২৫ অক্টোবর থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

২৫ অক্টোবর থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী

সচিবালয় প্রতিবেদক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

২৫ অক্টোবর থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সব রকমের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা-২০১৯ সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এছাড়াও কোনো রকমের প্রলোভনে ও গুজবে গুরুত্ব না দিতে শিক্ষামন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জেএসসি পরীক্ষা আগামী ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এবং জেডিসি পরীক্ষা আগামী ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা-২০১৯ সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় বলা হয়:

১. পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীকে এর পরে প্রবেশ করতে দিলে তার নাম, রোল নম্বর, প্রবেশেরর সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে ওইদিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে। একই পরীক্ষার্থী একাধিকবার বিলম্ব করলে তদন্ত করতে হবে।

২. কেন্দ্র সচিব ব্যতীত পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীগণের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যেকোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জেলার ক্ষেত্রে ট্রেজারি এবং উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলাস্থ থানা লকারে প্রশ্নপত্রের ট্রাংক সংরক্ষণ করতে হবে।

৫. ট্রেজারিতে রক্ষিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে দিনভিত্তিক ও সেটভিত্তিক সর্টিং করে সিকিউরিটি খামে সংরক্ষণ করতে হবে।

৬. প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগ দিতে হবে। তিনি ট্রেজারি, থানা হেফাজত হতে কেন্দ্র সচিবসহ প্রশ্ন বের করে পুলিশ প্রহরায় বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত সকল সেটের প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।

৭. পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কেন্দ্র সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বিধি অনুযায়ী খুলতে হবে।

৮. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব কিংবা এ কাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ নজরদারি জোরদার করবে।

৯. প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এসএস/এইচআর

 

ভর্তি ও পরীক্ষা: আরও পড়ুন

আরও