মাটি জলের কাছাকাছি, নতুন ঢাল চর, ভোলা

ঢাকা, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ১৫ বৈশাখ ১৪২৪

মাটি জলের কাছাকাছি, নতুন ঢাল চর, ভোলা

বুরহানুর রহমান ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৭

print
মাটি জলের কাছাকাছি, নতুন ঢাল চর, ভোলা

চর আলম আর ঢালচর এক সময় অবিছিন্ন ছিল। এখন মাঝ দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার প্রশস্ত মেঘনা নদী বয়ে গেছে। নদী ভাঙনে ২টি সাইক্লোন সেন্টার সহ চরের সবচেয়ে জমজমাট অংশ ভেঙে গেছে। কাছেই সমুদ্র। তাই একটু বাতাসে এ নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। আমরাই সম্ভবত, প্রথম ভ্রমন দল, যারা এ দ্বীপে রাতে থাকার জন্য ক্যাম্প করেছিলাম। চর আলমে কোন স্থায়ী বাসিন্দা নেই। ঘন ক্যাওড়া বন আর মাঝে মাঝে বিস্তীর্ণ সবুজ ও সমতল মাঠ চোখে দারুণ স্বস্তি দেয়। আমরা ঠিক সন্ধ্যায় চর আলমে পৌছালাম। ভাটার সময় হওয়ায় বেশ খানিকটা থকথকে কাদা পেরিয়ে শুকনো পাড়ে উঠতে হয়েছে। ঝটপট তাঁবু টাঙ্গিয়ে আমরা রাতে রান্নার প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম। অমৃতসম খাবার আর কিছুক্ষণ আড্ডার পর আমরা দ্রুত ঘুমাতে গেলাম। কারণ পরের দিন ভোরে চর ঘুরতে বের হতে হবে।

চর আলম ও চর নিজাম পাশাপাশি। চিকন একটি খাল (হোচ খাল) চর ২টি কে আলাদা করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম সাংসদ থাকাকালীন নিজের নামে এ চরের নামকরণ করেছিলেন “চর আলম”। গুগলম্যাপে চরটিকে “নতুন ঢাল চর” নামে দেখায়। ঢালচরের বাসিন্দারা এ চরকে পূর্বচর বলেন। কাগজে-কলমে এ চরটি এখনও ১৯ নং ঢালচর ইউনিয়ানের আওতাধীন “চর আলম”।

যেভাবে যাবেন :

ঢালচর ভোলার চর ফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার একটি ইউনিয়ান (কিছুদিন আগেও এটি মনপুরা থানার অন্তর্ভুক্ত ছিল)। যেতে হবে ভোলার চর ফ্যাশন থেকে নৌকায় বা গাড়ীতে করে চর কচ্ছপিয়া ঘাট।

কচ্ছপিয়া থেকে রিজার্ভ নৌকা, ছোট লঞ্চ বা লাইনের লঞ্চে করে ঢাল চর যেতে হয়। সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। লাইনের লঞ্চ ঢালচর থেকে সকাল ৯টায় ছাড়ে এবং বিকেল ৩টায় চর কচ্ছপিয়া থেকে ফেরত যাত্রা শুরু করে। ভাড়া নিলে সামুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলো ভাড়া নেওয়া বেশি নিরাপদ। কারণ সঙ্গদোষে মেঘনা নদী প্রায়ই সমুদ্রের মতো উত্তাল হয়ে উঠে, তখন দর্শনধারী লঞ্চের চেয়ে মাছ ধরার ট্রলারগুলোই অধিক নিরাপদ।

স্থানীয় মাঝিরা লাইফ জ্যাকেট ব্যাবহার করেন না, নৌকাতেও রাখেন না। তাই ঘুরতে গেলে লাইফ জ্যাকেট লিস্টের এক নাম্বারে রাখাটা অধিক সঙ্গত; কারণ আগে নিরাপত্তা। থাকার জায়গা বলতে একটি সাইক্লোন সেন্টার, ইউনিয়ান পরিষদ অফিস বা ফরেস্ট অফিসের গেস্ট হাউস। তাবু টাঙিয়েও থাকা যায়। শিয়ালের উপদ্রব থাকায় লোকসংখ্যা কম হলে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা ভালো। স্থানীয়রা বেশ অতিথিপরায়ণ।

তথ্য ও ছবি : বুহানুর রহমান

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