৫০০ রান করেও খলনায়ক অধিনায়ক ফিঞ্চ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৫০০ রান করেও খলনায়ক অধিনায়ক ফিঞ্চ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

৫০০ রান করেও খলনায়ক অধিনায়ক ফিঞ্চ

ব্যাট হাতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটা স্বপ্নের মতোই কাটিয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চ। ১০ ম্যাচে করেছেন টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ ৫০৭ রান। করেছেন ২টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফসেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ানদের বাহবাই পাবেন ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সেই কৃতিত্ব ছাপিয়ে অনেক বেশি বড় হয়ে উঠেছে অধিনায়ক ফিঞ্চের ব্যর্থতা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ যে অধিনায়ক ফিঞ্চকে পরিয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসের খলনায়কের খেতাব। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পরাজিত অধিনায়ক বনে গেলেন তিনি!

বিশ্বকাপের আগের ১১টি আসরের ৭টিতেই সেমিফাইনালে উঠে অস্ট্রেলিয়া। অসিরা জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেই ৭টিতেই। মানে অস্ট্রেলিয়ানরা কখনোই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি। সেমিতে হারার সেই লজ্জার তিলকটা দেশের কপালে প্রথম এঁটে দিলো ফিঞ্চের দল। অধিনায়ক হিসেবে দলের এই ব্যর্থতার বড় দায়টা ফিঞ্চেরই। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় খলনায়ক হিসেবেই জায়গা হলো ফিঞ্চের।

এর আগে ৭ বার সেমিতে উঠে ৭ বারই ফাইনালে উঠা অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৫ বার। বাকি ‍দুবার ফাইনালে হেরেছে। সেই দুটি হার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার কাছে। ১৯৭৫ সালে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যায় ইয়ান চ্যাপেলের অস্ট্রেলিয়া।

২১ বছর পর ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আবার সেই লজ্জার তিলক গায়ে অস্ট্রেলিয়ার গায়ে। মার্ক টেলরের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় অর্জুনা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের এই দুটি হার বাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর মাত্র একবারই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১১ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যায় ভারতের কাছে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সব মিলে এই তিনটি হারই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। গতকাল সংখ্যাটা ৪ বানিয়ে ফেলল ফিঞ্চের দল। কালকের যে হারের সঙ্গে আবার লেখা হয়ে গেল একটা প্রথম। সেমিফাইনালে প্রথম হার। ইতিহাসের পাতায় যে লজ্জার দায়টা টানতে হবে অধিনায়ক ফিঞ্চকে একা!

ফিঞ্চকে এই লজ্জার আসনে বসিয়ে দিলো ইংল্যান্ড। যারা এর আগে কখনোই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি। সেই দিক থেকে কাল নতুন ইতিহাসই লিখেছে এউইন মরগানের ইংল্যান্ড।

তবে মরগানের দলের সামনে আরও বড় ইতিহাস লেখার হাতছানি। ১৪ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই মরগানের দল গড়ে ফেলতে পারবে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস। এর আগে তিন তিন বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপার দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। এবার চতুর্থ বারের চেষ্টায় আজন্ম সেই শিরোপা আক্ষেপ ঘোচেত পারবে ইংলিশরা?

যদি মরগানের দল তা পারে, খলনায়ক ফিঞ্চের আক্ষেপ-হতাশাটা নিশ্চিত আরও বাড়বে!

কেআর

 

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: আরও পড়ুন

আরও