নওগাঁয় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নওগাঁয় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৮

নওগাঁয় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

আষাঢ়ে তেমন বৃষ্টি হয়নি, ছিল তীব্র খরা। শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহেও দেখা মেলেনি বৃষ্টির। আমন রোপণের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টির অপেক্ষায় অলস সময় কাটানো কৃষকেরা আমন চাষ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হয় শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

শ্রাবণ ধারায় স্বস্তি ফিরে এসেছে কৃষকদের মাঝে। ফসলের মাঠগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমন মৌসুমের শেষ সময়ে গত ২৩ জুলাই (সোমবার) থেকে বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় খেতে হাল চাষ দেওয়া ও চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে চারা রোপণে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীর (উফশী) জাতের ধান ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২২ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষক গভীর-অগভীর নলকূপ চালু করে ক্ষেতে সেচ দিয়ে হাল চাষ করেছেন। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার অনেক এলাকায় সেচ সুবিধার সুযোগ না থাকায় কৃষি জমির মাঠ অনাবাদি পড়ে ছিল। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এসব জমিতে হাল চাষ ও চারা রোপণ করতে শুরু করেছেন চাষিরা। 

পত্নীতলা কৃষক মনজুর এলাহী ও আব্দুস ছালাম মন্ডল জানান, কৃষি জমির মাঠ পানি থৈ থৈ করছে। মাঠগুলোতে ক্ষেতে হাল চাষ ও চারা রোপণ কাজ চলছে। তবে চাহিদা মতো শ্রমিক না পাওয়ায় কাজ চলছে ধীরগতিতে।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্রাবণের আকাশে ঘটেছে মেঘের ঘনঘটা। গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শ্রাবণের ধারা। জমিতে বেঁধেছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানি। আর এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

পোরশা উপজেলার গাংগুরিয়া, ছাওড় ও নিতপুর এবং নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ও শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানান, তাদের এলাকায় চাষিরা পুরোপুরি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কারণ এ এলাকায় গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি ছাড়া তারা বোরো আবাদ করতে পারেন না। ফলে বৃষ্টি নির্ভর আমন আবাদ করেই তারা সারাবছর জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ক্ষেতে হাল চাষ করতে পারছিলেন না। মৌসুম শেষ হতে চললেও বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তারা।

তবে কয়েক দিনের পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে তারা। তবে একসঙ্গে সবাই ক্ষেতে হাল চাষ ও চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, এত দিন শ্রমিকেরা বসে ছিল। হঠাৎ অনেক প্রতীক্ষার বৃষ্টি হওয়ায় সবাই এক সঙ্গে রোপা আমন চারা লাগাতে শুরু করায় হাল (কলের লাঙ্গল) ও কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। ৩০০ টাকায় যে শ্রমিক পাওয়া যেত তাকে এখন ৩৫০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না।  

নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের দামপুরা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এতদিন বৃষ্টির জন্য আকাশের জন্য তাকিয়ে ছিলাম। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় পাওয়ার ট্রিলার (কলের লাঙ্গল) দিয়ে জমিতে হাল দিয়ে চারা রোপণের জন্য সাত বিঘা জমি একসঙ্গে প্রস্তুত করেছি। বীজতলা চারা তোলা ও খেতে চারা রোপণের জন্য আমার অন্তত ১৫ জন শ্রমিক দরকার। কিন্তু মাত্র পাঁচজন শ্রমিক পেয়েছি। বাধ্য হয়ে ধীর গতিতে চারা রোপণ করতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলে কৃষকের তা পুষিয়ে যাবে বলে এবং বৃষ্টির অভাবে আমনের চারা রোপণে বিলম্ব হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, এক সঙ্গে সব চাষি চারা লাগাতে শুরু করায় কৃষি-শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে কৃষকদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখনও আমন রোপণের সময় রয়েছে। ভাদ্র মাসের ১০-১২ দিন পর্যন্ত আমন রোপণ করা যাবে। একটু ধীরগতিতে চারা রোপণ হলেও কৃষকেরা এই সময়ের মধ্যে তাদের ক্ষেতে চারা লাগাতে পারবেন।

বিএআর/বিএইচ/