পাটে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

পাটে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

নাটোর প্রতিনিধি ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৮

print
পাটে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

নাটোরের লালপুরে শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের অধিক মজুরি, উৎপাদিত পাটের চাহিদা ও বাজার দর কম হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল ‘সোনালী আঁশ’ নামে খ্যাত পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক।

গত বছর এ উপজেলায় ৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হলেও চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ হেক্টর কম জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, লালপুর উপজেলায় চলতি বছরে ৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। তবে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার হেক্টর জমির পাট অতিবৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও যে সকল জমিতে পাট আছে তাও আশানুরূপ ভালো হয়নি বলে জানান কৃষি বিভাগ।

উপজেলার দেলুয়া গ্রামের পাটচাষি আমজাদ হোসেন ও ওয়ালিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, 'পাট অন্যতম অর্থকরী ফসল যা বর্তমানে উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের অধিক খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে পাটের তেমন চাহিদা ও সঠিক দাম আমরা পাচ্ছিনা। ফলে দিনদিন এখানকার কৃষকরা পাটচাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।'

স্থানীয় পাটচাষিরা বলেন, 'গত বছর উৎপাদিত পাট শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষকের পাট পানিতে পচে গেছে। তাছাড়াও অধিক মজুরি দিয়ে অনেক কৃষক পাট প্রক্রিয়াজাত করণের পরে পাটের চাহিদা ও সঠিক দাম না থাকায় পাট বাজারে বিক্রয় করে অনেক কৃষকের উৎপাদন খরচও হয়নি। এতে উপজেলার অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ বছর অনেক কৃষকই পাটের চাষ ছেড়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। তবে পাটের চাহিদা ও সঠিক দাম পেলে এ অঞ্চলে আবারো পাটের চাষ হবে বলে জানান তারা।'

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খাঁন বলেন, ‘উৎপাদিত পাট কৃষকের ঘরে তুলতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের সংকট ও শ্রমিকের অধিক মজুরি এবং পাটের বাজার দর কম হওয়ার কারণে গত বছর এ উপজেলায় পাটের ভালো উৎপাদন হওয়ার পরেও অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। এছাড়াও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে  এ বছর যে সকল জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল তার বেশির ভাগ জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে।’

তবে তৃণমূল চাষি পর্যায়ে সঠিক দাম ও বাজারে পাটের চাহিদা এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পাট ফিরে পাবে তার ঐতিহ্য এমনটিই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কেকে/আরজি

 
.


আলোচিত সংবাদ