গদিচ্যুত বশির গৃহবন্দি, বহু নেতা আটক

ঢাকা, ১৬ মে, ২০১৯ | 2 0 1

গদিচ্যুত বশির গৃহবন্দি, বহু নেতা আটক

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৯

গদিচ্যুত বশির গৃহবন্দি, বহু নেতা আটক

নিজের সরকারি বাসভবনে সুদানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ‘গৃহবন্দি’ করে রেখেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদুলু।

এতে বলা হয়েছে, ওমর আল-বশির এখন গৃহবন্দি এবং তার দেহরক্ষীদের আটক করা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে সুদানের সূত্র জানিয়েছে, ওমর আল-বশির তার সরকারি বাসভবনেই রয়েছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

দেশটির বিরোধী দল উম্মা পার্টির প্রধানের ছেলে সাদিক আল-মাহাদী হাদাত টিভিকে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী মুসলিম ব্রাদারহুডের’ বেশ কয়েকজন নেতাসহ ওমর আল-বশিরকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

এর আগে সুদানের সরকারি ও সেনাসূত্র নিশ্চিত করেছে, ৭৫ বছর বয়সী ওমর আল-বশির বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সেনাবাহিনী ওমর আল-বশিরকে সরানো ছাড়াও দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি— টানা জনবিক্ষোভের পর সেনাবাহিনীর চাপে ওমর আল-বশির পদত্যাগ করেছেন।’

এর আগেই অবশ্য সুদানের রাষ্ট্রীয় টিভি এবং রেডিওতে ঘোষণা করা হয়, শিগগিরই সেনাবাহিনী একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি’ দিবেন, অপেক্ষা করুন।

এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী সেই ঘোষণা না দিলেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা ওমর আল-বশিরের ৩০ বছরের একনায়কতন্ত্রের অবসানে রাজধানী খার্তুমে উল্লাস করছেন।

ওমর আল-বশিরকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি তার ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীকেও আটক করেছে সেনাগোয়েন্দা সংস্থা।

এদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল রহিম মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলী ওসমান ত্বহা এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান আহমেদ হারুনের মতো নেতারাও রয়েছেন।

সুদানের রাষ্ট্রীয় টিভি ভবনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ওমদুরমানে ওই ভবনটির ভেতরেও প্রবেশ করেছেন অনেক সৈন্য।

খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে, অবতরণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

রাষ্ট্রীয় টিভি ও রেডিওতে দেশাত্মকবোধক গান প্রচার করা হচ্ছে, যেমনটি গণবিক্ষোভের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিলে করা হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং সেতুতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন ওমর আল-বশির। কিন্তু, গত কয়েক মাস ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছিল। তিন দশকের ক্ষমতার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট বশির এই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রাজধানী খার্তুমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাকালে সেনা সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। গত ৬ এপ্রিল থেকে ওই সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ৬ সদস্যও ছিলেন।

গতকাল বুধবার সেনা সদরদফতরের সামনে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান আরও বাড়ে। সেখানে তারা টানা পঞ্চম দিনের মতো ওমর আল-বশিদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

আইএম

আরও পড়ুন...
৩০ বছর পর সেনা হস্তক্ষেপে গদিচ্যুত বশির

 

আফ্রিকা: আরও পড়ুন

আরও