কারুকাজে অনন্যা বাঘা শাহী মসজিদ

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৬

কারুকাজে অনন্যা বাঘা শাহী মসজিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

কারুকাজে অনন্যা বাঘা শাহী মসজিদ

বাঘা শাহী মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। এই মসজিদটি রাজশাহী শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত। বাঘা উপজেলা সম্পর্কে আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে রাখি। বাঘা উত্তর বঙ্গের এক প্রাচীনতম নগরী। ইতিহাস পর্যালোচনা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে এর সত্যতা প্রমাণিত হয়। পদ্মার উপকূলবর্তী এই প্রাচীন নগরীতে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘শাহী মসজিদ’ যার শিলালিপি, কারুকাজ ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের আকৃষ্ট করে।

বহুযুগ ধরে স্থানটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। দলিল দস্তাবেজ থেকে জানা যায় ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরী ৯৩০) হোসেন শাহ এর পুত্র নুসরাত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৬ ফুট। কালো পাথরের ০৪ টি থামের উপর মসজিদটি দাঁড়িয়ে রয়েছে, যার ছাদে আছে ০৪টি গম্ভুজ, পশ্চিম দেয়ালে ০২টি বড় এবং ০১টি ছোট মেহরাব। মসজিদের ভিতর ও বাহির দেয়ালে আরবীয় কারুকার্য খচিত ইট পাথর দ্বারা সুসজ্জিত। যার প্রতিকৃতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পঞ্চাশ টাকার নোটে শোভা পাচ্ছে। মসজিদের গাঁ ঘেষে উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল এক দীঘি। যা মসজিদটির সমমাময়িক।

দীঘির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ৬০০ ফুট। দীঘির পানি খুবই স্বচ্ছ এবং এর চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি দ্বারা সুসজ্জিত। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে বহু অতিথি পাখি এই দীঘিতে ভীড় জমায়। যার মনোরম দৃশ্য এবং মসজিদের স্বকীয় প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও এর কারুকাজ ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের পাথেয় হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

এখানে আরো আছে অসংখ্য শাহ সুফীদের পবিত্র কবর এবং মাজার শরীফ। বাঘার আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সুবিশাল দীঘি। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দীন হুসাইন শাহ্ ছেলে নাসির উদ্দীন নুশরত শাহ্ মসজিদের সঙ্গেই জনকল্যাণের নিমিত্তে খনন করেন এ দীঘি। শাহী মসজিদ ও মাজার সংলগ্ন এ দীঘিটি ৫২ বিঘা জমির উপরে রয়েছে।

প্রতি শীত মৌসুমে সুদুর সাইবেরিয়া থেকে এ দীঘিতে আগমন ঘটে অসংখ্য অতিথি পাখি। যা ভ্রমণবিলাসী মানুষের নজর কাড়ে। এখানে রয়েছে পিকনিক কর্ণার। প্রতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে বাঘায়। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে এটি পুনঃখনন করানো হয়। নতুন করে বাঁধানো এর ৪ পাড়ে লাগানো হয়েছে সারি সারি নারিকেল গাছ। ফলে বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত দীঘি ও মসজিদের সৌন্দর্য্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রমণ বিলাসী মানুষের মন কাড়তে এই স্থানের কোনো জুড়ি নেই। যারা এখনো বাঘা শাহী মসজিদটি দেখেননি, আশা করছি তারা অবশ্যই এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি এসে নিজ চোখে দেখে যাবেন। এই মসজিদ সম্পর্কে আপনাদের মুল্যবান মতামত ও তথ্য আমাদেরকে জানানোর অনুরোধ রইল।

ইসি

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও