বৃক্ষপ্রেমিদের ঈদ ভ্রমণ

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

বৃক্ষপ্রেমিদের ঈদ ভ্রমণ

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৮

print
বৃক্ষপ্রেমিদের ঈদ ভ্রমণ

বৃক্ষ প্রেমিদের সংখ্যাটা কিন্তু নেয়াতই কম নয়। অনেকেই আছেন যারা নানা জাতের গাছ গাছারী দেখার জন্য নানা দেশে ঘুরে বেড়ান। আবার অনেকে আছেন যারা তাদের বাগানের গাছ নষ্ট হবে বলে ছুটিতে কোথাও যেতে চান না। আবার অনেকেই আছেন যারা ভ্রমণের জন্য প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এমন জায়গা যেখানে অনেক গাছ আছে। এমন বৃক্ষ প্রেমিদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজন। আমরা আজ আপনাকে জানাবো পৃথিবীর সব চাইতে সুন্দর কিছু বাগানের কথা। আপনি আপনার ঈদের ছুটি কাটাতে যেতে পারেন এমন কোনো একটি বাগানে। আসুন তাহলে জেনে নেই বাগানগুলো সম্পর্কে।

১. মিরাকল গার্ডেন, দুবাই

আচ্ছা কেমন বাগান দেখতে আপনি পছন্দ করেন? যেখানে শুধু ফুল আর ফুল। নাকি যেখানে ফুল ও বেড়ানোর জায়গা একসাথে হলে ভালো লাগবে? আচ্ছা এমন হলে আপনার কেমন লাগবে যেখানে ফুল, পাখি, লতা, পাতা, ঘর-বাড়ি, ঘড়ি, প্লেন এমকি পিরামিডও ফুলের সাথে মিশে আছে। এমন একটা বাগান দেখলে মনে হবে না? এটা বাস্তবে সম্ভব নয় এটা শুধু মিরাকলেই হবে পারে! জি আপনি কিছুটা হলেও সত্যি ধারণা করেছেন। এটা শুধু মিরাকলেই সম্ভব। অর্থাৎ এটা সম্ভব দুবাইয়ের মিরাকল গার্ডেনে। দুবাই মিরাকল গার্ডেন এমন একটি ফুলের বাগান যেখানে আপনি বেরাতে গেলে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। মিরাকল গার্ডেনের সৌন্দর্য এতটাই চমকপ্রদ যে দেখতে দেখতে আপনার চোখ ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাগান এটি।

দুবাই মিরাকল গার্ডেনে রয়েছে রয়েছে অনেক দুলর্ভ প্রজাতির ফুলসহ হরেক রকম প্রজাতির প্রায় ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি ফুলের অপূর্ব সমাহার। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ফুল আনা হয়েছে। কিছু ফুল এমন আছে যা এই অঞ্চলের না। সেগুলো এখানে প্রথবারের মতো লাগানো হয়েছে।

তাছাড়া ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই মিরাকল গার্ডেন প্রথমবারের মতো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর বাগানটির বৈশিষ্ট্য ও আপন মহিমার জন্য ইতোমধ্যে ওয়ার্ল্ড গিনেস বুকেও স্থান করে নিয়েছে।

ফুল বাগানটিকে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন রকম রঙিন ফুলের গাছ দিয়ে। এই ফুল গাছগুলোকে আবার হার্ট, তারা, গাড়ি, ইগলু, প্লেন, প্রজাপতি, চায়ের কাপ, ফুল ঘড়ি, মৎস্য কন্যা, পিরামিডসহ বিভিন্ন আকৃতির রূপ দেওয়া হয়েছে। এবং সব কিছুই করা হয়েছে নানা জাতের তাজা ফুল গাছ দিয়ে।

বাগানটির আয়তন ৭২ হাজার বর্গমিটার। এছাড়াও এখানে রয়েছে ওপেন পার্কিং সিস্টেম, ভিআইপি পার্কিং সিস্টেম, সিটিং এরিয়া, ধর্মকর্মের আলাদা জায়গা, টয়লেট ব্লকস, হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং এর জায়গা থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছুর সুবিধা।

আপনি যদি ফুল ও বাগান প্রেমী হয়ে থাকেন। আর যদি আপনার ভ্রমণ তালিকায় দুবাইয়ের নাম থেকে থাকে, তাহলে আপনার কোনোভাবেই দুবাই মিরাকল গার্ডেনে মিস করা ঠিক হবে না। কারণ এই বাগান একবার পরিদর্শন করলে আপনি সারা জীবন সেই সৌরভ নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবে।

২. মনেট গার্ডেন, ফ্রান্স

একজন শিল্পী যখন ক্যানভাসে রঙ, তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন তখন তিনি তার মনের সব রঙও সেই ক্যানভাসে ঢেলে দেন। আর যখন কোনো চিত্র শিল্পী বাগান সাজাতে শুরু করে দেন তখন কিন্তু সেই বাগানো হবে তার ক্যানভাসের মতোই সুন্দর। ঠিক তেমনটাই হয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত একটি বাগান মনেট গার্ডেনে। চিত্র শিল্পী ক্লড মনেট তার মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করেছেন এই এই বাগানটি।



মনেট গার্ডেন ফ্রান্সের বিখ্যাত বাগানের একটি। দর্শনার্থীদের মন মাতাতে এই বাগান তার রুপ লাবণ্যে সর্বদায় এক ধাপ এগিয়ে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫,০০,০০০ লাখ লোক এখানে ঘুরতে আসে। সুন্দর মনেট গার্ডেনটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত, যার একটি অংশ ক্লস নরম্যান্ড নামে ও অন্য অংশটি জাপানিজ শিল্পকলায় উজ্জীবিত হয়ে জলজ বাগান বা ওয়াটার গার্ডেন নামকরণ করা হয়েছে।

প্রথম অংশের বাগানটি প্রায় এক হেক্টর জায়গায় বিভিন্ন রঙ ও জাতের টিউলিপ, অরিয়েন্টাল পপি, আইরিশ এবং আরো অনেক ফুলে সুরভিত। যা চিত্রশিল্পী মনেটের বর্ণিল ছবি আঁকায় অনেক রসদ যুগিয়েছে। আর জলজ বাগানে মনেটের বিখ্যাত চিত্রকর্মের আদলে একটি জাপানিজ ব্রিজের রেপ্লিকা রয়েছে যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

৩. বাটচার্ট গার্ডেন, কলাম্বিয়া

আপনি যেদিন প্রথম সেখানে যাবেন, বাগানটি দেখবেন মনে হবে আপনি একটি ক্যানভাসের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি দেখছে। বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আপনি হয়তো নিঃশ্বাস নিতেই ভুলে যাবেন কিছুক্ষণ। এমনই একটি বাগান হচ্ছে বাটচার্ট গার্ডেন। শীত থেকে শুরু করে গ্রীষ্ম, সারা বছর বাটচার্ট থাকে বসন্তের মতোই সতেজ।

১৯০৪ সালে স্থাপিত বিশ্বের প্রাচীন ও সুন্দরতম ফুলের বাগানের মধ্যে বাটচার্ট গার্ডেন অন্যতম বলা হয়ে থাকে। প্রতি বছর মিলিয়নেরও বেশি দর্শনার্থীকে তার আকর্ষনে মুগ্ধ করে রাখে। 

দৃষ্টি নন্দন বাগানটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের রাজধানী ভিক্টোরিয়ার কাছে ব্রেন্টউড বে’র ভেনকুভের দ্বীপে প্রায় ৫৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। সমগ্র বাগানটি প্রায় ৩,০০,০০০ লাখ ফুল গাছে পরিপূর্ণ।

আপনি যে ঋতুতেই যান না কেনো বাটচার্ট গার্ডেনের আলাদা আলাদা রূপ দেখতে পাবেন। কারণ সব ঋতুতেই এখানে নানা রঙয়ের ফুল ফোটে।

আর ঋতুরাজ বসন্তে যদি যান তাহলেতো আপনি পৃথিবীর সব চাইতে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি দেখতে পাবেন। কারণ এই সময়তে বইতে থাকে ফুলের স্রোত। আপনার মনে হবে যেন আপনি কোনো ফুলের সমুদ্রে চলে এসেছেন।

এছাড়াও এই বাগানের আরো অন্য সব ডেকোরেশন আপনাকে অনেক অনেক বেশি মুগ্ধ করবে। ফুল গাছের মাঝ দিয়ে চলার পথ। কোথাও বা উপরে ওঠার জন্য শুরু সিঁড়ি। সব কিছুই আপনার নজর কাড়ার জন্য যথেষ্ট।

আর সব চাইতে আকর্ষনিয় বিষয় হচ্ছে এই বাগানের একটি স্থান আপনার ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রুপ দেখাবে। কোখনো লাল, কমলা আবার কখনো সবুজ, বেগুনী।

যদি ভ্রমণের উদ্যেশে কানাডা যাওয়া হয় তাহলে সময় করে অবশ্যই একবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া রাজ্যের রাজধানী ভিক্টোরিয়ার কাছে ব্রেন্টউড বে’র ভেনকুভের দ্বীপের বাটচার্ট গার্ডেন দেখে আসতে ভুল করবেন না।

৪. কোকেনাফ গার্ডেন,
বছরে মাত্র দুটি মাস, যেন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য নিয়ে তার নিজস্ব ডালী সাজিয়ে বসে। এমনই একটি জায়গা হচ্ছে কোকেনাফ গার্ডেন। অনেকে একে আবার কিচেন গার্ডেন নামেও চেনেন। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান এবং এটি প্রায় ৭৯ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। অবাক করার মতো তথ্য হলো, প্রতি বছর প্রায় ৭ মিলিয়নের মতো ফুলের চারা এই বাগানে রোপন করা হয়। যা বসন্তে রঙিন ফুলের সৌন্দর্য নিয়ে পর্যটকদের বিমোহিত করে রাখে।

আপনি বসন্তের সময় ওখানে বেড়াতে গেলে গ্রামের চারপাশ জুড়ে দেখতে পাবেন শুধু রঙিন ফুলের বাহার। এই ভ্রমণে আপনি দেখতে পাবেন হল্যান্ডের বিখ্যাত টিলিপগুলো। দেখে যেনো মনে হয় একটি ফুলের তোড়ায় মাঝে পুরো একটি গ্রাম সাজানো আছে।

এই ফুলের বাহার দেখতে গেলে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনি যখন তখন সেখানে গেলেই হবে না। কারণ বসন্তেন সময়টাতে মাত্র দুই মাসের জন্য খোলা রাখে এই বাগান।

তবে সুবিধা হচ্ছে আপনি এখানে বেড়াতে গেলে ভ্রমণ উপযোগী সব কিছুই পাবেন। কারণ এখানে পুরোদিন ব্যয় করার মতো পিকনিক স্পট হিসেবে এই বাগান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

আপনার যদি মাছ ধরার সখ থাকে, তাহলে এই রঙিন বাগানে বসে আপনি সেই কাজটিও করতে পারেন। কারণ এখানে লেকের পাড়ে মাছ ধরার ব্যাবস্থাও করা হয়।

এখানে যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন। যেমন: শুধুমাত্র মধ্য মার্চ থেকে মধ্য মে পর্যন্ত খোলা থাকে। লকার ব্যবহারের সুবিধা আছে। পার্কটি হুইলচেয়ার প্রবেশযোগ্য। সমস্ত পার্ক জুড়ে ওয়াইফাই ব্যবহারের ব্যাবস্থা আছে।

এছাড়াও বেড়াতে যাওয়ার আগে আপনি অবশ্যই সেখানকার টিকিট বুকিং ও অন্য সকল নিয়ম কানুন ভালো মতো জেনে গেলে ভালো করবেন।

৫. কোয়াচি ফুজি গার্ডেন, জাপান
কোয়াচি ফুজি গার্ডেনকে জাপানের অনেক সুন্দর জায়গাগুলোর মাঝে একটি বলা হয়ে থাকে। কোয়াচি ফুজি গার্ডেনের প্রধান আকর্ষন হচ্ছে উইস্টেরিয়া ফুল। বাগানের মাঝে উইস্টেরিয়া ফুল গাছগুলো এমনভাবে লাগান বা সাজানো হয়েছে যে আপনি যখন দেখবেন তখন মনে হবে নিশ্চই কোনো দক্ষ চিত্রশিল্পী তার রঙ,তুলি দিয়ে পুরো বাগানটিকে এঁকে রেখেছেন। দেখলে মনে হবে চোখের সামনে নানা রঙের ক্যানভাস ঝুলানো আছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে আপনি চাইলেই এই ক্যানভাসের ভিতরে ঢুকে যেতে পারবেন।

এই বাগানে সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হচ্ছে উইস্টেরিয়া ফুলে আবৃত দুটি টানেল, যার একটি ৮০ মিটার ও অন্যটি প্রায় ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের। প্রায় ২২ ধরনের উইস্টেরিয়া ফুল দিয়ে এই টানেলগুলো সাজানো হয়েছে। আপনি যখন এই টানেলের মাঝে প্রবেশ করবেন মনে হবে আপনি কোনো ফুলের রাজ্যা চলে এসেছেন। এই টানেল আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য কোনো দুনিয়াতে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বাগানটি বেসরকারিভাবে তৈরি করা হয়েছে। মশাও মিজোগুচি নামের একজন ব্যাক্তির একক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় এই বাগানটি তৈরি হয়েছে। ১৯৭৭ সালে প্রথম জনসাধারণের জন্য কোয়াচি ফুজি গার্ডেনের দরজা খুলে দেয়া হয়। এবং কোনো রকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই বাগানটি খুব দ্রুত জাপানে জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠে।

তবে আপনি যদি কোয়াচি ফুজি গার্ডেন, দেখতে চান তাহলে তার উপযুক্ত সময় হচ্ছে এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝে। আর মেয়ের শেষের সপ্তাহে কোয়াচি ফুজি গার্ডেন দেখে সবচাইতে বেশি মজা পাবেন। এই সময়টাকে এই বাগানে গোল্ডেন টাইম বলা হয়। কারণ এই সময় উইস্টেরিয়া ফুলগুলো তার সঠিক রং ও রূপ মেলে ধরে।

৬. নং নুছ ট্রপিক্যাল গার্ডেন, থাইল্যান্ড

নানা রঙের ফুল, নানা জাতের গাছ। অনেক মাথায় এমনই একটা ছবি অনেকের মাথায়ই ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কোথায় যাবেন, কোথায় পাবেন এমন ছবির মতো একটা জায়গা? একটা দিন পুরোপুরি যদি কাটাতে চান বাগানবিলাসে, তাহলে বেছে নিতে পারেন ৬০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত নং নুছ গার্ডেন। এই বাগানের সজ্জা অনেকটা থিম পার্কের মতো।

এখানে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, থাকার জায়গা এবং প্রতিদিন থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। সেখানে ক্লাসিক্যাল থাই নৃত্য, প্রাচীন ড্রাম পরিবেশনা থাকে। এ বাগানে প্রজাতি অনুযায়ী গাছগুলো সাজানো রয়েছে, যেমন- ক্যাকটাসের বাগান, অর্কিডের বাগান, ট্রপিক্যাল পাম বাগান এবং বনসাই বাগান।

বাগানটির উল্লেখযোগ্য একটি আকর্ষণ হলো ‘স্কাই-ওয়াক’। এটি ১.১ কিলোমিটারের একটি ছায়াময় উঁচু হাঁটার পথ, যেটি দিয়ে আপনি বনসাই বাগান, ইউরোপিয়ান বাগান, ট্রপিক্যাল পাম বাগান, বাটারফ্লাই হিল এবং স্টোনহেঞ্জ পাহাড়ের উপর দিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে প্যাডেল বোটের ব্যবস্থা।

যদি ভ্রমণে যেতে চান এই সুন্দর বাগানটিতে, তাহলে একা একা হেঁটে হেঁটে বাগানবিলাস উপভোগ করার চেষ্টাও করবেন না। ভালো হয়, যদি একটি সাইকেল ভাড়া করে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ান। অবশ্যই অর্কিড বাগানটি না দেখে আসবেন না, কেননা প্রায় ৬৭০ প্রজাতির অর্কিড দেখতে পারবেন একইসাথে!

গাছ, ফুল, বাগান ছাড়াও এখানকার যে জিনিসগোলো আপনাকে আকর্ষন করবে, তা হচ্ছে বাগেনর ভাস্কর্য ও তাদের পরিপাটি করে সাজানোর ব্যাপারটা। আপনি যেদিকেই যাবেন, মনে হবে যেন এই পথটা শেষ না হলেই বুঝি বেশি ভালো হতো। তাই যদি কখনো থাইল্যান্ড বেড়াতে যান তাহলে অবশ্যই পাতায়ার নং নুছ ট্রপিক্যাল গার্ডেন থেকে ঘুরে আস্তে ভুল্বেন না।

৭. টিউলিপের রাজ্যে, ব্রাসেলস
ব্রাসেলসের আবহাওয়া লন্ডনের মতোই। এই রোদ, এই বৃষ্টি। সকালে রোদ দেখলে যেমন আনন্দে লাফিয়ে ওঠার কিছু নেই, তেমনি বৃষ্টি দেখেও গোমড়ামুখে বসে থাকার মানে হয় না। এমনকি মাঝে মাঝে আবহাওয়ার ফোরকাস্টও মেলে না।

