অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না রিকশাচালকের মেয়ে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না রিকশাচালকের মেয়ে

আলমগীর হোসেন, বগুড়া ৩:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না রিকশাচালকের মেয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উর্ত্তীন হয়েও আর্থিক অনটনের কারণে ভর্তি হতে পারছে না রিক্সাচালকের মেয়ে সোমাইয়া আকতার।

সোমাইয়া বগুড়ার সান্তাহার পৌর এলাকার দরিদ্র রিক্সা চালক আব্দুল আলীমের মেয়ে। দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে রিক্সা চালক বাবা অনেক কষ্ট করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করালেও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে পারছে না।

তাই সোমাইয়ার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন ভালো প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সুমাইয়া ঢাবিতে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চায়। সেজন্য সমাজের আর্থিক সামর্থ্যবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

সুমাইয়া আকতার দারিদ্র পরিবারের জন্মগ্রহন করলেও  সে সান্তাহার পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। এরপর সান্তাহার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ২০১৯ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে সরকারের উপবৃত্তিতে পড়াশোনা চালিয়ে আসলেও বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং ঢাকায় মেসে থাকার মত টাকা যোগাড় করা দুসাধ্য হয়ে পড়েছে রিক্সা চালক আব্দুল আলীমের।

সুমাইয়া আকতারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভতি পরীক্ষার রোল নং ৩৪৩০২৯। এর আগে ঢাবিতে ভর্তি ফরম ও যাতায়াতের টাকা ক’জন মিলিয়ে টাকার যোগান দিয়েছে।  তাই সুমাইয়ার উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে সমাজের সামথ্যবানদের আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা আব্দুল আলীম। বাবার মোবাইল নং (রকেট) ০১৭৩৪-১৬২৫৫৫।

সোমাইয়া আকতার জানান, উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের সরকারের বৃত্তির টাকা এবং কিছুটা বাবার সহযোগিতায় লেখাপড়া করে আসছি। এসএসসি পরীক্ষার পর এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করার পর থেকে ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু ঢাকায় যাতায়াত এবং ফরমের টাকা যোগাড় করতে পারি না। ইত্যেমধ্যে কয়েকজন ভাই মিলে ফরম এবং যাতায়াত টাকা দেয়। টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্যও হয়েছি। টাকার অভাবে এখন ভর্তি হওয়া এবং ঢাকায় মেসে থাকার সামর্থ্য নেই। এ জন্য ঢাবিতে শিক্ষা গ্রহনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমাজের অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি আছেন, কেউ যদি আমাকে সহযোগিতা করতো,তাহলে আমার বহুদিনের স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারতাম।

সোমাইয়া আকতারের বাবা আব্দুল আলীম বলেন, আমি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে রিক্স চালিয়ে আসছি। প্রতিদিন যা উপার্জন হয় তার পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া এবং ঋণের কিস্তির টাকার যোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। মেয়ের লেখাপড়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের খরচ কোথায় থেকে যোগাড় করবো। আগে মেয়েকে পড়াশোনা না করার জন্য নিষেধ করলেও বর্তমানে আমার মেয়ে ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এ সংবাদে খুশি হয়েছি এবং পড়াশোনা করাতে চাই। কিন্তু মেয়েকে পড়াশোনার করানোর মতো আমার কোন সামর্থ্য নেই। এজন্য আমার মেয়ে ঢাবিতে পড়াশোনা করার জন্য সমাজের সামর্থ্যবানদের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এএইচ/এফএ 

 

ভর্তি ও পরীক্ষা: আরও পড়ুন

আরও