নির্ভেজাল স্থাপত্যশৈলী, দারাসবাড়ি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

নির্ভেজাল স্থাপত্যশৈলী, দারাসবাড়ি

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
নির্ভেজাল স্থাপত্যশৈলী, দারাসবাড়ি

সুলতানি যুগের নির্ভেজাল স্থাপত্যশৈলী দেখার জন্য দারাসবাড়ি মসজিদ অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান। অনেক আগেই মসজিদের গম্বুজ ভেঙে গিয়েছে। তবে চারদিকের দেওয়াল বেশ ভালোভাবে টিকে আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা দিলেও- এখন পর্যন্ত পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করে নি।

শামসুদ্দিন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ কর্তৃক নির্মিত ৫৩৮ বছর পুরাতন আদি টেরাকোটা ও নির্মাণ শৈলী দেখতে সংস্কারের আগেই যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। মসজিদটির নির্মাণ সাল ৮৮৪ হিজরী বা ১৪৭৯ খিস্টাব্দ ও আদি নাম ফিরোজপুর মসজিদ। ১৫০৪ সালে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর কালক্রমে ফিরোজপুর মসজিদ দারাসবাড়ি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।

প্রায় ১০ ফুট চওড়া বারান্দার পিলার গুনলে বোঝা যায় এখানে ছোট ছোট ৭টি গম্বুজ ছিল। মসজিদের মূল ভবনের মাঝের ছাদ চারচালা স্থাপত্য রীতিতে মোট ৩টি চালা এবং চালা গুলো বাদেও বিশাল ইবাদত কক্ষের মোট গম্বুজ সংখ্যা ৯৮ টি।

মেহরাব সংখ্যা ৯টি। মেহরাবগুলো একই ধরণের দেখালেও টালির নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আছে। মেহরাবের নকশায় প্রায় ১৪ ধরনের টালি ব্যবহৃত হয়েছে। মহিলা নামাজিদের জন্য মসজিদে আলাদা স্থান (السيدات معرض) ও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে এ স্থানকে ‘লেডিস গ্যালারী’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটির পিলার ও কার্নিশ বরাবর জাফরি ইটের পাশাপাশি পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

বৃষ্টির পানি ছাদ থেকে বাইর ফেলার জন্য পাথরের downspout ব্যবহৃত হয়েছে। দেওয়াল নির্মাণে ইটের আকৃতি ছোট বড় করে দেওয়ালে ইটদিয়ে নকশা তৈরি করা হয়েছে। দেওয়ালের সৌন্দর্য বর্ধনে বাইরের দিকে প্রায় ২৯ ধরনের টেরাকোটার টালি ব্যবহৃত হয়েছে।

 

যেভাবে যাবেন: দারাসবাড়ি মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুরে অবস্থিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরত্ব। সিএনজি, অটো বা বাসে করে যাওয়া যায়।

তথ্য ও ছবি : বুরহানুর রহমান

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad