চাঁচড়া শিব মন্দির, যশোর

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪

চাঁচড়া শিব মন্দির, যশোর

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

print
চাঁচড়া শিব মন্দির, যশোর

চাঁচড়া শিব মন্দিরটি যশোর জেলার যশোর-বেনাপোল হাইওয়েতে অবস্থিত। এ মন্দির ৩২১ বছর পুরাতন। মন্দিরে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায়- শ্রী মনোহর রায় ১৬১৮ শকাব্দে (শতাব্দী নয়) বা ১৬৯৬ খ্রিঃ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মোঘল শাসকদের কাছে রাজা প্রতাপাদিত্যের পতনের পর তার অধিনস্ত রাজ্য যে কয়জন জমিদার 'রাজা' উপাধি ধারণ করে শাসন করতেন তন্মধ্যে শ্রী মনোহর রায় (১৬৪০-১৭০৫ খ্রিঃ) ছিলেন অন্যতম। কথিত আছে রাজা মনোহর তার রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে এ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। এক কালে মন্দিরের পাশেই রাজপ্রাসাদ ছিল। এখন তা শুধুই ইতিহাস। সে প্রাসাদের অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় নি।

মন্দিরটি ‘আট-চালা’ স্থাপত্য ঘরনার। এ স্থপত্যকে ‘আট-চালা’ রীতি বলা হলেও এটি মুলতঃ চারচালা। মূল চারচালা ছাদের মাঝে কিছুটা উঁচুতে আরেকটি ছোট চারচালা ছাউনি নির্মিত হয়। এ নির্মাণ কৌশল গম্বুজ/ উঁচু চারচালা যুক্ত ছাদের যে অনুবল তৈরি হয় তা উপস্থিত থাকে না, ও ঘরের ভেতরে ছাঁদের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পিলার ব্যবহার করতে হয়। 

টেরাকোটার ব্যবহারের কারণে পুরো মন্দিরটির বাইরের দিকে দারুণ নান্দনিক দেখায়। দেওয়ালে মুলতঃ ছাঁচ টেরাকোটা ব্যবহৃত হয়েছে। টেরাকোটায় ৮ ধরনের নকশা দেখা যায়। বিশেষতঃ ২টি নকশা খুবই সূক্ষ্ম (উল্লেখ্য যে- টেরাকোটাগুলোর অধিকাংশই আদি টেরাকোটার আদলে সংস্কারের সময় লাগান হয়েছে)। 

সামনের দিকে তিনটি খিলান প্রবেশ পথ আছে যার মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। পূর্বদিকেও একটি খিলান পথ আছ। অর্থাৎ মোট প্রবেশ পথ ৪টি। মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ৩১ ফুট ও প্রস্থ ২৭ ফুট এবং উচ্চতা ৩৫ ফুট। মূল শিব মূর্তিটি অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে এবং তদস্থলে বর্তমান মূর্তিটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পূজা-অর্চনা বন্ধ থাকার পর কিছুদিন হল পুনরায় তা চালু হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ মন্দিরটিকে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

শকাব্দ :

‘শকাব্দ’ ভারতীয় উপমহাদেশে বহুলপ্রচলিত এক প্রাচীন সৌর বর্ষ। এ অব্দ বঙ্গাব্দের ৫১৫ বছর পূর্বে এবং খ্রিস্টাব্দের ৭৮ বছর পরে প্রচলিত হয়। 

যেভাবে যাবেন : চাঁচড়া শিব মন্দির যশোর জেলার যশোর-বেনাপোল হাইওয়েতে অবস্থিত। যশোর মনিহার বাস স্ট্যান্ড থেকে চাঁচড়া ১৫ মিনিটের রিকশা বাহনের দূরত্ব। 

তথ্য ও ছবি : বুরহানুর রহমান   

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad