ঐতিহাসিক বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে আলজেরীয় নেতা বুতেফ্লিকা

ঢাকা, ৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ঐতিহাসিক বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে আলজেরীয় নেতা বুতেফ্লিকা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৯

ঐতিহাসিক বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে আলজেরীয় নেতা বুতেফ্লিকা

গ্যাস সমৃ্দ্ধ আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ঐতিহাসিক বিক্ষোভ চলছে গত কিছু দিন ধরে। দেশটির স্বাধীনতার পর এটিকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে অংশগ্রহণ রয়েছে দেশটির তরুণ সমাজের বড় একটা অংশের। যাদের অধিকাংশ আবার ছাত্রছাত্রী। তাছাড়া প্রত্যেকটা সেক্টরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ রয়েছে ২০ বছরের শাসক আব্দেলআজিক বুতেফ্লিকার বিরুদ্ধে গড়ে উঠা প্রতিবাদ বিক্ষোভে।

পশ্চিমাদের অন্যতম মিত্র বুতেফ্লিকাকে সাধারণত জনসম্মুখে দেখা যায় না ২০১৩ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে। কিন্তু গত ১০ ফেব্রুয়ারি যখন তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তখন থেকেই শুরু হয় সাম্প্রতিক এ বিক্ষোভ।

যদিও ৮২ বছর বয়সী বুতেফ্লিকা ‘চিকিৎসার জন্য’ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থান করছেন বেশ কিছু দিন ধরে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি শারীরিক চেকআপের জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এই প্রথম তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

এদিকে, বুতেফ্লিকা যখন জেনেভায় তখন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানী আলজিয়ার্সসহ অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ।

আলজাজিরা বলছে, আজ রোববার যখন দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করার কথা বলা হচ্ছে তখন গতকাল শনিবার সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে সীমিত পর্যায়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়াশিংট পোস্ট বলছে, চলতি সপ্তাহের বিক্ষোভে হাজার হাজার আলজেরীয় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন আর ‘খেলা শেষ হয়েছে’ এবং ‘ভীতির দেয়াল ভেঙেছে’ বলে স্লোগান দিয়েছেন।

দেশটির সমাজবিজ্ঞানী নাচের জাবি ১৯৬২ সালে সাত বছরের বর্বর যুদ্ধের পর ফ্রান্সের কাছ থেকে দেশটির স্বাধীন হওয়ার কথা স্মরণ এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা গোটা সমাজ, সকল শ্রেণি, পরিবার, নারী, শিশু, যুবক…(সবার বিক্ষোভ) স্বাধীনতার পর এ ধরনের বিক্ষোভ আমরা দেখিনি।’

আলজাজিরা বলছে, ক্ষমতাসীন এফএলএন পার্টির অনেক নেতাসহ বুতেফ্লিকার দীর্ঘদিনের মিত্ররা চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন। আর ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তারও সমর্থন রয়েছে সাম্প্রতিক আন্দোলনে।

নাচের জাবি নামের ওই সমাজবিজ্ঞানী ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, আলজেরিয়ার প্রায় ৬৫ শতাংশ তথা ৪ কোটির বেশি মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। বিষয়টি বুতেফ্লিকা বুঝতে পারছেন না। তার অতি শিগগিরই চলে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, নতুন এই জনগোষ্ঠী (তরুণ-তরুণী) অধিক স্বাধীনতা ও আধুনিক জীবনযাপন চায়। আলজেরিয়ার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অন্য আলজেরিয়া দেখতে চায়।

আরপি

 

আফ্রিকা: আরও পড়ুন

আরও