ডাচ শব্দ কিউকেনহফ অর্থ ‘হেঁশেল বাগিচা। এর মূল আকর্ষণ প্রাক গ্রীষ্মের এই পুষ্প প্রদর্শনী। আসলে টিউলিপের স্বর্গরাজ্য। ঊনআশি একর জায়গার ওপর এ বাগান। প্রতি বছর অন্তত সত্তর লাখ টিউলিপের মুকুল ফোটে এ সময়ে।

হেগ পেরিয়ে গেলেই পথের দু’পাশে পুষ্পশোভিত বাগান। বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে। দিগন্তজোড়া টিউলিপরাশি ডাচদের টিউলিপম্যানিয়া অবশ্য নতুন নয়। অনেকেরই জানা নেই, টিউলিপের আদি বাস ছিল হিমালয়ান অঞ্চলে। তিয়ান শান পর্বত এলাকায়। সেখান থেকে ষোড়শ শতকে তুরস্ক হয়ে এ ফুল পৌঁছায় নেদারল্যান্ডসে। তুর্কি সুলতানরা বসন্তকালে বাগানে টিউলিপ পার্টি করতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। ১৫৬০ সালে বেলজিয়ামে প্রথম টিউলিপ দেখা গেছে অ্যান্টওয়ার্প আর মেকেলেনে। আর ১৫৯৩ সালে লাইডেনের বোটানিক্যাল গার্ডেনে।

ঝটপট টিকিট কেটে প্রবেশাধিকার নিয়ে নিন। স্বেচ্ছাসেবীরা হাতে আপনার হাতে বাগানের মানচিত্র ধরিয়ে দবেল। মানচিত্র আর ব্রশিউরের কাজ তখন? যেদিকে তাকাই, ফুল আর ফুল। যেন পুষ্পরাজির সমুদ্রে এসে পড়লাম। হাজারো বরণ, হাজারো ধরন। শুধু টিউলিপই প্রায় দু’হাজার প্রজাতির। চলছে নিরন্তর গবেষণা। প্রতি বছর বাগানে যুক্ত হয় অন্তত শ’খানেক নতুন প্রজাতি।

প্রায় মিনিট ত্রিশেক ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক চলল, বলতে গেলে ঠায় দাঁড়িয়ে। কে যেন মনে করিয়ে দিলেন, বাগান ৩২ হেক্টরের। আর ফুল আছে ৭০ লাখ। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়ালে পুরো বাগান দেখতে সপ্তাহখানেক লাগবে।

পথের দু’পাশে সারি বাঁধা টিউলিপ বাগান। কোনোটি টকটকে লাল, কোনোটি কমলা, আবার কোনো বাগান বেগুনি, ফিরোজা, মেরুন, হলুদ কিংবা সাদা টিউলিপের। পথের পাশে যেন নানা প্রিন্টের গালিচা বিছানো। কখনো কখনো মনে হয়, বিশাল সমুদ্রে ছোট ছোট টিউলিপের ব্লকগুলো বর্ণিল ডিঙি নৌকা- যেখানে বাতি, মাস্তুল আর পাল- সবই অদ্বিতীয় বর্ণে সজ্জিত। বর্ণে-গন্ধে-ছন্দে এক ভুবনমোহিনী বিন্যাস। এ যেন মুহূর্তে মন আকুল করে দেয়া সম্মোহনী সূত্র! নাকি এ কোনো ইন্দ্রজাল।

সামনে অপূর্ব লেক। কয়েকটি নৌকাও আছে লেকের শান্ত জল সন্তরণে। দু’পাশে যথারীতি পুষ্পরাজির সমাহার। বিন্যস্ত। ছবির মতো। কোথাও কোথাও এমনভাবে সাজানো, যেন ফুল দিয়ে আঁকা হয়েছে বিমূর্ত কোনো শিল্পকর্ম।

লেক ছাড়িয়ে বেষ্টনী ধরে এগিয়ে গেলে জুলিয়ানা প্যাভিলিয়ন। সেখানে প্রদর্শনী চলছে ‘টিউলিপের ইতিহাস’ শীর্ষক।

ইসি/

 
.




আলোচিত সংবাদ