আলুর বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষকরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

আলুর বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষকরা

সুশান্ত ভৌমিক, রংপুর ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

আলুর বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষকরা

রংপুর নগরীসহ বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে চলতি বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ব্যাপক হারে আলুর চাষ করছে। কিন্তু আলুর ক্ষেতে ঘাম ঝরা পরিশ্রম করলেও ন্যায্য দাম থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। দাম না থাকায় আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক ও চাষিরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ২৭৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৫ হাজার ৩৮৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ২৩১ হেক্টর, নীলফামারীতে ২২ হাজার ২৭০ হেক্টর ও গাইবান্ধায় ৭ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কৃষকরা ওই সব জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে।

রংপুর মহানগরীর তামপাটসহ পার্শ্ববর্তী পারুল, পায়রাবন্দ, কল্যাণী, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, সারাই, পীরগাছা, দেউতি, মাছহাড়ি, মীরবাগ, সাতদরগা, ইটাকুমারি এলাকার মানুষ সাধারণত রবি শস্যের উপর নির্ভরশীল। তাই গত বছরের চেয়ে এবছরেও ব্যাপক হারে আলুর চাষ করেছে।

সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর উত্তম হাজিরহাট, তপোধন, কেরানীহাট, শ্যামপুর, পালিচড়া, তামপাট দুলাল মুন্সিরপাড়া, বকচি, মীরগঞ্জ, কাইদাহারা, রঘু, দেউতি, নব্দীগঞ্জ, পায়রাবন্দসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ বছর কোনো জমি পতিত নেই বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা আলুর ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিলেও ভালো দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বেশির ভাগ কৃষক ধার-দেনা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আলুর আবাদ করেছে। ইতোমধ্যে আলুর ফসল কৃষকরা ঘরে তুলছেন।

রংপুরের দেউতি পারুল নদীরপাড়ের কৃষক ফুল মিয়া ও শাহ আলম বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সঠিক দাম না থাকায় দুশ্চিন্তায় আছি। যদি দাম না বাড়ে তাহলে মাঠে মারা যাবো। অনেক লোকসান হবে। কারণ ধার-দেনা করে আলু চাষ করেছি।

একই কথা জানালেন রংপুর সদরের জানকি ধাপেরহাট রামজীবন এলাকার মনজুরুল ইসলাম ও পীরগাছার হাউদারপাড়ের কৃষক মনজু মিয়া।

রংপুর মহানগরীর আরাজী তামপাট দুলাল মুন্সির বাড়ি এলাকার কৃষক আশরাফুল আলম নেতা জানান, প্রায় ৪ দোন জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি দোন (২৪ শতক) আলুর জমিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি দোনে আলুর ফলন কমপক্ষে ৮০ উপরে ১২০ মণ পর্যন্ত আসে।

তিনি আরো জানান, সরকার যদি আলু বিদেশে রফতানি করার সুযোগ করে দেয় তাহলে আলু চাষিদের লোকসান গুনতে হবে না।

একই কথা জানালেন আজিজুল্লাহ রঘু ও মেকুড়া, হোসেন নগর, তালুক তামপাট এলাকার কৃষক তপন কুমার রায়, রফিকুল ইসলাম ও রাজু মিয়াসহ অনেকেই।

অন্যদিকে সাতমাথা বালাটারি এলাকার কৃষক আফজাল পাটোয়ারি জানান, আমরা অনেক পরিশ্রম করে আলুর আবাদ করেছি। তাই এ বছর ফলনও ভালোই হয়েছে।  কিন্তু আলুর দাম না থাকায় এবছর কৃষকের লোকসান গুনতে হবে। যেসব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই তারা মানুষের জমি লিজ নিয়ে আলুর আবাদ করেছে। যদি আলুর দাম না বাড়ে তাহলে শতাধিক কৃষকের কপানে দুঃখ আছে।

অন্যদিকে একই এলাকার কৃষক ইসরাফিল মিয়া বলেন, আমাদের একমাত্র ভরসা সরকার। যদি সরকার যেভাবে কৃষকের ধানের দাম বাড়িয়েছে, সেভাবে যদি সরকার আলুর মূল্য বৃদ্ধি করতো তাহলে আমাদের মতো কৃষকের লোকসান গুনতে হত না।

এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম বলেন, চলতি রংপুর জেলাসহ রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ৯২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

এ বছর কৃষকরা উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল আলুর বীজ এস্টোরিজ, কার্টিনাল, বগুরিয়া, স্টিক, ক্যারেজ বেশি পরিমাণে আবাদ করেছেন।

এসভি/বিএইচ/