ধুম নদীকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ধুম নদীকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা

রংপুর প্রতিনিধি ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

print
ধুম নদীকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় শান্ত শ্যামল সুবজে ঘেরা ঐতিহাসিক ধুমনদী। ধুম নদীর নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানে। শীত-গরম যেকোনো পরিবেশে এখানে সমাগম ঘটে সব বয়সের মানুষের। তরুণ-তরুণীদের এলাকাটি সবচেয়ে প্রিয়। স্বচ্ছ জলাধারের পাশে নিঝুম পরিবেশে ছায়ায় বসে মনের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অনেকেই খুঁজে নেয় এই স্থানটি। বিনোদন বিহীন উপজেলার তিন লাখ মানুষের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র এই ধুম নদী।

.

দেশীয় ও অতিথি পাখিদের জলকেলি খেলা দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ছুটে আসে এখানে। হারাগাছ পৌর শহর থেকে ২ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণে এবং কাউনিয়া সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ঐতিহাসিক ধুম নদীর অবস্থান। এর আয়তন ১৮৬.৩৬ একর। এই ধুম নদী নিয়ে নানা কথামালা রয়েছে।

বাংলার প্রথম ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক ছিলেন ভবানী পাঠক, মজনুশাহ ও জয়দুর্গা দেবী। কথিত আছে ধুম নদী তৈরি করা হয় ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের গোপন আখড়া হিসেবে। এ সময় দেবী চৌধুরানী ছিলেন ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের একজন অগ্রনায়িকা। নানা কথা প্রচলিত আছে যে, মন্থনা ও ব্রাহ্মনডাঙ্গার জমিদার নবেন্দ্র নারায়ন দেবী চৌধুরানীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তিনি শাশুড়ি কর্তৃক নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হন। মনের ক্ষোভে ও দুঃখে তিনি স্বামী গৃহ ত্যাগ করে চলে আসে। ভবানী পাঠক দেবী চৌধুরানীর দুঃখের কাহিনী শুনে তাকে পালিত কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে পারদর্শী করে তোলেন।

এরপর শুরু হয় অত্যাচারি ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। বিত্তাকার এ ধুম নদীর মাঝখানে তিনি গড়ে তোলেন গোপন আস্তানা। ধুম নদীটি মূলত ইউ বা অশ্বাঘুরাকৃতির। চতুর্দিকের মধ্যে তিন দিকে নদী আর এক দিক দিয়ে প্রবেশ পথ। অর্থাৎ শত্রুরা আক্রমণ করতে চাইলে একমুখী পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। এ কারণেই দেবী চৌধুরানী এ ধুম নদীর ভেতরের স্থানকে আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

নানা ইতিহাসে ঘেরা এই ধুম নদী রক্ষণাবেক্ষণে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে তৎকালীন মন্ত্রী মাইদুল ইসলাম ধুম নদীকে একটি পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলার এবং এলাকাটিকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বিনোদন প্রিয় মানুষের জন্য এ ধুম নদী এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে রংপুরের শ্রেষ্ঠ বিনোদনের একমাত্র কেন্দ্র।

এখানে বে-সরকারি উদ্যোগে একটি চিড়িয়াখানা গড়ে উঠলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হরিণ, পশু পাখি জব্দ করায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহাসিক এই ধুম নদীর বিশাল বিশাল আকৃতির মাছের ঢেউ তুলে যাওয়ার দৃশ্য, কত্তি বা চাপিলা মাছের সারিবদ্ধভাবে চলাফেরা, অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ, পান কৌড়ির ডুবে ডুবে মাছ শিকারের দৃশ্য আগন্তুকদের মন কাড়ে।

হয়তো একদিন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধুম নদী গড়ে উঠবে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে।

এসবি/বিএইচ/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad