অনেক বেশি ভালবাসি মা-আব্বু

ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

অনেক বেশি ভালবাসি মা-আব্বু

সুমাইয়া সারাহ মিষ্টি ৫:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

print
অনেক বেশি ভালবাসি মা-আব্বু

মা আব্বু....ভালবাসা নিও! ইশ, কতই না সহজে লিখে ফেলতে পারলাম তোমাদের ভালবাসি! অথচ মুখে বলতে কতটা জড়তা, কতটা লজ্জা...!

তোমরা জানো, সবাই আমাকে বলে আমি ভালো লিখি! যেকোনো কিছু নিয়েই চট করে লিখে ফেলতে পারি! এটা আমিও জানি যে আমি সহজে লিখতে পারি, লিখতে ভালবাসি তো! কিন্তু জানি না কেন তোমাদের নিয়ে কিছু লিখতে গেলেই আমার হাত কাঁপে! মাথায় বা মনে কিছুই আসে না, সাজিয়ে লিখতে পারি না!

ভালবাসা দিবস, সবার জন্যে ভালবাসা প্রকাশের একটা বিশেষ দিন! আমিও চাই আমার ভালবাসার মানুষ, আমার আদর্শ আমার অনুপ্রেরণা আমার প্রিয়জন মা আর আব্বু, তাদের জন্যে কিছু বলি, ভালবাসা ছড়িয়ে দিই..

প্রথমে মা কে নিয়ে বলি, মা আমার জীবনের আদর্শ! তার জীবনের ভালো খারাপ প্রতিটা সময়েই আমাকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে জীবনে চলতে হয়, জীবনে উন্নতি করতে হয়, কিভাবে সুখী হতে হয়, কিভাবে সংসারে শান্তি আনতে হয়...

একটা ঘটনা বলি, আমার আম্মু খুব পরহেজগার। নিয়মিত নামাজ পড়ে, পর্দা করে চলে! অথচ আমি হয়েছি সম্পূর্ণ উল্টা! নিয়মিত নামাজ পড়া হয় না, পর্দাও করা হয় না! এলাকার কিছু আন্টি আম্মুকে নিয়ে কথা শোনাচ্ছিলেন। ‘আপনি এতো নামাজি, পর্দা করেন, মেয়ে কেন এরকম চঞ্চল হয়েছে? এরকম মেয়ের তো বিয়ে হবে না!’

আম্মু কখনো কারো সাথে তর্কে জড়ায় না। অথচ সেদিন ফট করে বলে দিলো, ‘আমার মেয়ের বিয়ে না হলে কি আপনাদের খুব সমস্যা হবে? আমি আমার মেয়েকে মেয়ে হিসেবে বড় করছি না, মানুষ হিসেবে বড় করছি! আর মানুষ হিসেবে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে! সে যেভাবে খুশি চলবে, যা খুশি পরবে! আমার ভরসা আছে আমার মেয়ের ওপর, সে এমন কিছুই করবে না যাতে তার মা বাবা সামান্য একটু কষ্ট পায়!’

কথাটা শুনে আমার চোখে পানি চলে এলো! এতো ভালবাসে মা আমাকে?

এইবার বাবার একটা ঘটনা বলি...

আমার আব্বু খুব কড়া একজন মানুষ। একটুতেই রেগে যান, উনি যা ঠিক মনে করেন সেটাই ঠিক, অন্যের সবারটা ভুল!

আব্বুর কথা হলো, লেখাপড়া করো, ভালো রেজাল্ট করো, জীবনে এগিয়ে যাও। আর তাই পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কোনো বই, মানে গল্প উপন্যাসের বই পড়া পছন্দ করতেন না। আমি আবার গল্প/উপন্যাস পড়ার পাগল! টিফিনের টাকা বাচিয়ে, পকেটমানি বাচিয়ে বই কিনতাম। এভাবেই জমেছিলো অনেক বই! এক সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি জানালা দিয়ে চোর ৭০/৭৫টা বই চুরি করে নিয়ে গেছে...সে কি কান্না আমার! এতো কান্না বোধহয় কেউ মারা গেলেও করে না! বইগুলা আমার কাছে খুব বেশি প্রিয় ছিল...

তার কিছুদিন পর বাবা ট্রেনে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এসময় আমাকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন ‘মা বইয়ের জন্য মন খারাপ করো না। তোমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের অনেক গুলি বই কিনলাম! এইবার একটু হাসো তো শুনি!’

হাসবো কিভাবে, আবেগ যে চোখ বেয়ে নামছে! বাবা জানতো আমার প্রিয় লেখক কে! বাবা জানতো বই পেলে আমি কতটা খুশি হব! তাই নিজের অপছন্দ হবার পরেও বই কিনেছেন আমার জন্য।

ঘটনা দুইটা আমার জীবনের সেরা ঘটনা! আমি সারাজীবন মনে রাখবো...

এই দুজন মানুষ ছাড়া আমি আমার জীবন কল্পনাও করতে পারি না! আর তারা যে আমার জীবনে কি সেটা লিখে, বলে কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না!

শুধু জানি, তারা আছে তাই আমি আছি! তাদের জন্যেই ভালবাসা কি তা জেনেছি তাই তাদেরকে ভালবাসি!

অনেক বেশি ভালবাসি মা আব্বু!

লেখক : সুমাইয়া সারাহ মিষ্টি

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad