সুখসাগর পিয়াজের দামে খুশি মেহেরপুরের চাষি

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

সুখসাগর পিয়াজের দামে খুশি মেহেরপুরের চাষি

মেহেরপুর প্রতিনিধি ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৮

সুখসাগর পিয়াজের দামে খুশি মেহেরপুরের চাষি

সুখসাগর পিয়াজের একটি জাত। মেহেরপুরের চাষিরা প্রতিবছর পিয়াজ চাষের মৌসুমে তার আবাদ করেন। কিন্তু গত তিন বছর জেলার চাষিরা এই জাতের পিয়াজ আবাদ করে লোকসানের কবলে পড়েছেন। এবার চলতি বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। বাজারে ভালো মূল্য পাওয়ায় সুখসাগর পিয়াজ আবাদ করেই চাষিরা সেই সুখের নাগাল পেয়েছেন। বিঘাপ্রতি পিয়াজ বিক্রি করে তাদের লাভ হচ্ছে ৩০-৪০ হাজার টাকা। এ জাতের পিয়াজ আবাদ বাড়ানো গেলে ও সংরক্ষণ করা হলে দেশে পিয়াজ আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৭৬০ হেক্টর জমিতে সুখসাগর  পিয়াজ আবাদ হয়েছে। তার ফলনও হয়েছে ভালো। বাজার মূল্যও পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট।

স্থানীয় চাষিরা জানান, ২০ বছর আগে ভারতীয় সীমান্ত এলাকার চাষিদের কাছ থেকে বাংলাদেশের কৃষকরা সুখসাগর জাতের এ পিয়াজ বীজ সংগ্রহ করেন। এখন মেহেরপুরের চাষিরা নিজেরাই এ জাতের বীজ উৎপাদন করছেন। পিয়াজের এ জাতটি আমাদের দেশীয় সাধারণ জাতের চেয়ে আকারে অনেক বড়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩৩ শতকের এক বিঘায় এ জাতের পিয়াজের ফলন পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ২০০ মণ।

মুজিবনগর উপজেলার মানিকদিয়া গ্রামের আজির উদ্দীন জানান, চলতি বছরে তিনি দুই বিঘায় সুখসাগর পিয়াজ আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। পিয়াজ তোলার আগেই পাইকারদের কাছে তা বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে পিয়াজ তোলার খরচ সাশ্রয় হয়েছে। দুই বিঘা জমির পিয়াজ বিক্রি করে খরচ বাদে এক লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে।

ভবরপাড়া গ্রামের কৃষক শ্যামল মণ্ডল জানান, তিনি গত বছর এক বিঘা জমিতে এ জাতের পিয়াজ আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান হয় ৩০ হাজার টাকা। এবারও এক বিঘায় পিয়াজ আবাদ করেছেন। লাভ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, এবার ক্ষেত থেকেই প্রতিকেজি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরে দেশীয় জাতের মধ্যে তাহেরপুরী ও সুখসাগর জাতের পিয়াজ আবাদ হয় বেশি। এর মধ্যে সুখসাগর জাতে পিয়াজ আবাদে সেচ খরচ ও রাসায়নিক সার বেশি প্রয়োগ করতে হয়। ফলে আবাদ খরচ বেশি পড়ে। কিন্তু দেশীয় জাতের চেয়ে সুখসাগর জাতে কয়েকগুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু দেশীয় জাতের মতো সুখসাগর জাত দীর্ঘদিন ঘরে রাখা যায় না। দুই তিন মাস পরেই পচন ধরা শুরু হয়। ফলে পিয়াজ তোলার পর পরই তা বিক্রি করতে হয়। এতেও কোনো কোনো বছর লোকসানের মুখে পড়েন চাষিরা। তবে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ জাতের পিয়াজ তোলার পর হিমাগারে সংরক্ষণ করা গেলে আরও ভালো দরে বিক্রি করা সম্ভব হতো। তাছাড়া এ জাতের পিয়াজ আবাদ বাড়ানো গেলে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আখতারুজ্জামান জানান, জেলার কৃষকরা কয়েক বছর ধরে সুখসাগর জাতের পিয়াজ আবাদ করছেন। ফলনও ভালো পাওয়া যায়। এ জাতের পিয়াজের আবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনা করা হচ্ছে।

কেকে/এসএফ