বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৮

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে

বাঙালি সংস্কৃতি মেলবন্ধনের সংস্কৃতি। সে সংস্কৃতিকে মানুষের হৃদয়ে ধারণ ও লালন করতে এবং বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজপথের লড়াই দীর্ঘদিনের।

অনুরূপ গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়েও শিল্পমনা লড়াকু মানুষেরা সদা সোচ্চার। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার দীর্ঘ এই আন্দোলন সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা ছাপ ফেলেছে— এ নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সাথে আন্তরিক আলাপচারিতা পরিবর্তন ডটকমের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী। 

পরিবর্তন ডটকমের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা 

পরিবর্তনের পরিবারকে আমার শুভেচ্ছা। 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের দীর্ঘদিনের যোদ্ধা আপনি। শুরুটা কবে কিভাবে? 

১৯৮৩ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর তিনি একটি নির্দেশনা জারি করেছিলেন যে, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে প্রভাতফেরী ও আল্পনা না করার জন্য। কিন্তু এটা তো বাঙালির ঐতিহ্য। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য । যে ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছিল, স্ফুরণ হয়েছিল। যার পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই ভাষা, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এটি একটি আঘাত বলে আমরা মনে করেছি এবং সেই সময় আমাদের অগ্রজ যারা ছিলেন, তারা সবাই মিলে এবং আমাদের সময়কার সব সাংস্কৃতিক কর্মী সবাই মিলে একুশে উদযাপন কমিটি করেছিল ১৯৮৩ সালে। সেখানে আমাদের ফয়েজ আহমেদ, কামাল লোহানী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান থেকে শুরু করে কলিম শরাফী প্রত্যেকেই এর সাথে যুক্ত ছিলেন। ৮৩ সালে এই উদযাপন কমিটি করে আমরা তার প্রতিবাদ করলাম। পরবর্তী পর্যায়ে সবাই সিদ্ধান্ত নিলো যে, আসলে এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কারণ যদি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় এবং বাঙালির সংস্কৃতির মূল ধারাকে যদি ধারণ করতে হয় তাহলে একটি ঐক্যবদ্ধ মোর্চা দরকার, যা বাঙালি সংস্কৃতির যে কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করবে। সেই ভাবনা থেকে ১৯৮৪ সালে একুশে উদযাপন কমিটিটা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নাম ধারণ করে এবং ফয়েজ আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। আমাদের অগ্রজ রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশিদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ থেকে শুরু করে ১১ জন সেই আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। সেই ৮৪ সাল থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শুরু হলো। আমি তখন নাট্য সংগঠন ঢাকা পদাতিকের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রথম দিন থেকেই একজন কর্মী হিসেবেই এর কাজের সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। 

এটা তো একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন। বাঙালি সংস্কৃতিকে মানুষের মনে প্রোথিত করার লড়াই...

আন্দোলন তো বটেই, আবার যে উদ্দেশ্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এই যে ১৯৭১ সালে আমরা বিজয় অর্জন করেছি, এটা কিসের বিরুদ্ধে কার বিরুদ্ধে কার বিজয়। তার মানে কী? মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ একটা অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করবে। যে বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত হবে। সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই তো আমরা লড়াই করেছি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে এবং যে বাংলাদেশে আমরা সংস্কৃতি কর্মীরা বাধাহীনভাবে, স্বাধীনভাবে আমাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবো এবং সারা পৃথিবীকে দেখাতে পারবো যে, অর্থনৈতিকভাবে হয়তো আমরা পিছিয়ে আছি কিন্তু আমাদের রয়েছে গৌরবময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্য মানুষের মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। আমাদের সংস্কৃতি তো মেলবন্ধনের সংস্কৃতি। সে সংস্কৃতিকে লালন করবার জন্য, বিনির্মাণ করবার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এবং অনুরূপ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যাতে দেশ শাসন করতে পারে তার জন্য আমরা ভূমিকা পালন করে থাকি।

সেই চুরাশি সাল থেকে আপনারা কাজ করে যাচ্ছেন। এর ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করেন? 

