বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের কৃষাণ-কৃষাণীরা (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের কৃষাণ-কৃষাণীরা (ভিডিও)

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ১২:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৮

print

ইরি-বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের কৃষাণ-কৃষাণীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কাঙ্খিত ফলনের আশায় জমি প্রস্তুত-চারা উঠোনো ও রোপণ করছেন তারা।

ইরি-বোরো মৌসুম শুরু হওয়া এ অঞ্চলের কৃষাণ-কৃষাণীদের দম ফেলানোর ফুরসত নেই। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সবাই কাজে ব্যস্ত। কৃষাণীরা বীজতলা থেকে চারা তুলছে। আর কৃষকরা জমি থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে হাল-চাষ করছেন। অনেক কৃষক জমিতে চারা রোপণ করছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মণ ধান ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এবার চলতি বছরে সিরাজগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। জেলায় ইরি- বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষাণ-কৃষাণীরা।

বসে নেই দিনমজুর শ্রমিকরাও। চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এবারের প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কিন্তু কৃষকরা মাঠে সোনার ফসল ফলাতে নেই স্থবিরতা। হাড় কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপক্ষো করে ভোর থেকে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।

ছোনগাছা গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন জানান, এবার প্রচণ্ড শীত ও ঘন-কুয়াশায় ঢাকা। তবে শীতের ভয়ে বসে থাকলে চলবে কি চলবে। পরিবার সদস্যদের পেটে ভাত জুটবে কীভাবে। মাঠের পর মাঠ ফসল ফলাতে হবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে কিছুদিন পরেই মাঠের পর মাঠ হয়ে যাবে সবুজ আর সবুজ।

তাড়াশের কৃষক আবু মুসা শেখ বলেন, ইরি-বোরো মৌসুমে সার কীটনাশক ন্যায্যমূল্য ও সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে ইরি-বোরোতে বাম্পার ফলন হবে আশা করছি।

ঘন ঘন লোড শেডিং আর সারের মূল্য যদি বৃদ্ধি না হয় তাহলে আশানুরূপ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

কৃষক ইমান আলী বলেন, প্রতি ১ বিঘা জমির বীজ কিনতে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা লেগে যাচ্ছে। এ বছর পর পর দুই দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চাষের খরচ যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলাগুলো কিছুটা নষ্ট হয়েছে। শীত কেটে যাচ্ছে।

এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে আশা করি।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আরশেদ আলী জানান, চলতি বছরে সিরাজগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ, সুষম ও সার ব্যবহার, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, ভিজানো শুকানো পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব ফসল উৎপাদনসহ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শস্য উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানালেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

একে/বিএইচ/

 
.


আলোচিত সংবাদ