ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪

ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮

print
ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বড় কিছুর সাথে তুলোনা করে যদি সাইজে ছোট হয় সেটা তো ছোটই হবে। আর তাই গৌড়ের বড় সোনামসজিদের সঙ্গে তুলনা করে পরিমাপে ছোট বলে একে ছোট সোনামসজিদ বলা হয়। প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকন্ঠে ফিরোজপুর গ্রামে এ স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিলো, যা বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার অধীনে পড়েছে। বিশ টাকার নোটের উপর ছাপানো মসজিদটিই ছোট সোনা মসজিদ, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।

মসজিদের মাঝের দরজার উপর উপর প্রাপ্ত এক শিলালিপি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। তবে লিপির তারিখের অংশটুকু ভেঙ্গে যাওয়ায় নির্মাণকাল জানা যায়নি।

সুলতানি আমলের অনন্য স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ। বিশাল এক দীঘির দক্ষিণ পাড়ের পশ্চিম অংশজুড়ে এর অবস্থান। মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজ পড়ার আলাদা জায়গা। কারুকার্যখচিত মিহরাব আছে একটি।

মসজিদের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৮২, ৫২ ও ২০ ফুট। ইটের ইমারত হলেও এর বহির্গাত্র পাথর দিয়ে ঘেরা। মসজিদের গায়ের লতাপাতার কারুকাজও পাথরে খোদাই করা।

১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে এটি নির্মিত হয়।
এ মসজিদে চৌচালা ঘরের চালের মতো তিনটি গম্বুজ এবং চার সারিতে তিনটি করে আরো ১২টি গোলাকৃতি গম্বুজ। গম্বুজের তলদেশ ফুল, ফল ও লতাপাতার নকশা।

মসজিদের দরজাগুলোর প্রান্তদেশ বলিষ্ঠ শোভাবর্ধক রেখা দিয়ে ঘেরা। কিন্তু খোদাই কাজটি অগভীর এবং দালানের খুব কাছে না পৌঁছলে এ খোদাই কাজ চোখে পড়ে না।
দরজাগুলোর মধ্যবর্তী কুলঙ্গীগুলোতেও রয়েছে একই অগভীর খোদাই মসজিদটি ইট ও পাথরে নির্মিত।

কিভাবে যাবেন: ঢাকার কল্যাণপুর থেকে হানিফ, মডার্নসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ যাওয়া যায়। সময় লাগে সাত ঘণ্টা, ভাড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তারপর লোকাল বাসে ছোট সোনামসজিদ যেতে আরো এক ঘণ্টা লাগবে।

ইসি/

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad