আমি ২২২ মিলিয়ন ইউরো দামী নই : নেইমার

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

আমি ২২২ মিলিয়ন ইউরো দামী নই : নেইমার

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
আমি ২২২ মিলিয়ন ইউরো দামী নই : নেইমার

নিজের উপর থেকে চাপ কমাতেই কি এমন কথা বলছেন নেইমার? আর কয়েক ঘণ্টা পরই পর্দা উঠছে যাচ্ছে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ শুরুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে নেইমার কিনা বলছেন, তিনি ২২২ মিলিয়ন ইউরো দামী নন। তাকে উচিতের চেয়ে একটু বেশি দামেই কিনেছে পিএসজি!

গত গ্রীষ্মের দলবদলে বার্সেলোনা থেকে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নিয়েছে পিএসজি। যা তাকে বানিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে দামী ফুটবলার। এই তকমা মাথায় নিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা কাটিয়ে দিলেন ১০ মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু কখনোই নিজের এই মূল্য নিয়ে কথা বলেননি।

অথচ নিজের দাম নিয়ে তিনি কিনা কথা বললেন বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে। কোনো সন্দেহই নেই যে, ইতিহাসের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের তকমাটা বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে প্রত্যাশার চাপটা বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরো ফুটবল বিশ্বই কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ব্রাজিলিয়ানরা তো তাকে কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের মালা বুনছে।

দেশবাসী এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশাটা ভালো করেই টের পাচ্ছেন তিনি। আর টের পাচ্ছেন বলেই হয়তো হঠাৎ নিজেকে কম দামী দাবি করে প্রত্যাশার বোঝাটা হালকা করতে চাইছেন। আজ পর্দা উঠলেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু ১৭ জুন, কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

তারি আগে নিজের উপর দর্শকদের প্রত্যাশার বোঝাটা হালকা করতেই হয়তো বললেন, তিন প্রকৃতপক্ষে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর মূল্যমানের নন। ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট স্পোক্স ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড স্পষ্ট কণ্ঠেই বলেছেন, ‘ট্রান্সফার ফি’র অঙ্ক নিয়ে আমি গর্বিত নই। সর্বকালের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় বলে নয়। এখানে বিষয়টা স্রেফ টাকার। এছাড়া অন্য কিছু নয়। আমি কোনোভাবেই ট্রান্সফার ফি’র বিষয়টিকে সাহায্য করতে পারব না। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমি কখনোই নিজেকে এতো দাম দেব না। পিএসজি একটু বেশি দামই দিয়ে ফেলেছে।’

বার্সেলোনা কিছুতেই তাকে বিক্রি করতে রাজি ছিল না। কিন্তু নেইমারকে কেনার জন্য পিএসজি এতোটাই মরিয়া হয়ে উঠে যে, তার উপর ঝুলিয়ে রাখা রিলিজ ক্লজের পুরো টাকা দিতেই রাজি হয়। নেইমারের কথা নিজেদের এই জেদ পূরণ করতে গিয়েই পিএসজি উচিতের চেয়ে দামটা একটু বেশি দিয়ে ফেলেছে!

তবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামী খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন না থাকলেই নেইমারের ঠিকই একটা স্বপ্ন ছিল। সেটা ‘স্পেশাল’ খেলোয়াড় হওয়া। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমি সব সময়ই চেয়েছি স্পেশাল খেলোয়াড় হতে। বলতে পারেন সেই শুরু থেকেই এটা আমার স্বপ্ন ছিল। ১১ বছর বয়স থেকে, ঠিক  যেদিন থেকে ক্লাব ফুটবল খেলা শুরু করি। কখনোই হয়তো ব্যাপারটা প্রকাশ করিনি। তবে এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিটি দিনই আমি ভালো করার চেষ্টা করেছি এবং সেরা হতে চেয়েছি।’

নেইমার নিজেই বললেন তার সেই স্পেশাল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, ‘আমি গর্বিত যে, ছোট্টবেলার সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড় হিসেবে সব সময়ই আপনি নিজেকে প্রমাণ এবং প্রকাশ করতে চাইবেন। তবে লক্ষ্য পূরণে ট্রান্সফার অঙ্ক আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। ট্রান্সফার ফি এটাও বলতে পারবে যে, আপনি কতটা ভালো।’

২৬ বছর বয়সী নেইমার কথা বলেছেন বিশ্বকাপে নিজেদের সম্ভাবনা নিয়েও। বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ উঠলেই ব্রাজিলিয়ানদের মনে পড়ে যায় ৪ বছর আগে নিজেদের মাটির বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে সেই ৭-১ গোলের মহাবিপর্যয়ের কথা। নেইমারের বেলায় তার ব্যতিক্রম নয়।

রাশিয়া বিশ্বকাপে তাদের সম্ভাবনার কথা উঠতেই নেইমার গড়গড় করে জানিয়ে দিলেন জার্মানির বিপক্ষে মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার স্বপ্নের কথা, ‘সত্যিই এটা মেনে নেওয়াটা ছিল খুব কঠিন। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে, তা ঘটেছিল। তবে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই সেই কষ্টটা মুছে ফেলার। আশা করি আমরা আবারও জার্মানির মুখোমুখি হব এবং সত্যিই প্রতিশোধ নিতে পারব।’

কেআর

 
.




আলোচিত সংবাদ