জমির পোকা দমনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘আলোর ফাঁদ’

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

জমির পোকা দমনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘আলোর ফাঁদ’

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ ৩:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০১৮

জমির পোকা দমনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘আলোর ফাঁদ’

গোপালগঞ্জের কৃষি জমিতে পোকা দমনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘আলোর ফাঁদ’। এ ফাঁদ জমিতে পাতানোর ফলে কৃষকেরা বুঝতে পারছেন কোন জমিতে কি কীটনাশক দিতে হবে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাঁচে, অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। ফলে কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘আলোর ফাঁদ’ পদ্ধতি।

কৃষিনির্ভর গোপালগঞ্জে প্রতিবছর কৃষকেরা ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে থাকে। কিন্তু, বিভিন্ন পোকার আক্রমণে প্রতি বছরই কৃষকদের ফসল উৎপাদন অনেকটা কমে যায়। ফলে পোকা দমনের জন্য বাড়তি খরচ করে ক্ষেতে না বুঝে নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

কৃষকদের কথা বিবেচনা করে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন জমিতে বসানো হয়েছে ‘আলোর ফাঁদ’। এতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা চিহ্নিত করে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করছেন ওই ফসলে।

সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক মো. রেজাউল ইসলাম, আসলাম শরীফ এবং চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মনির মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘আলোর ফাঁদ’- এর কারণে আমরা আমাদের ফসলি জমিতে পোকার ধরন চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট কীটনাশক প্রয়োগ করেই পুরো ক্ষেত আক্রমণ করার আগেই ফসলের পোকা দমন করতে পারছি। ফলে বাড়তি খরচের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি আমরা। এই পদ্ধতি সারা জেলায় কৃষকদেরকে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করে ছড়িয়ে দিলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। সেই সাথে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. লিয়াকত হোসেন জানান, জমির পাশেই একটি পাত্রে পানির মধ্যে কেরোসিন ঢেলে অথবা সাবানের ফেনা তৈরি করে তার এক ফিট উপরে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পোকা-মাকড় আলোর কাছে এসেই পানিতে পড়ে আর উঠতে পারে না। আমরা মরে যাওয়া বা পানিতে পড়া পোকা-মাকড় দেখেই বুঝতে পারি জমির এলাকায় কি ধরনের পোকা-মাকড় আক্রমণ করেছে।

সে অনুযায়ী জমিতে কি ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে তা কৃষকেদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে কৃষকেরা একাধিক কীটনাশক ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট জমিতে নির্দিষ্ট কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ যেমন কম পড়ছে, আবার অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কম।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০৮টি ব্লকে ২ হাজার ৭শ’ টি ‘আলোর ফাঁদ’ পাতানো হয়েছে।

জমিতে ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার করায় ফসলে কি ধরনের কীটনাশক এবং কি পরিমাণ কীটনাশক দেয়া দরকার তা কৃষকেরা বুঝতে পারে। সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে কম কীটনাশক ব্যবহার করে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকেরা। এমন কি অনেক উপকারী পোকামাকড় অস্তিত্ব সঙ্কটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। ফলে দিন দিন কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

পরিবেশ ঠিক রাখতে ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে ‘আলোর ফাঁদ’ জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে এমনটিই প্রত্যাশা জেলার কৃষকদের।

এমএইচএম/বিএইচ/

 

কৃষি ও খাদ্য: আরও পড়ুন

আরও