আমি এটুকু মনে করি- আজকে এই যে সারাদেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠিত হয়েছে এবং প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও সমাজে যদি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কার্যক্রম প্রভাব তৈরি করতে না পারতো, তাহলে এই কমিটিগুলো গঠিত হতো না। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে আমরা আন্তরিকভাবে সচেষ্ট। তবে মানুষের প্রত্যাশার সাথে সকল ক্ষেত্রে আমাদের নীতি-আদর্শের মিল নাও থাকতে পারে। যেমন ধরা যাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সেই ১৯৯২ সাল থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্নেল তাহের মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গড়ে ওঠেছিল। আমি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেই সভায় ছিলাম এবং আমি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে সেই কমিটিতে কাজ করি। শুধু আমার কথা বলছি না, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং সকল সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনের প্রতিটা ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সর্বশেষ যে বিচারকার্য সম্পন্ন হলো সে ক্ষেত্রেও আমাদের বড় ভূমিকা ছিল। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করবার জন্য, বাঙালিত্বকে ধারণ করবার জন্য, গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, বাঙালি সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে আমরা সোচ্চার আছি এবং থাকব বলেই কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা আমাদের কাছে অনেক বেশি। 

ভিন্ন মতের কথা বলছিলেন। আদর্শগত দিক থেকে ভিন্নমতকে কী দৃষ্টিতে দেখেন? 

ভিন্নমতটা হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা মনে করি ভিন্নমতটাকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই আমরা সমৃদ্ধ হবো। যুক্তি-তর্কের মধ্য দিয়ে প্রকৃত সত্যটা আবিষ্কৃত হবে, কিন্তু আমাদের সমাজে কখনো কখনো গণতন্ত্রকে চাওয়া হয় গণতন্ত্রকে হত্যা করবার জন্য। গণতান্ত্রিক অধিকারটাকে গণতন্ত্রকে বিকশিত করবার কাজে ব্যবহার করছি না। আমরা বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করি, কিন্তু যারা অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে না, তারা আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সমালোচনা করবে। আমরা পহেলা বৈশাখ, বাঙালি সংস্কৃতি উদযাপন, মঙ্গল শোভাযাত্রা সমর্থন করি। যারা বাঙালি সংস্কৃতির এই ধারাগুলোকে বিশ্বাস করে না, যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, এটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চায়, তারা তো সমালোচনা করবেই। 

এই অসহিষ্ণু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপনাদের তেমন সরব হতে দেখা যায় না কেন? 

কেন আমরা তো প্রতিটা ক্ষেত্রেই কথা বলছি। রাজনীতির ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা স্পষ্ট। 

দেশে রাজনৈতিক একটা গুমট ভাব বিরাজমান নিশ্চয়ই খেয়াল করছেন!

এখন এই গুমট ভাবটা কেন তৈরি হয়েছে? কেউ কি ভেবেছিল যে এ দেশে কখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে? ভেবেছিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার বাংলাদেশে হবে? বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ফাঁসি হবে? কেউ তো ভাবেনি। তাহলে দীর্ঘদিন যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে একত্রে রাজনীতি করেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতা শেয়ার করেছে, যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে সংসদে বসিয়েছে, লালন পালন করেছে, তারা তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে তারা আড়াল করবার চেষ্টা করেছে। এমনকি এই যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বিরোধী মতকে, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করে পুরো রাজনৈতিক দলটাকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো কি আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট নয়? তাহলে সে শক্তিগুলো তো এখনো রাজনীতিতে সক্রিয়। তারা তো নানাভাবে অর্থাৎ যে কোনোভাবে চাইবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করবার জন্য। এখন তারা যদি গণতন্ত্রের কথা বলে তাহলে আমাদের কি ২১ আগস্টের কথা ভুলে যেতে হবে? বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা যারা করেছিল, তা আমাদের ভুলে যেতে হবে? যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো কি আমাদের ভুলে যেতে হবে? হ্যাঁ, গণতন্ত্রে ভিন্নমতের অধিকার আছে কিন্তু সে ভিন্নমতটা আমাদের দেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করে করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যদি আপনি কথা বলেন তার সাথে তো আমি ঐক্য করবো না।

বর্তমান সরকারের সব কাজ ভালো আমি তা বলবো না। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছে, দেশের উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। সেখানেই ত্রুটিবিচ্যুতি আছে। এখনো দুর্নীতি আমরা দূর করতে পারিনি, সুশাসনটাকে নিশ্চিত করা যায়নি। এগুলো হচ্ছে সরকারের সমালোচনার দিক। কিন্তু এই সমালোচনার সুযোগে তো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারি না। 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট অধিকার আদায়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে?

