ঢাবিতে ভালবাসা দিবসে ‘কাপল বুথ’ নিয়ে সমালোচনা

ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪

ঢাবিতে ভালবাসা দিবসে ‘কাপল বুথ’ নিয়ে সমালোচনা

ঢাবি প্রতিনিধি ৬:০৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
ঢাবিতে ভালবাসা দিবসে ‘কাপল বুথ’ নিয়ে সমালোচনা

বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে যুগলদের জন্য ‘কাপল সেলফি বুথ’ বসিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল কোম্পানি। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে একটি অস্থায়ী কুটির তৈরি করে যুগলদের জন্য এই ব্যবস্থা করে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগ ওঠেছে, কোম্পানিটি এই আয়োজনের নামে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি প্রচার চালাচ্ছে তাদের নিজস্ব পণ্যের।

১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ইয়ামাহা কোম্পানির এই আয়োজনের সমালোচনা করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির এই দিনে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে দিনটি স্বৈরাচর প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

এদিকে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এই আয়োজন করেছেন। তবে এই বিষয়ে কিছুই জানে না বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা গেছে, ভালবাসার মানুষের সঙ্গে প্রিয় মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে সেলফি বুথের আয়োজন করে ইয়ামাহা কোম্পানি। সেখানে সেলফি তুললে প্রতি ঘণ্টায় তিন ‘লাকি কাপল’কে দেয়া হবে ইয়ামাহা কাপল টি-শার্ট।

পরবর্তীতে এই লাকি কাপলদের মধ্যে ‘গ্র্যান্ড ফেসবুক কন্টেস্টের’ মাধ্যমে তিন লাকি কাপল জিতে নিতে পারবেন ইয়ামাহার পক্ষ থেকে ‘কাপল রিস্ট ওয়াচ’।

এই আয়োজনের সমালোচনা করে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ইয়ামাহা কোম্পানিকে দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছে। তারা এর মধ্যদিয়ে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।

তিনি বলেন, সবকিছুতেই এধরনের বাণিজ্যিক মনোভাব মোকাবেলা করার জন্য ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ইয়ামাহার এমন কাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ইয়ামাহার আয়োজন পরিবেশ নষ্ট করছে।

আরিফ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, স্বৈরাচারের ইতিহাস ভুলাতে ব্যবসায়িক স্বার্থে ভালোবাসা দিবস প্রমোট করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ইয়ামাহা কোম্পানির সুপার ভাইজার রাহুল আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের অনুমতি নিয়েই এই আয়োজন করেছি।’

তবে তাদের এই আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

ওএইচ/এমএসআই

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad