বেকহামের ফ্রি-কিক, স্বপ্নভঙ্গ এবং রুমানিয়ানদের আতঙ্ক

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সেরা ১০০ ছবি—৮

বেকহামের ফ্রি-কিক, স্বপ্নভঙ্গ এবং রুমানিয়ানদের আতঙ্ক

খাইরুল আমিন তুহিন ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
বেকহামের ফ্রি-কিক, স্বপ্নভঙ্গ এবং রুমানিয়ানদের আতঙ্ক

ডেভিড বেকহামের খেলার শিল্পের অন্যতমটি ছিল মৃত বলে প্রাণ দেওয়া। মানে ফ্রি-কিকের মতো সেট পিস থেকে সরাসরি জালে বল জড়াতে পারতেন। শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়েই ২৬৫ ম্যাচে ১৫বার এই কীর্তি করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত অনুশীলন ছিল এই কারসাজির। প্রতিপক্ষ বেকহামের ফ্রি-কিকে ভয় পেত দারুণ। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন একটি ছবি আছে যেটি ওই টুর্নামেন্টের সেরা ১০০ ছবির টপ টেনেই আছে। কিন্তু বেকহাম ইংল্যান্ডের প্রয়োজনের সময়ই সেই বলটা মেরেছিলেন বারের অনেক ওপর থেকে। রাশিয়া বিশ্বকাপের ১০০ দিনের কাউন্টডাউনে আজ সেই ফ্রি-কিকের গল্প। লিখেছেন খাইরুল আমিন তুহিন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপ। বসেছে ফ্রান্সে। ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছে। এবার বেশ ফেভারিট হিসেবেই প্রতিবেশী চিরশত্রু দেশে। ফিরতে চায় জয়ীর বেশে। গ্রুপপর্বে প্রথম রাউন্ডে তাদের সাথে তিউনিসিয়া, রুমানিয়া ও কলম্বিয়া। বেশ কঠিন গ্রুপ। তারপরও ইংলিশদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দেখছিল অনেকে। রুমানিয়া কি যে করল!

প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ২-০ গোলে হারাল ইংল্যান্ড। ওদিকে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় রুমানিয়ার। কলম্বিয়া আবার তিউনিসিয়াকে হারিয়ে ফিরে আসে। এরপরই ২২ জুন স্তাদ দে তুলুসে ইংল্যান্ডের ম্যাচ রুমানিয়ার বিপক্ষে। তার আগেই বোঝা গেছে রুমানিয়া এবার বেশ গুছিয়ে এসেছে বিশ্বকাপে। কিন্তু এই ম্যাচ জিতলেই ইংলিশদের পরের রাউন্ড একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ম্যাচের জন্য কে অপেক্ষায় থাকতে চায়? সেটি না হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ম্যাচই হোক!

এমনটা ভেবেই ডেভিড বেকহাম-অ্যালান শিয়েরাররা মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তাদের বিপক্ষে যে দারুণ দাপট দেখাতে শুরু করলো রুমানিয়া! শুধু তাই নয়, ভাগ্যদেবীও বুঝি ইংলিশদের ছেড়ে চলে গেলেন। নইলে, এতো সুযোগ মিস হয়? সুযোগ মিসই শুধু নয়, গোল করার খুব কাছ থেকে ফিরে আসে তারা বারবার। যেন রুমানিয়ার কানের পাশ দিয়ে শিস দিয়ে বারবার গুলি চলে যায়। এর মাঝেই ৪৬ মিনিটে উল্টো ইংল্যান্ডের জালেই বল জড়ায়। ভিওরেল মলদোভান লিড এনে দেন।

ফিরতে হবে। হারা তো চলবেই না। গোটা দুয়েক গোল চাই। কিন্তু ওই যে ভাগ্য! ৬১ মিনিটে আসে ওপরের ছবির সেই মুহূর্তটা। রুমানিয়ার বক্সের বেশ কাছেই ফ্রি-কিক পায় ইংলিশরা। একে বলা হয় বিপজ্জনক অঞ্চলে বল পেয়ে গোলের সুযোগ। দলে বেকহামের মতো ফ্রি-কিক স্পেশালিস্ট থাকলে তো কথাই নেই। প্রায় গোলও তখন গোলের রূপ নেয় শট নেওয়ার আগে!

বেকহামকে ফ্রি-কিকের জন্য তৈরি হতে দেখে রুমানিয়ার খেলোয়াড়দের মনেও নিশ্চিতভাবে গোল হজম করার শঙ্কা জেকে বসেছিল। এটা কি আর মিস করবেন বেকহাম? সামনে দ্রুত দেওয়াল গড়ে তোলেন রুমানিয়ানরা। বেকহাম শট নেন। ৬ রুমানিয়ান কাছাকাছি সময়ে লাফিয়ে ওঠেন। লাগে বল লাগুক শরীরে। ব্যথা না হয় পাওয়া যাক। গোল তো বাঁচুক। সবার চোখই প্রায় বুজে গেছে।

কিন্তু বল তো লাগলো না শরীরে! তাহলে গোল নাকি? পেছনে গোলরক্ষকই কেবল বলটার গতিপথ দেখতে পাচ্ছেন। তার চোখেও আতঙ্ক। শেষমেষ আতঙ্ক জাগিয়ে অবশ্য কিছুই হলো না। বেকহাম যে অনেক ওপর দিয়েই বলটা মেরেছেন। নিশানা ঠিক ছিল না। বার উচিয়ে বল তাই বাইরে। কিন্তু ওই সময় রুমানিয়ান খেলোয়াড়দের রিফ্লেক্স এবং তাদের চেহারায় শূন্যে ভেসে থাকার পরও প্রকাশিত আতঙ্ক ছবিটাকে দিয়েছে অমরত্ব।

ম্যাচটা ২-১ এ হেরেছিল ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচ ড্র করলেই হতো। তারপরও জিতে গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে গিয়েছিল পরের রাউন্ডে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কারা? রুমানিয়া।

ক্যাট

 
.




আলোচিত সংবাদ