খুব খুব ভালোবাসি তোমাদের

ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৪

খুব খুব ভালোবাসি তোমাদের

মাস্তুরা আক্তার ৫:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

print
খুব খুব ভালোবাসি তোমাদের

আমি মাস্তুরা। মা-বাবা, ছোট বোন আর আমি এই নিয়ে আমাদের পরিবার। আমার বয়স ২২ বছরের একটু বেশি। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান আমি।

আমার জন্ম হলে মা-বাবা সবাই খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু আমার পর আরেকটা বোনের জন্ম হওয়ায় বাবা কিছুটা অখুশি হয়েছিলেন।

বাবা হয়তো একটি ছেলে সন্তানের আশা করেছিলেন। তার আশা করাটাও অমূলক ছিল না। একটি মেয়ে সন্তানের পর ছেলে সন্তান জন্ম হোক- এমন আশা প্রত্যেক বাবা-মাই করতে পারেন।

সেকারণে হয়তো আবার বাবা প্রথম দিকে মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করতেন। তারপরও মা ভেঙে পড়েননি। বাবাকে বুঝানোর চেষ্টা করতেন এটা আল্লাহর দান। তোমার আমার কারোর হাত নেই।

আমার দাদা-দাদির মৃত্যুর পর আমাদের আলাদা করে দেয়া হয়- শুধু এক কেজি চাল দিয়ে। আর সম্পত্তির দলিল সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় বাবার সম্পত্তি লিখে নেন বড় আব্বু। মা তখন নিজের গহণা বিক্রি করে বাবাকে জমি কিনে দেন।

আমাদের এত অভাবের মধ্যও মায়ের ইচ্ছায় বাবা আমাকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করে দেন। বাবাও সংসারে মন দেন। জমি চাষ শুরু করেন।

শত কাজের মাঝেও মা আমাদের পড়িয়েছেন, কোনো কিছু চাইবার আগেই কেমন করে যেন বুঝে গিয়ে সব আবদার পূরণ করতেন। আর বাবা, সেইভাবে তার ভালবাসার কথা প্রকাশ করতেন না। কিন্তু আমি বুঝতাম বাবাও আমাদের ভালবাসতেন মায়ের মতই। মেলা থেকে নিয়ে আসা বাবার ছোটছোট খেলনাগুলোতে মিশে থাকতো ভালবাসা মায়া মমতার বিন্দু।

সংসারের এই টানাপোড়ন মা-বাবা আমাদের বুঝতে দেননি কখন। সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। তাই শত কষ্টের মাঝেও মা-বাবা আমাদের পড়াশোনা বন্ধ করাননি।

এরমধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় বেশ ভালভাবেই উত্তীর্ণ হই। অভাবের সংসারে এসময় সব মা-বাবাই চান মেয়েকে ভালো পাত্রস্থ করতে। কিন্তু আমার মা-বাবা তা চাননি। আমার নিয়ে তাদের আশা ছিল। এজন্য তাদের উৎসাহে আমি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকি।

এসএসসি পাসের পর আমি একটি সরকারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। মেসে থেকে পড়াশোনা করি। যেহেতু আমাদের সংসারের অবস্থা খারাপ ছিল সেহেতু মেস ও পড়াশোনার খরচ চালানোটাও কষ্টের ছিল বাবার পক্ষে।

তাই আমার পড়াশোনার খরচ যোগান দেয়ার জন্য বাবা ছোটখাট একটা কাজে যোগ দেন। আমি কি খাচ্ছি না খাচ্ছি ভেবে মা রান্না করে নিয়ে আমাকে খাইয়ে আসতেন। আমি এখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু আমার মা-বাবার ত্যাগের ফলে।

আমি জীবন দিয়েও মা-বাবার ঋণ কোনদিন শোধ করতেহ পারব না। আমার ছোট বোনকেও পড়াচ্ছেন তারা। এখন হয়ত কিছুটা চাপ কম পড়ছে, আমার পড়ার খরচ না থাকায়।

আমি চাকরির চেষ্টা করছি। কারণ আমি মা-বাবার পাশে থাকতে চাই। আমার জীবনের যে টুকু ভালো আছে তার বিনিময়ে আল্লাহ যেন তাদের ভাল রাখেন। আমি খুব খুব ভালবাসি তাদের যা হয়ত এই ৫০০ ওয়ার্ডের মধ্যে লিখে বা বলে বুঝানো যাবেনা।

I love them so much.......

লেখক : মাস্তুরা আক্তার

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad