বর্ষায় বাইক্কার বিলের অন্য সৌন্দর্য

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪

বর্ষায় বাইক্কার বিলের অন্য সৌন্দর্য

বুরহানুর রহমান   ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৭

print
বর্ষায় বাইক্কার বিলের অন্য সৌন্দর্য

পরিযায়ী পাখির অভয় আশ্রম হিসেবে বেশ বিখ্যাত। এখন পাখি নেই, শীতকালে আসবে। বর্ষায় ওয়াচ টাওয়ার ও আশেপাশে যাওয়ার রাস্তা ডুবিয়ে দিয়েছে। পাখি ও মাছের নিরাপদ জলভূমি বানাতে এখানে অনেক কাজ হয়েছে। বর্ষাতে কাচা রাস্তায় গাড়ি চলে না। তাই কাদা রাস্তাতেই হাটতে হয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার। ঠিক আগের দিন হামহাম হাঁটার কারণে আমাদের ২জন গ্রুপ মেম্বার অর্ধেক রাস্তা থেকে ফিরে এসেছেন। রাস্তায় অদ্ভুত ক্ষুধার্ত এক সদস্যের জন্য পাশেই এক মাছের খামারে রান্না করে খেতে হয়েছে। ধন্যবাদ হাফিজ হুজুরকে। উনি শিক্ষকতা পেশা বাদ দিয়ে এখন ৩০০ বিঘার মাছের খামারের ম্যানেজার। উনি খুব দ্রুত বিশাল সাইজের রাজ হাঁসের ডিম, চালডাল, মসলা-পাতি এবং হাড়ি ও চুলার ব্যাবস্থা করে দিলেন। আর আমরা করে ফেললাম চড়ই-ভাতি। নৌকাতে বিলে ঘুরে খুব মজা পেয়েছি। শ্রীমঙ্গল থেকে বরুনা ত্রিমহনি হয়ে যেতে হয়।

বাইক্কা বিল, ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মৌলভীবাজার জেলার প্রখ্যাত চা-সমৃদ্ধ শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড়ের পূর্বদিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম। ১ জুলাই ২০০৩ তারিখে বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলটিকে মৎস্য সম্পদের একটি অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়।

আইড়, কই, মেনি, ফলি, পাবদাসহ আরো অনেক প্রজাতির মাছ এখানে বংশবৃদ্ধি করে পুরো হাওড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিল মাছের জন্যেই শুধু নয়, পাখি এবং অন্যান্য অনেক প্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল।

এটি একটি নয়নাভিরাম জলাভূমি যেখানে হাজারো শাপলা আর পদ্ম ফুল ফোটে। এছাড়া এই বিলের বুনো বাসিন্দা আর শীতে আগত পরিযায়ী পাখিদের ভালোভাবে দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। 

দর্শনীয় বস্তু :

বিলের কিনারে ফোটে হাজারো পানা, শাপলা আর পদ্মফুল। বিলের পানিতে সকাল-সন্ধ্যা চলে রঙ্গীন ফড়িংয়ের বিরতিহীন উড়াউড়ি। বৃষ্টিহীন উষ্ণদিনে বিলের ফুলের পাশে আসে আরো একদল পতঙ্গপ্রজাতি। প্রকৃতিপ্রেমীর চোখে পাখিই এই অভয়াশ্রমের সেরা প্রাণী। শীত মৌসুমে এখানে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।

এই বিলের উল্লেখযোগ্য পাখি- পানকৌড়ি, কানিবক, ধলাবক, গোবক, ধুপনিবক, রাঙ্গাবক, দলপিপি, নেউপিপি, পান মুরগি, বেগুনি কালেম, কালোমাথা কাস্তেচরা, শঙ্খ চিল, পালাসী কুড়া ঈগল। শীতের অতিথি হয়ে এই বিলে আসে অনেক জাতের সৈকত পাখি।

এদের মধ্যে- গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা চিটি আর কালাপঙ্খ ঠেঙ্গী, ধলা বালিহাঁস, পাতি সরালী, রাজসরালী, মরচেরং, ভূতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঙ্গাহাঁস, গুটি ঈগল । 

পরিযায়ী পাখির সমাগম :

বাইক্কা বিলে প্রতি বছর শীত মৌসুমে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। ২০১১ খ্রিস্টাব্দের এক গবেষণায় বাইক্কা বিলে ২০৩টি প্রকার পাখি শনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে পরিযায়ী পাখি ১৫৩টি এবং স্থায়ী বসবাসকারী পাখি ৫০টি।

বাইক্কা বিলকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করায় পাখির সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক বেড়েছে। দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির চলাচল, গতিবিধি, পর্যবক্ষেণ ও পাখির জীবনাচরণের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষেণার জন্য পাখিদের পায়ে রিং পরানো হয়েছে। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ৩১ প্রজাতির পাখির পায়ে শনাক্তকারী আংটি পরানো হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ১৭ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এবং ১৪ প্রজাতির স্থায়ী বসবাসকারী পাখি। ২০১১ সালে নতুন ৪টি পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের পাখি পর্যবেক্ষকদের মতে ওগুলেো হলো: ‘বড়ঠুঁটি নলফুটকি, ‘উদয়ী নলফুটকি’,’ বৈকাল ঝাড়ফুটকি’ ও ‘সাইক্সের ফুটকি’। 

যেভাবে যাবেন :

শ্রীমঙ্গল থেকে বাইক্কা বিলে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো পরিবহন সেবা নেই। তাই যেতে হবে নিজস্ব কিংবা ভাড়া কারা গাড়ি করে। শ্রীমঙ্গল থেকে সারাদিনের জন্য বাইক্কা বিলে যাওয়া আসার জন্য সিএনজি চালিত বেবি টেক্সির ভাড়া পড়বে ১ হাজার ২শ থেকে দেড় হাজার টাকা।

আর জিপ কিংবা মাইক্রোবাসের ভাড়া পড়বে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরের সামনে থেকে লোকাল অটোরিকশায় চড়ে যেতে হবে বরুনা বাজার।

জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা। সেখান থেকে অটো রিকশায়ও যাওয়া যায় বাইক্কা বিল। বাইক্কা বিল থেকে ফেরার সময় বাহন পাওয়া কঠিন 

ছবি : বুরহানুর রহমান

তথ্য : আংশিক সংগৃহীত 

ইসি/ 

print
 

আলোচিত সংবাদ