একাদশে ভর্তির আবেদন ১১ লাখ ছাড়িয়ে

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

একাদশে ভর্তির আবেদন ১১ লাখ ছাড়িয়ে

শাহাদৎ স্বপন ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮

একাদশে ভর্তির আবেদন ১১ লাখ ছাড়িয়ে

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত ১১ দিনে ভর্তির আবেদন পড়েছে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে অনলাইনে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ আবেদন করা হয়েছে। ৮টি সাধারণ বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ড মিলিয়ে এই আবেদন জমা পড়েছে। 

আন্তঃবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৮টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে মোট ২৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩০০টি আসন আছে। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে মোট ৭ হাজার ৩১৯টি কলেজ আছে। চলতি বছর মোট পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৫ জন, মাদরাসা বোর্ডে ২ লাখ ৩ হাজার ৩৮২ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৮২ হাজার ৯১৭ জন।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসন সংখ্যায় কোনো সংকট হবে না বলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে সাময়িক এ বিশাল ছাত্র সংখ্যার ভর্তি কার্যক্রমে বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থীর অগোচরেই তার রোল ও রেজি: নাম্বার নিয়ে অন্য কেউ ভর্তির জন্য আবেদন করছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা পড়ছে নানা বিড়ম্বনায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ কলেজ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এ বছর অনলাইন আবেদন ছিলো স্বতঃস্ফূর্ত। তবে ভুয়া আবেদনের বিষয়টি শিকার করে তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় এবছর সমস্যাটা অনেক অল্প। এত বড় একটা কার্যক্রম সেখানে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। আমরা এ বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি বলে জানান এ কর্মকর্তা। যারা ফেইক ভর্তির সমস্যায় পড়ছে তারা সরাসরি বোর্ডে এসে সমাধান করছে। ভর্তিতে আসন সংকট হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, আমাদের ঢাকা বোর্ডে আসনে কোনো ঘাটতি নেই। আসন সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিন ধাপে এই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তবে সবাই ভালো কলেজগুলো চয়েজ করে আবেদন করলেও জিপিএ পয়েন্ট বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে জানান বোর্ডের উপ কলেজ পরিদর্শক। 

এবছর ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে www.xiclassadmission.gov.bd ঠিকানায়। এসএমএসে আবেদন করতে হবে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে। অনলাইনে ১৫০ টাকা দিয়েই ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। তবে এসএমএসের জন্য প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১২০ টাকা করে ফি দিতে হবে। 

নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো পরীক্ষা হবে না। ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে কমপক্ষে ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর ফল ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করে দেওয়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের আবেদন আগামী ৫ ও ৬ জুন গ্রহণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। এবার শিক্ষার্থী ভর্তির নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১৯ ও ২০ জুন। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ২১ জুন। তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৪ জুন এবং ফল প্রকাশ ২৫ জুন। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ (মাইগ্রেশন) অন্যান্য কাজ শেষ করে ২৭ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ হবে। ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। এবছর বিভাগীয় ও জেলা সদরের কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে শতভাগ আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। তবে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পর যদি বিশেষ অগ্রাধিকার কোটার কোনো আবেদনকারী থাকে, তাহলে মোট আসনের অতিরিক্ত হিসেবে নির্ধারিত কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। নির্ধারিত কোটা আছে ১১ শতাংশ। তবে এবার এসব কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসনগুলোর আর কার্যকারিতা থাকবে না। 

স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গত ১৩ মে থেকে শুরু হয়। চলবে ২৪ মে পর্যন্ত।

এসএস/এএল/