বিশ্ব আসরে পর্তুগিজদের প্রথম সাফল্য

ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

মূল ধারায় ৩২ দেশ ও তাদের বিশ্বকাপ ঐতিহ্য

বিশ্ব আসরে পর্তুগিজদের প্রথম সাফল্য

প্রণব আচার্য্য ৪:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

print
বিশ্ব আসরে পর্তুগিজদের প্রথম সাফল্য

জুনে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১তম আসর বসছে রাশিয়ায়। সবকটি মহাদেশ থেকে বাছাই পর্ব খেলে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হতে পারে কেবল ৩১টি দল। আয়োজক দেশসহ ৩২ দেশ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। ইউরোপের দেশ পর্তুগাল ১৯৬৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় আর প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই তৃতীয় স্থান লাভ করে তারা। টুর্নামেন্টে এটা এ পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। আসুন, জেনে নেয়া যাক পর্তুগিজদের সেই সাফল্যের গল্প। ৩২ দলকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখছেন প্রণব আচার্য্য।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা। এক দশক ধরে আধিপত্য করে যাচ্ছেন ফুটবল বিশ্বে। ৩৩ বছর বয়সী এ তারকার নেতৃত্বে রাশিয়ার বিশ্বকাপে যাচ্ছে পর্তুগাল। তার নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে ইউরোপর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পর্তুগিজরা। এবার পালা বিশ্বসেরা হওয়ার। রাশিয়ায় এটি হবে তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ মিশন।

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় পর্তুগাল। সেবার পর্তুগালের কোচ ছিলেন একজন ব্রাজিলিয়ান, নাম ওতো গ্লোরিয়া। গ্রুপপর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ব্রাজিল, হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া। প্রথম ম্যাচেই হাঙ্গেরিকে হারিয়ে দেয় ৩-১ গোলে। জোড়া গোল করেন জস আগুস্তো। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হারে বুলগেরিয়া।

তৃতীয় ম্যাচে পর্তুগিজদের প্রতিপক্ষ পেলে-গারিঞ্চাদের ব্রাজিল। ওই ম্যাচে শুরু থেকেই পেলেকে মার্কিংয়ে রাখে তারা। সফলও হয়। গোল পাননি পেলে। ব্রাজিলের জালে গুনে গুনে ৩টি গোল করে পর্তুগিজরা। জোড়া গোল করেন কিংবদন্তি ইউসেবিও। অন্য গোলটি করেন অ্যান্তোনিও সিমোস। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করে তোস্তাও। ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে তারা চলে যায় নক আউট পর্বে।

তবে ওই ম্যাচ জিতলেও পেলেকে বারবার ফাউল করে কুখ্যাত হয়ে আছেন পর্তুগিজ খেলোয়াড়রা। যখনই পেলে বল পেয়েছেন, তখনই অবৈধ ট্যাকলের শিকার হয়েছেন। এবং ফাউলের শিকার হয়ে পেলে পড়ে গেলেও কোন পর্তুগিজ খেলোয়াড় তাকে তুলতে আসেননি। যা ফুটবলের সংস্কৃতির সাথে একেবারেই বেমানান। ওই ম্যাচে শেষমেশ ইনজুরির শিকার হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কালো মানিককে।

অন্যদিকে গ্রুপ-চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে সেমি ফাইনালে উঠে যায় পর্তুগাল। চার গোল করেন ইউসেবিও। যার মধ্যে দু’টি পেনাল্টি থেকে। অবশ্য সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। তবে তৃতীয়-স্থান নির্ধারণী খেলায় সোভিয়েত ইউনিয়নকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে পর্তুগাল। যা এ পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। পর্তুগিজ স্ট্রাইকার ইউসেবিও ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েছিলেন।

এছাড়া ২০০৬ সালের জার্মান বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। সেমি ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জার্মানির কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় তারা। তবে টুর্নামেন্টে ‘মোস্ট এন্টারটেইনিং দল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় পর্তুগাল।

পিএ/ক্যাট

 
.




আলোচিত সংবাদ