সাতক্ষীরায় পাটক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

সাতক্ষীরায় পাটক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১২:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

সাতক্ষীরায় পাটক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রচণ্ড তাপদাহ ও পানির অভাবে জেলার পাট চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। পাটক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতের বেশির ভাগ অংশে পাট মারা যাচ্ছে ও পাতা কুকড়িয়ে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৪ বেল।

এর মধ্যে সদর উপজেলার চার হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৩৩ বেল।

কলারোয়া উপজেলার চার হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৬৮ বেল। তালা উপজেলার তিন হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার ৯২৮ বেল, দেবহাটা উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ১৩ বেল, কালিগঞ্জ উপজেলার ১৭০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৯১৩ বেল, আশাশুনি উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ১৩ বেল ও শ্যামনগর উপজেলার পাঁচ হেক্টর জমিতে ৫৬ বেল পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৬-১৭ খরিপ-১ এ জেলাতে ১১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ২৭ হাজার ৯৩০ বেল পাট উৎপাদন হয়েছিল। যার মধ্যে সদর উপজেলার চার হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ৫২ হাজার ৫৮০ বেল, কলারোয়া উপজেলার তিন হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার ৯৯০ বেল, তালা উপজেলার তিন হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ৮৫০ বেল, দেবহাটা উপজেলার ১০৪ হেক্টর জমিতে এক হাজার ১৪০ বেল, কালিগঞ্জ উপজেলার ১৮৫ হেক্টর জমিতে দুই হাজার ৩৫ বেল, আশাশুনি উপজেলার ১২০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৩২০ বেল ও শ্যামনগর উপজেলার এক হেক্টর জমিতে ১১ বেল পাট উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসব জমির অধিকাংশতেই আবাদ করা হয়েছে তোষা জাতের পাট।

জেলার কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের ভেজাল বীজ, প্রাকৃতির বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে জেলায় পাটের এমন অবস্থা।

সাতক্ষীরা সদরের কৃষক আমিনুর রহমান জানান, পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পাট গাছের আগা শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাটক্ষেত পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ পাটক্ষেত হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। জেলায় এবার কৃষকের কয়েক’শ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছে পাট চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, জেলায় খুব ভালোমানের পাট উৎপাদন হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে, কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

আইকে/বিএইচ/