেবেকা খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার একমাত্র উপার্জন গরু পালন। প্রতিদিনের দুধ বিক্রির টাকায় চলে আমার সংসার।

প্রদর্শনীতে আসা আরেক খামারি সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের চারটি বাছুর পালন করছি। দুটোর দাম ১ লাখ টাকা উঠেছে। বাকি দুটো ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করিনি। পালন করছি। ৫ বছর আগে ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি বকনা(মেয়ে) বাছুর কিনেছিলাম। সেই বাছুর গাভী হয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি বাছুর দিয়েছে। গাভী প্রতিদিন ১৫ লিটার দুধ দিচ্ছে। ৫০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করি। দুধ বিক্রির টাকায় সংসার চলছে।

যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল ওহাব বলেন, চার বছর আগে দুটো বকনা বাছুর ত্রিশ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। এ পর্যন্ত দেড় লাখ টাকার বাছুর বিক্রি করেছি। দুটো গাভী বর্তমানে ১০ কেজি দুধ দেয়। উন্নত জাতের বাছুর পালন করে লাভ হয়েছে।

শুধু রেবেকা খাতুন, আতিয়ার রহমান কিংবা আবদুল ওহাব নন। তাদের মতো অনেকে শংকর জাতের বাছুর পালন করে দুধ ও মাংস উৎপাদন করছে। এতে যেমন তারা সাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উন্নত জাতের গবাদি পশু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করতে যশোর শহরের শংকরপুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে শংকর জাতের বাছুর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক কল্যাণ কুমার ফৌজদার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসডিআই’র ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রোডাকশন ফর ইম্প্রভড নিউট্রিশন প্রকল্পর চিফ অফ পার্টি মুহাম্মদ নুরুল আমিন সিদ্দিকী। প্রদর্শনীতে যশোর সদরের ২৪জন খামারি অংশ নেন। সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার বলেন, খামারিদের উন্নত জাতের বাছুর পালনে উদ্বুদ্ধকরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারাই অংশ হিসেবে বাছুর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। মূলত খামারিদের সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাণিজ আমিষের (দুধ ও মাংস) উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি খামারিরা যেন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আগ্রহী ও সক্ষম হয় সেই লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে।

আইআর/বিএইচ/