বিশ্বকাপ ফাইনালের কিংবদন্তি কাফু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল রেকর্ডস

বিশ্বকাপ ফাইনালের কিংবদন্তি কাফু

ইম্মানুয়েল শোভন মন্ডল ১০:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৮

print
বিশ্বকাপ ফাইনালের কিংবদন্তি কাফু

পৃথিবীতে জাতিসংঘের সদস্য যতগুলো দেশ, তার চেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফায়। ফুটবলের আবেদন ও জনপ্রিয়তা বোঝাতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। আর এই আবেগে জোয়ার তুলতে চার বছর পর আবার আসছে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটা বিশ্বকাপের ২১তম আয়োজন, এবছরের ১৪ জুন যা শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়। মঙ্গলবার, ৬ মার্চ শুরু হয়ে গেছে এই ফুটবল জ্বরে ভোগার ১০০ দিন গণনা। পাঠক চলুন এই উন্মাদনায় জেনে নেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড কোন ফুটবলারের-

কাফু। ব্রাজিল তো বটেই বিশ্বের সর্বকালের সেরা রাইট ব্যাকদের একজন। ১৯৯০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি পড়ে খেলেছেন ১৪২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ৪টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে খেলেছেন ২১টি ম্যাচ। এই দুইটিই ব্রাজিল দলে রেকর্ড। অবসরের এক যুগ পরেও যা রয়েছে অম্লান। ক্যারিয়ারে ৪টি বিশ্বকাপ (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬) খেলেছেন। এর মধ্যে '৯৪, '৯৮ ও ২০০২ সালে টানা ৩ ফাইনালেই খেলেছেন। জিতেছেন দুইবার। তার চেয়ে বেশি ফাইনাল খেলা হয়নি অন্য কোন ফুটবলারের।

কাফু :

২০ বছর বয়সে ১৯৯০ সালে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম খেলতে নামেন কাফু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে দলের প্রথম একাদশের সদস্য ছিলেন না। বদলি হিসেবে সুযোগ পেতেন খেলার। ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে ম্যাচে ২২ মিনিটে ইনজুরিতে পড়েছিলেন রাইট ব্যাক জর্জিনহো। তার বদলি হিসেবে নেমেই ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইনাল খেলেন কাফু। পেনাল্টি শ্যুট আউটে ম্যাচটি জেতে ব্রাজিল। তখন কি এই কিংবদন্তি বুঝতে পেরেছিলেন এটাই তার শেষ ফাইনাল নয়?

এরপরই ব্রাজিল দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হন কাফু। ফ্রান্সে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে ওঠে দল। তবে সেবার জেতা হয়নি কাফু-রোনাল্ডোদের। স্বাগতিকরা তাদের ৩-০ গোলে হারিয়ে জিতে নেয় নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

তবে কাফুর সবচেয়ে স্মরণীয় আসর ছিল ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ। সে সময় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। সেবারের বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হারের পর তখনকার কোচ ওয়ান্ডারলে লুক্সেমবার্গোর প্রচন্ড সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি কেড়ে নেন কাফুর অধিনায়কত্ব। এর কদিন পরই চাকরি হারান কোচ। লুই ফেলিপে স্কলারি নতুন কোচ হিসেবে এসে অধিনায়কত্ব দেন এমারসনকে। তবে তিনি ইনজুরিতে পরায় অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড ফিরে আসে কাফুর কাছেই। আর তিনিই গড়েন ইতিহাস। দল নিয়ে উঠে আসেন ফাইনালে। তার জন্য টানা তৃতীয়বার। সেখানে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জেতেন।

এরপর জার্মানিতে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন কাফু। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে সেবার বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। সেটাই ছিল কাফুর ক্যারিয়ারে শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপে তার কীর্তিই সব সময় জ্বলবে উজ্জ্বল হয়ে।

এসএম

 

 

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad