সহিংসতার বিশ্বকাপে গারিঞ্চার জাদুতে ব্রাজিলের জয়

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল টিড-বিটস

সহিংসতার বিশ্বকাপে গারিঞ্চার জাদুতে ব্রাজিলের জয়

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
সহিংসতার বিশ্বকাপে গারিঞ্চার জাদুতে ব্রাজিলের জয়

১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল চিলি। তবে ১৯৬০ সালে দেশটিতে ৯.৫ মাত্রার এক ভয়ংকর ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প। এতে চিলির অবকাঠামো দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে কয়েকটি স্টেডিয়াম পুনঃনির্মান করতে হয়েছিল। আগের বিশ্বকাপের তারকা পেলে গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচেই ইনজুরিতে পরে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান।

এই আসরেই প্রথমবার সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোকে পৃথক করতে গোল গড় ব্যবহৃত হয়। বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবারের মত ম্যাচপ্রতি গোল গড় ৩ এর নিচে (২.৭৮) নেমে যায়। এরপর আর কখনোই তা ৩ এর উপরে ওঠেনি।

বিশ্বকাপের এই আসরটির গায়ে লেগে আছে দলগুলোর অতি রক্ষণাত্মক এবং সহিংস কৌশলের কালিমা। এই বিষাক্ত আবহাওয়া পরিণতি পায় প্রথম রাউন্ডে ইতালি ও চিলির খেলায়। এই ম্যাচটি 'ব্যাটল অব সান্তিয়াগো' নামে পরিচিত। ম্যাচে স্বাগতিকরা ২-০ গোলে হারিয়েছিল ইতালিকে। ম্যাচের আগে দুইজন ইতালিয় সাংবাদিক চিলিকে নিয়ে কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন যা মোটেও সুখপাঠ্য ছিল না স্বাগতিকদের জন্য।

আর ম্যাচে দুই দলই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের আহত করার ইচ্ছাকৃত চেষ্টা করতে থাকে। এই ম্যাচের রেফারি ছিলেন ইংল্যান্ডের কেন অ্যাস্টন, যিনি পরবর্তীতে হলুদ ও লাল কার্ড উদ্ভাবন করেন। তিনি মাত্র দু'জন ইতালিয় খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে পাঠান। ম্যাচে এতটাই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল যে ইতালি দলকে পুলিশ প্রহরায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।

ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও চেকোস্লোভাকিয়া। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। পেলে সেবার খেলেননি, কিন্তু গারিঞ্চার হাত ধরে দলটি পায় টানা দ্বিতীয় ট্রফি।

এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার মার্কোস কোল কর্নার থেকে সরাসরি গোল করেন। এমন গোলকে 'অলিম্পিক গোল' বলা হয়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অলিম্পিক গোল এই একটিই। গতবছরের ৫ জুন পরলোকগমন করা এই কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার গোলটি করেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে। আর গোলরক্ষক ছিলেন কিংবদন্তি লেভ ইয়াসিন।

আরও তথ্য-

১. স্পেন দলে ৪টি ভিন্ন জাতীয়তার খেলোয়াড় ছিলেন- আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (আর্জেন্টিনা), ইউলোজিও মার্তিনেজ (প্যারাগুয়ে), ফেরেঙ্ক পুসকাস (হাঙ্গেরি) এবং হোসে সান্তামারিয়া (উরুগুয়ে)। স্পেন তাদের স্কোয়াডের ২২ জনের ২০ জনকেই খেলিয়েছিল এই বিশ্বকাপে।

২. চেকোস্লোভাকিয়ার স্ট্রাইকার ভাক্লাভ মাসেক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১৬ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন। ২০০২ বিশ্বকাপে তুরস্কের হাকান সুকুর ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করার আগ পর্যন্ত এটাই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম গোল।

৩. বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম চারদিনেই ৫০ জন ফুটবলার আহত হয়েছিলেন।

৪. কলম্বিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) মধ্যকার ম্যাচে রেফারি ছিলেন ব্রাজিলের জোয়াও এটজেল ফিলহো। ম্যাচশেষ হওয়ার ২২ মিনিট আগ পর্যন্তও সোভিয়েত ৪-১ গোলে এগিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪-৪ গোলে ড্র হয়। কারণ সোভিয়েত ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরি আক্রমণ করেছিল, আর ফিলহো ছিলেন হাঙ্গেরি বংশোদ্ভূত। তাই পক্ষপাতিত্ব করে তিনি সোভিয়েতকে জিততে দেননি।

এসএম

 

 
.




আলোচিত সংবাদ