বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে সফল যারা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল রেকর্ডস

বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে সফল যারা

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৮

print
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে সফল যারা

পৃথিবীতে জাতিসংঘের সদস্য যতগুলো দেশ, তার চেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফায়। ফুটবলের আবেদন ও জনপ্রিয়তা বোঝাতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। আর এই আবেগে জোয়ার তুলতে চার বছর পর আবার আসছে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটা বিশ্বকাপের ২১তম আয়োজন, এবছরের ১৪ জুন যা শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়। মঙ্গলবার, ৬ মার্চ শুরু হয়ে গেছে এই ফুটবল জ্বরে ভোগার ১০০ দিন গণনা। পাঠক চলুন এই উন্মাদনায় জেনে নেই বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে কোন দল সবচেয় ভাল কি পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল-

বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল ১৯৩০ সালে। সেই আসরটি অংশগ্রহণকারী সবগুলো দেশের জন্যই ছিল প্রথম। তাই যে দলই চ্যাম্পিয়ন হত তাদের জন্য সেটা হত অভিষেকেই বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড। আর সেই মর্যাদাটা পায় উরুগুয়ে। ১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল ইতালির। তারাও নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ১৯৩৪ সালের পর আরও অনেক দেশই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। এর মধ্যে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া অভিষেকে তৃতীয় স্থান পর্যন্ত যেতে পেরেছে। অন্য কোন অভিষিক্ত দল এদের চেয়ে বড় সাফল্য পায়নি।

উরুগুয়ে :

ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করার আগে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ফুটবল প্রতিযোগিতাটিকে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদা দিত। উরুগুয়ে ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের টানা দুই আসরে ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতা দল। দেশটি তাদের সংবিধানের শততম বার্ষিকীও উদযাপন করছিল। তাই ফিফা উরুগুয়েকেই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচন করে। সেবার মোট ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল।

ফাইনালে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়। আর্জেন্টাইনদের ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক দেশটিই।

ইতালি :

আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে উত্তর আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল না ইতালি। তবে ১৯৩৪ সালে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এই দ্বিতীয় আসর আয়োজিত হয় ইতালিতেই। সেবার ১৬টি দল অংশ নিয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে শুরু করে ইতালি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথমবার খেলতে এসে বিশ্ব জয় করার ঘটনা এর পর এখন পর্যন্ত আর ঘটেনি।

পর্তুগাল :

ইংল্যান্ডে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ দেখেছিল একজন মহা তারকার উত্থান। তিনি ইউসেবিও, পর্তুগালের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটি বাজিমাত করেছিল তার পারফরম্যান্সেই। গ্রুপপর্বে তাদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপে তিনটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছিল পর্তুগাল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্বকাপে আরেক অভিষিক্ত দল উত্তর কোরিয়া। ২২ মিনিটের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। এরপরই ইউসেবিও জাদু। তিনি করেন চার গোল। সাথে হোসে আগুস্তোর আরেক গোলে ম্যাচটি ৫-৩ গোলে জেতে পর্তুগাল।

সেমি ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ডের। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে নেয় স্বাগতিকরা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পর্তুগাল মুখোমুখি হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া)। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের সেই আসরে তৃতীয় হয় পর্তুগাল। ইউসেবিও ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট' জিতেছিলেন।

ক্রোয়েশিয়া :

১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত অংশ নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৩২ দলের এই টুর্নামেন্টে শেষ ষোল'র রাউন্ডেও উঠে যায় দলটি। সেখানে রুমানিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি। শক্তিশালী জার্মানদের ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনালে পৌঁছে যায় ক্রোয়াটরা। তবে স্বপ্নভঙ্গ হয় সেখানে, ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারিয়ে। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া। দলটির স্ট্রাইকার ডেভর সুকার সর্বোচ্চ ৬ গোল করে 'গোল্ডেন বুট' পুরস্কার পান।

এখানে মজার বিষয় হচ্ছে, ১৯৬৬ সালের পর্তুগাল এবং ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়া- দু'দলই সেমিফাইনালে স্বাগতিক দলের কাছে হেরেছে এবং সেই স্বাগতিকরাই আসর দুইটিতে বিশ্বকাপ জিতেছে। দু'দলই তৃতীয় স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছে। এবং দু'দলের স্ট্রাইকারই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন।

এসএম/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