আমরা তো প্রতি মুহূর্তেই বাধার সম্মুখীন হয়েছি। বিএনপি সরকারের আমলে বিজয় উৎসব করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এরশাদের আমলে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। বিএনপির আমলে একবার চারুকলায় আমাদের বিজয় মঞ্চ জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এখন আর ওখানে বিজয় উৎসব করি না। ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। আমরা ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি আমরা করবো শহীদ মিনারে, সেখানে আমাদের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বিএনপির আমলে জাসাস দখল করে নিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়কের সময় আমাদের শোভাযাত্রা করার পারমিশন দেয়া হয়নি। বহু নেতা-কর্মীকে জীবননাশের হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মী নির্যাতন, গ্রেফতার করা হয়েছে সেগুলো আর আলাদা করে না বললাম। 

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমাজ বিনির্মাণ করতে চান? 

আমাদের রাষ্ট্রটার ভিত্তি হলো সংস্কৃতি, কাঠামোটা রাজনীতির। এই সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করেই বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে। বাঙালির জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। সুতরাং এটা মনে রাখতে হবে। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যার সূত্রপাত। আমাদের এই বাংলাদেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে যদি পরিচালিত করতে হয়- একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে প্রতিটা মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচবে, তার নাগরিক অধিকার পাবে, মৌলিক অধিকার পাবে, নারীরা তার পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে চলবে, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ তার জাতিগত মর্যাদা নিয়ে চলবে, তার সংস্কৃতির অধিকার নিয়ে চলবে সে বাংলাদেশই আমরা চেয়েছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে সুখি-সুন্দর, আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিবাদী একটি রাষ্ট্র পায় তার জন্য সংস্কৃতির একটা জাগরণ দরকার। আমরা সেই জাগরণটি গড়ে তোলবার সংগ্রামে নিয়োজিত আছি। 

আগস্ট মাস। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু বলুন...

বলতে গেলে তো অনেক কথা, সে কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা শুধু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসটা জানি। অথচ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হলো ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে, তখন বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে যখন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তখন সর্বপ্রথম যে প্রতিবাদগুলো শুরু হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে ধর্মঘট হয়েছিল। সে ধর্মঘট করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ ৬৩ জন গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায়ও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সুতরাং বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলন এবং ৬ দফা দিয়ে মুক্তির প্রকৃত রাস্তা কিন্তু তিনি দেখালেন এবং সে ছয় দফার পথ ধরেই তো ১১ দফা এলো, ৭০-এর নির্বাচন এলো, বাংলাদেশ পেলাম আমরা। সেই বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশে কারা হত্যা করেছে? যারা ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তারা এবং ক্ষমতালোভী কিছু সামরিক বাহিনীর লোক। তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া এবং ক্ষমতা দখল করার জন্য এই দুই দেশি-বিদেশি শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী আসছে। আমরা মনে করি এটা বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। কাজেই বঙ্গবন্ধু শুধু আমাদের মুক্তি সংগ্রামের নেতাই নন, তিনি পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষ, যেখানে জাতিগত নির্যাতন, যেখানে স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই, সেখানেই বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষের অস্তিত্ব বিরাজমান। যেমনি নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাত, সুকর্ন, কামাল আতাতুর্ক, ফিদেল ক্যাস্ট্রো পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষের মুক্তির আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলনের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার কারণে তারা রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করে বিশ্ব নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুও তাই। যার কারণে ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন “আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, আমার আর হিমালয় দেখার আগ্রহ নেই।” তার মানে কী, তিনি বিশ্ব নেতার আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই মহামানবের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সালে। সেদিন পুরো জাতি দিনটি ব্যাপকভাবে উদযাপন করবে, সংস্কৃতি কর্মীরাও করবে, সে প্রত্যাশা আমাদের থাকবে। আর আগস্ট মাস শোকের মাস। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তাদের প্রতি ঘৃণা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীরা যারা এখনো লুকিয়ে আছে, পালিয়ে আছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি কার্যকর করা এবং যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে লালন পালন করছে, তাদের মুখোশ জনগণের কাছে উন্মোচন করে দিতে হবে। 

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। 

আপনাকেও ধন্যবাদ। 

এসবিসি/এএল/