নাগাদের রাজ্যে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

নাগাদের রাজ্যে

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৮

print
নাগাদের রাজ্যে

নাগাল্যান্ড রাজ্যে নাগা উপজাতির অন্তত ষোলটি প্রধান সম্প্রদায় বসবাস করে — আঙ্গামি, আও, চাকেসাং, কোনিয়াক, কুকি, কাচারি, সুমি, চাং, লোথা, প্রচুরি, তাংগুল প্রভৃতি। এই প্রতিটি উপজাতির নিজের নিজের উৎসব রয়েছে। এই উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর প্রধান প্রধান উৎসবগুলো একই সময়ে একই জায়গায় আয়োজন করার জন্য নাগাল্যান্ড সরকারের উদ্যোগে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের এক তারিখ থেকে সাত তারিখ কোহিমাতে অনুষ্ঠিত হয় ‘হর্ণবিল উৎসব।

কিছুটা কৃত্রিমতা থাকলেও এই উৎসবে নাগাদের উৎসবের বৈচিত্র্যকে অনুভব করা যায়। প্রায় প্রত্যেক উপজাতি এই উৎসবে তাদের প্রধান উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত পোশাকে সজ্জিত হয়ে সেই উৎসবের নাচ গান পরিবেশন করেন। নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা থেকে ১২ কিলোমিটার গেলে ‘কিসামা হেরিটেজ ভিলেজ’। এখানেই প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হয় সাত দিনের আদিবাসী উৎসব।

প্রতি বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ তাই কিসামা গ্রাম নাগা জনজাতির মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সারা দিন ধরে চলে নাচ, গান, প্রথাগত খেলা, তিরন্দাজি থেকে পেন্টিং, ভাস্কর্য ইত্যাদি আরও নানা ধরনের প্রদর্শনী। প্রত্যেক উপজাতি তাদের নিজস্ব পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে পুরো অঞ্চলটি রঙিন ও উৎসবমুখর করে তোলে, যার শব্দগত বর্ণনা একেবারেই দৃশ্যের পরিপূরক নয়।

এই উৎসবের আরও একটি দিক আছে। সেটি হলো ‘হর্নবিল রক ফেস্টিভ্যাল’। নাগাসহ উত্তর-পূর্বের প্রতিটি রাজ্যের জনজাতিদের কাছেই ‘রক মিউজিক’ একটি অতি ভালো লাগার বিষয়। এদের প্রায় প্রত্যেকেরই নিজস্ব একাধিক রক ব্যান্ডও আছে। তাই জনজাতির উৎসবে রক মিউজিক থাকাটা অনিবার্য।

‘হর্ন বিল রক ফেস্টিভ্যাল’ তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হর্নবিল উৎসবকে আন্তর্জাতিক করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। কিসামা গ্রামের অদূরেই ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রক গানের আসর বসে। দেশি, বিদেশি বহু অখ্যাত-বিখ্যাত ব্যান্ড পারফর্ম করে। দর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকেন দেশির থেকে বেশি বিদেশি পর্যটক। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই উৎসবটি তাই ‘ফেস্টিভ্যাল অফ ফেস্টিভ্যালস’-এর তকমা পেয়েছে।

নাগাল্যান্ড যাওয়ার উপায় এবং বিদেশিদের জন্য এফআরও:

নাগাল্যান্ড আপনি শিলং থেকেও যেতে পারেন আবার গোহাটি থেকেও যেতে পারেন। প্রথমে ডাউকি বর্ডার পার হয়ে ডাউকি থেকে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে অথবা শেয়ার করে শিলং যেতে হবে। শিলং পর্যন্ত ট্যাক্সি রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ১৫০০-১৮০০ রুপি। আর শেয়ারে গেলে জনপ্রতি ১৫০ রুপি। শিলং থেকে নাগাল্যান্ড যাওয়া যায় দুইভাবে। সরাসরি বাস সার্ভিস আছে শিলং থেকে নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা পর্যন্ত। ভাড়া জনপ্রতি ৭০০ রুপি। আবার ৭ সিটের ইনোভা গাড়িতেও যেতে পারেন। জনপ্রতি ১২০০ রুপি।

এ ছাড়াও গোহাটি থেকেও নাগাল্যান্ড যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আপনাকে শিলং থেকে ট্যাক্সি করে যেতে হবে গোহাটি। ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ রুপি। গোহাটি থেকে নাগাল্যান্ড এক্সপ্রেস ট্রেনে যেতে পারেন ডিমাপুর। নাগাল্যান্ড এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১১.৩৫ মিনিটে ছাড়ে। ভাড়া ১৫০-৮৫০ পর্যন্ত।

ভোর ৫টায় ট্রেন আপনাকে ডিমাপুর নামিয়ে দেবে। ডিমাপুর থেকে ট্যাক্সি করে কোহিমা। ভাড়া জনপ্রতি ৪০০-৫০০ রুপি। ৪ ঘণ্টার মতো লাগবে কোহিমা পৌঁছাতে। রাস্তা খুবই বাজে।

বিদেশিদের জন্য নাগাল্যান্ডে ঢোকার নিয়ম হচ্ছে নাগাল্যান্ডে পৌঁছানোর পর লোকাল থানা থেকে এফআরও এন্ট্রি করে নেওয়া আর ইন্ডিয়ানদের ক্ষেত্রে আইএলপি (Inner Line Permit) নেওয়া। বিদেশিরা যদি লোকাল থানা থেকে FRO না নেয় তাহলে চেক পোস্টে আটকে দেয়। নাগাল্যান্ড ঢুকতে হলে অবশ্যই আপনাকে লোকাল থানা থেকে পারমিশন নিয়ে ঢুকতে হবে। খুবই সোজা ব্যাপার। যেকোনো লোকাল থানায় গিয়ে পাসপোর্ট দিলেই ওরা এন্ট্রি করে নেবে।

আসুন ভ্রমণে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকি।

অথ্য ও ছবি: দ্বীপ বিশ্বাস

ইসি/আরপি

 
.



আলোচিত সংবাদ