কুড়িগ্রামে কাঁঠালবাড়ী এখন কলার হাট!

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫

কুড়িগ্রামে কাঁঠালবাড়ী এখন কলার হাট!

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৬, ২০১৮

print
কুড়িগ্রামে কাঁঠালবাড়ী এখন কলার হাট!

কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য কলা বিক্রির হাট বসেছে কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী হাটে। এক সময় এখানে কাঁঠালের বৃহৎ হাট বসলেও সেই ঐতিহ্যটি আর তেমন দেখা যাচ্ছে না। এই জায়গাটির আশপাশে বিপুল সংখ্যক কাঁঠালের গাছ সারিবদ্ধভাবে থাকায় এর নামকরণ হয় কাঁঠালবাড়ী।

কিন্তু জায়গাটিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উন্নয়নমূখী করতে কাঁঠাল গাছগুলো প্রয়োজনের তাগিদে ধীরে ধীরে কেটে ফেলায় এখানে তুলনামূলকভাবে কমে যায় কাঁঠালের গাছ। কিছু যথসামান্য গাছ থাকলেও আজ তা যেন শুধুই স্মৃতি।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু এখানকার ঐতিহ্যের কাঁঠালকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে কাঁঠালবাড়ী বহুমূখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ডালিভর্তি কাঁঠালের মুর‌্যাল তৈরি করেছেন। সেটি অনেকটা স্মৃতিতে দর্শনীয় হয়ে আছে।

তবে এখানকার কাঁঠালের ঐতিহ্যটি এখন দখল করে নিয়েছে কলা। কাঁঠালবাড়ী হাটে এখন প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা কেনাবেচা হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের কাঁচা কলা। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য জাত হচ্ছে মালভোগ ও বিচি কলা (আটিয়া), চিনি চাম্পা, ছাবা কলা।

স্থানীয় কলা চাষীসহ উলিপুর, চিলমারী, লালমনিরহাটের বড়বাড়ীর কলাচাষীরা ছাড়াও, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীরা কাঁঠালবাড়ী হাটে সপ্তাহে দুইদিন কলা কেনাবেচার জন্য আসেন।

কলার চাহিদা ভালো হওয়ায় কাঁঠালবাড়ীতে আসা কৃষক ও কলা ব্যবসায়ীরা উভয়েই কলায় লাভের মুখ দেখছেন। এখানে কাঁচা একহালি বিচি কলা (আটিয়া) বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২৫ টাকায়। ওই কলা ব্যবসায়ীরা কিনে পাকিয়ে তা বিক্রি করছেন প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। মালভোগ কাঁচা কলার বাজারও প্রায় একই রকম।

এখানে গড়ে প্রতিহালি মালভোগ কলা কৃষকের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনে ব্যবসায়ীরা তা পাকিয়ে প্রতিহালি বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

কাঁঠালবাড়ীতে কলা বেচতে আসা লালমনিরহাটের বড়বাড়ী পঞ্চগ্রামের বিচি কলা (আটিয়া) বিক্রেতা রহুল আমিন (৪৭) পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাঁচা বিচি কলা (আটিয়া) কিনে কাঁঠালবাড়ী হাটে প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে তার কলা বিক্রিতে লাভ হচ্ছে।

কলার পাইকার চিলমারী উপজেলার রমনা গ্রামের সোলেমান হক (৬২) জানান, রমজান মাসে বিচি কলার (আটিয়া) চাহিদা বেশি। এজন্য তিনি প্রতিহালি কাঁচা কলা ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনে তা পাকিয়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় প্রতিহালি বিক্রি করছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হোলাখানা গ্রামের কলাচাষী বাদশা মিয়া (৫২) জানান, তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মালভোগ কলার গাছ থেকে কলা উৎপাদান করে তা বাজারে বিক্রি করছেন। এই কলা বিক্রির টাকায় তার ২ ছেলে, ২ মেয়ের লোখাপড়ার খরচসহ পরিবারের ৬ সদস্যের সংসার চালছে। এর মধ্যে এক ছেলে ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে বলে জানান তিনি।

ভোলাকোপা গ্রামের কলাচাষী যুবক রুবেল মিয়া (২৮) জানান, গতবারের বন্যার কারণে চরাঞ্চলে চাষকৃত জমিগুলোতে কলাচাষে ধ্বস নামে। এ কারণে এবার তুলনামূলকভাবে কলার ফলন কমে যায়। তার প্রায় ৪ একর জমির কলার ফলন তেমন হয়নি বলে জানান তিনি। এ অবস্থা বিরাজ করায় আমদানি কমে বাজারে কলার চাহিদা বেড়ে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাঁঠালবাড়ী সন্ন্যাশী গ্রামের কলা ব্যবসায়ী নুরুন্নবী মিয়া (৩৭) জানান, কাঁঠালবাড়ী বাজারে কলারহাট ভালো হলেও এখানে হাট ইজারার মূল্য বৃদ্ধিতে কলা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়কে খাজনা বেশি দিতে হচ্ছে। এখানে এক ছড়ি বা (পিড়) প্রতি কলার খাজনা দিতে হয় ৫ টাকা। আবার কলা যানবাহনে উঠাতে এক ছড়ি বা (পিড়) প্রতি কলার রোড খাজনা দিতে হচ্ছে ২ টাকা করে।

এতে করে কাঁঠালবাড়ী বাজারে কলার হাটে ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাড়ছে না। এই হাটে কলার টোল বা খাজনা কম নেয়া হলে কাঁঠালবাড়ীতে কলার হাটে ক্রেতা বিক্রেতা আরও অনেক বাড়তো বলেও জানান তিনি।

এসবি/

 

 
.


আলোচিত সংবাদ