রসালো ফল তরমুজের বিপুল সমাহার কুমিল্লার বাজারে

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

রসালো ফল তরমুজের বিপুল সমাহার কুমিল্লার বাজারে

কুমিল্লা প্রতিনিধি ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৮

রসালো ফল তরমুজের বিপুল সমাহার কুমিল্লার বাজারে

মৌসুমী ফল তরমুজের বিপুল সমাহার ঘটেছে কুমিল্লার বাজারে। চৈত্রের প্রচণ্ড গরমে ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও তুঙ্গে রসালো এ ফলের। কিন্তু আকাশচুম্বী দামের কারণে চাহিদার পাশাপাশি আছে হতাশাও। কুমিল্লার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ২শ’ থেকে শুরু করে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এক একটি তরমুজ। আর অতিরিক্ত দামের কারণে দর কষাকষির পর অনেক ক্রেতাকেই ফিরে যেতে দেখা যায়। তাদের আশা কিছুদিন বাদে হয়তো কমবে উপরে সবুজ; ভেতরে টকটকে লাল মৌসুমী এ রসালো ফলটির দাম।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চকবাজার, টমছমব্রীজ, শাসনগাছা, রাণীর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের তরমুজের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে অন্যান্য ফল বিক্রি বন্ধ রেখে কেবল তরমুজ বিক্রি করতেই দেখা গেছে অনেক ব্যবসায়ীকে।

জানতে চাইলে তারা বলেন, অন্যান্য ফল তো সারা বছরই বিক্রি করা যায়। এখন যেহেতু তরমুজের মৌসুম; সেই সাথে গরমও প্রচণ্ড তাই এ ফলেরই চাহিদা বেশি। আর চাহিদা বেশি হওয়ায় এর বিক্রিও ভালো। লাভও হচ্ছে বেশি।

আর ক্রেতাদের অভিযোগ, স্বাভাবিকের চাইতে একএকটি তরমুজের দাম দ্বিগুণ হাঁকা হচ্ছে। চাহিদা বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেই এর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সন্দেহ পোষণ করছেন তারা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

কথা হয় কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে তরমুজের পসরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। আগে তার দোকানে হরেক রকমের ফল দেখা গেলেও কয়েকদিন যাবত কেবল তরমুজই দেখা যাচ্ছে। গেলো এক সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক তরমুজ বিক্রি করেছেন তিনি। আর এতে করে লাভের পরিমাণও বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই অন্যান্য ফল বিক্রি বাদ দিয়ে কেবল তরমুজের দিকেই ঝুঁকেছেন। সাইফুল জানালেন, গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শ’ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তার দোকানে। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও গোডাউন থেকে প্রতিদিন পাইকারী দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।

চাহিদার কারণেই দাম একটু বেশি বলে জানালেন তিনি। তবে এতে কোনো প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয় না তার। দামের কারণে অনেক ক্রেতা ফিরে গেলেও সাইফুলের দাবি, অনেকে আবার একসাথে দু’তিনটি তরমুজও কিনে নিয়ে যান।

নগরীর প্রধান ফল বাজার রাজগঞ্জে গিয়ে দেখা গেলো ক্রেতাদের ভিড়। বেশির ভাগেরই চাহিদা তরমুজ। সেখানে ফল কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভেবেছিলাম শ’ দেড় শ টাকায় একটা ভালো আকারের তরমুজ পাবো; কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম একেবারে আকাশচুম্বী। আড়াই শ টাকার নিচে তরমুজই নাই। আর ভালো আকারের তরমুজ পেতে তো চার শ পাঁচ শ টাকা লাগবে।’

ভরা মৌসুমে তরমুজের এ অধিক দামে হতাশার পাশাপাশি অনেকটা ক্ষোভও ফুটে উঠলো তার চোখে মুখে।

তারপরও বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের দোকান ঘিরেই ক্রেতাদের ভিড়। চাহিদার সাথে সামর্থ্যের সামঞ্জস্যতা মিলিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মৌসুমী এ ফলটি।

এছাড়াও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক ভ্রাম্যমাণ ক্রেতাও বিক্রি করছেন টুকরো টুকরো তরমুজ। গরমে ক্লান্ত পথচারীরা সেখান থেকে কিনে খাচ্ছেন লাল-সবুজ একফালি টুকরো। চৈতালী দুপুরে তৃষ্ণা নিবারণে এর চেয়ে সুস্বাদু পানীয় আর কী হতে পারে!

জেএস/এসএফ