জার্নি বাই আদম চূড়া

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

জার্নি বাই আদম চূড়া

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৭

print
জার্নি বাই আদম চূড়া

অনেক বছর আগেই এডাম’স পিক (আদম চূড়া) সম্পর্কে জানতে পারি। কথিত আছে আদম (আঃ) কে প্রথম এই চুড়ায় প্রেরণ করা হয়। এবং তার একটি পদচিহ্ন নাকি এখনো সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। চুড়াটি একাদিক ধর্মবলম্বীর কাছে পবিত্র স্থান। জানার পর থেকেই সেখানে যাওয়ার একটি ইচ্ছা মনে মধ্যে গেঁথে বসেছিলো। ভাবছিলাম কবে যাওয়া যায় এই চূড়ায়।

.

সেই সূত্রে গত বছরের শেষ দিকে আমরা কয়েকজন টিওডি সদস্য মিলে প্লান করি একসাথে মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা ঘুরে আসার সেই সাথে সুযোগ হলে আদম চুড়া আহোরণ করার। তো আমরা সেই মোতাবেক টিওডি থেকে ইভেন্ট ক্রিয়েট করি ২০১৭ এর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা যাওয়ার। ইভেন্টে সদস্য সংখ্যা হতে হতে শেষ পর্যন্ত ৩০ জনে দাঁড়ায়। আমরা গত ২৮ তারিখ প্রথমে মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেই সেখানে ৪ দিন থাকার পরে আমরা চলে আসি শ্রীলংকা।

শ্রীলংকাতে আমরা ক্যান্ডি ও নুয়েরা ইলিয়া ঘুরে ৩য় দিনে আমরা এডাম পিক এর পাদদেশে পৌছাই দুপুরের আগে। আমরা আগে থেকেই জানতাম বৃষ্টির সিজনে আদম পিকের চূড়ায় থাকা পদচিহ্ন দেখতে দেয়না, সরকারিভাবে বন্ধ থাকে মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবং এই সিজনে চূড়ায় উঠতেও পর্যটকদের নিরুতসাহিত করা হয়। তার পরেও আমরা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নেই পদচিহ্ন দেখা যাক আর নাই যাক আমরা অন্তত একবার চূড়ায় আহোরণ করতে চাই। যেহেতু পরদিনই আমাদের কলম্বো ফেরার প্লান ছিলো তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আজকেই চুড়ায় আহোরণ করবো।

প্লান অনুযায়ী আমরা দুপুরের খাবার সেরে ১০ জন চূড়ায় উঠার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। আদম পিকের লোকাল গাইড আসতে একটু দেরি করায় বিকাল ০৪:৪৫ এ হোটেল থেকে হাটা শুরু করলাম গ্রুপের সবাই একসাথে। বাকী ২০ জন আমাদের এগিয়ে দিতে এলেন সিড়ি শুরু স্থান পর্যন্ত।

আমরা বিকাল ৫ টায় ষ্টার্টিং পয়েণ্ট থেকে সিড়ি দিয়ে উঠা শুরু করি। স্থানীয় জনগনের মতে ষ্টাটিং থেকে চুড়া পর্যন্ত ৫৪৯৪ টি স্টেপ এবং আনুমানিক সারে পাচশ মিটার উচু। অনেক কষ্টে আমরা ১০ জনই রাত সারে ৯ টার একটু পর চুড়ায় আহোরণ করতে সক্ষম হই। পথে মেঘ ঝড়, পেশি শক্তি ও নিজ নিজ হৃতপিণ্ডের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করেই চূড়ায় পৌছাতে হয়। সেখানে আমরা ৩০ মিনিটের মতো থাকি সেসময় আমাদের সাথে বহন করা বিস্কুট পানি খেয়ে একটু বিশ্রাম নেই। উল্লেখ্য তখন চূড়ায় তাপমাত্রা ছিলো ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমরা সবাই সাথে রেইন কোর্ট নেওয়ায় ঘন মেঘ ও ঠাণ্ডার হাত থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া গেছে।

উঠতে উঠতেই আমাদের সকলের পায়ের পেশী ব্যাথা হয়ে গেছে, যখন নামা শুরু করলাম তখন মনে হতে লাগলো এ যেনো উঠার চেয়ে এখন নামাই বেশি কঠিন মনে হচ্ছে। নামতে নামতে প্রায় সবারই পায়ের পেশী ফুলে যেতে লাগলো ও পা ও হাতের আঙ্গুলগুলো মনে হচ্ছিলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে বানানো সিড়িতে অন্ধকারতম পথে উঠতে ও নামতে কষ্ট হলেও উত্তেজনাটাও কম ছিলো না। আমরা সেখান থেকে নেমে হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত সারে ১২ টা বেজে যায়। আমাদের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করাই ছিলো। আমরা ফিরে কোনো রকম হালকা খেয়ে দেয়ে সেদিনের মতো ঘুম। সকালে উঠে আমাদের ১০ জনের হাটার এ্যাকশনই চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিলো। শুধু মনে হচ্ছিলো সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দিবো কোথা।

তথ্য ও ছবি : TOD

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad