ভ্রমণে ভোজন, কক্সবাজার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫

ভ্রমণে ভোজন, কক্সবাজার

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৮

ভ্রমণে ভোজন, কক্সবাজার

আমরা আগেও ভ্রমণে ভোজন নিয়ে লিখেছি। আজ তারই ধারাবাহিকতা আমরা যাবো কক্সবাজারে। ভ্রমণ মানেই নতুন নতুন জায়গার সাথে পরিচিত হওয়া। নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া। সব কিছু ছাড়িয় ভ্রমণের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ছুটির দিনে শহরের কলহল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা। একটু রিফ্রেশ হওয়ার জন্য। কিন্তু এর মাঝেও অনেকে আছেন যারা যেখানেই ভ্রমণে যান না কেনো তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে সেখানকার জনপ্রিয় খাবার চেখে দেখা। আর করবেই না কেন বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের খাবার এবং রান্নার ধরন কখনোই জন, হবে না সেটা জানা কথা। আর প্রতিটা অঞ্চলের খাবারের স্বাদও হবে আলাদা তাই চেখে দেখা উচিৎ কোনটা কেমন। তাহলে জানতে পারবেন খাবারের অনেক রকম-সকম। আজ আমরা জানবো কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই পর্যটন স্পট কক্সবাজারে এখন ফুড শপ আর রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি। পর্যটকরাও নিজের পছন্দ মতো সি-ফুড খেতে চলে যান রাস্তার পাশের দোকানগুলোয়। কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ থাকে সাগরের বিভিন্ন মাছের মেন্যুর প্রতি। বিশেষ করে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি মাছসহ মজাদার শুটকি মাছের ভর্তার প্রতিই পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকে।

তবে এত ভিড়েও পৌষী রেস্টুরেন্ট ঠিকই খাবারের মান ও স্বাদে পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
সাগরের তাজা মাছ তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে একেবারে বিশুদ্ধ বাংলা খাবার খেতে চাইলে পৌষী হতে পারে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ।

এই ধরনের আরেকটি রেস্তোরাঁ হলো ঝাউবন। অনেক পুরনো এই রেস্তোরাঁটি রূপচাঁদা ফ্রাইয়ের জন্য বিখ্যাত।

এছাড়াও কক্সবাজারেও গড়ে উঠেছে নানা মানের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। মারমেইড ক্যাফে, হান্ডির মতো রেস্তোরাঁতেও যাওয়া যেতে পারে ভিন্ন স্বাদের খোঁজে। তবে একটা দিনের খাবার পৌষীতে না খেলে কক্সবাজার ভ্রমণটাই বিফল

খাবারের মেন্যু অনুযায়ী একেক রেস্টুরেন্টে একেক ধরনের মূল্য তালিকা দেখা যায়। তবে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত কিছু কিছু তালিকা ভোজন রসিকদের আশ্বস্ত করেছে। মোটামুটি ১০০-৫০০ টাকার মধ্যে সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী মজাদার খাবার গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে খাবারের নাম, মূল্য এবং তৈরির সময় সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে খাদ্যের তালিকা ও মূল্য টুকে রাখুন। বিলের সঙ্গে মিলিয়ে বিল প্রদান করুন।


এছাড়াও কিছু রেস্ট্রুরেন্ট ও তাদের ঠিকানা নিচে দেওয়া হল। আপনি আপনার সকাল বিকেল ও রাতের খাবার অনুযায়ী পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটিতে ঢু মারতে পারেন।

সকালের নাস্তার জন্য: নিরবিলি রেস্টুরেন্ট। বিখ্যাত খাবার: বিফ পায়া।

বাংলা খাবার (লাঞ্চ/ডিনার) নিউ পৌষি (পুরাতনটা নয়) লোকেশন: যেকোন রিক্সাওয়ালাকে/ অটোকে বললেই নিয়ে যাবে। স্পেশাল ফুড: ভর্তা প্ল্যাটার, লইট্টা ফ্রাই, বিফ কালা ভূনা, পুডিং, কাস্টার্ড, ফালুদা।

রান্নাঘর: লোকেশন: সায়ামন রোড, বাহারছড়া। স্পেশাল ফুড: ভর্তা প্ল্যাটার সহ বাংলা ফুড।

কুটুমবাড়ি: লোকেশন: কলাতলি। স্পেশাল ফুড: ভর্তা প্ল্যাটার সহ বাংলা ফুড।

ওয়েস্টার্ন প্লাজা: লোকেশন: হোটেল সি প্যালেস। স্পেশাল ফুডঃ লইট্টা ফ্রাই / ভুনা, মাটন ভূনা।

হান্ডি রেস্টুরেন্ট: লোকেশন: লাবণী পয়েন্ট বিচ রোড। স্পেশাল ফুড: হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি।

কয়লা রেস্টুরেন্ট: লোকেশন: সিগাল হোটেলের এদিকে। স্পেশাল ফুড: আচারি চিকেন আইটেম।

বুফে লাঞ্চ/ ডিনার: হোটেল কক্সটুডে রেস্টুরেন্ট: লোকেশন: সি-ইন পয়েন্ট রোডে। স্পেশাল ফুড: যেকোনো বুফেতেই কক্সটুডে বেস্ট।

হোটেল লং বিচ রেস্টুরেন্ট। লোকেশন: লং বিচ হোটেল। স্পেশাল ফুড: বুফে ডিনার।

মারমেইড ক্যাফে: লোকেশন: মেরিন ড্রাইভ রোড। স্পেশাল ফুড: অর্গানিক রাইস।

সি ল্যাম্প বিচ ক্যাফে: লোকেশন: কলাতলি রোড, কক্সবাজার। স্পেশাল ফুড: ফিশ বারবিকিউ, ক্যান্ডেল লাইট ডিনার।

ম্যাগ ডেরিন বিচ ক্যাফে: লোকেশন: নিস্বর্গ হোটেলের পাশে (দারুণ সানসেট দেখা যায়)। স্পেশাল ফুড: সি-ফুড, চাইনিজ সবই পাওয়া যায়।

ডিভাইন ইকো রিসোর্ট: লোকেশন: মেরিন ড্রাইভ রোড। স্পেশাল ফুড: ক্যান্ডেল লাইট ডিনার এর জন্য বেস্ট।
সি-ফুড রেস্টুরেন্ট: প্রসাদ প্যারাডাইস রেস্টুরেন্ট। লোকেশন: সিইএন পয়েন্ট এর এদিকে।
স্পেশাল ফুড: কোরাল, পমফ্রেট, রেড স্নেপার বিবিকিউ, কিন ফিশ বিবিকিউ ইত্যাদি।

লাইভ ফিশ রেস্টুরেন্ট: লোকেশন: শৈবাল হোটেলের পাশে। স্পেশাল ফুড: ফিশ বারবিকিউ।

তরঙ্গ রেস্টুরেন্ট: লোকেশন: প্রসাদ প্যারাডাইস হোটেলের পাশে। স্পেশাল ফুড: কোরাল মাছের কাবাব, বসনিয়ান রুটি। এছাড়া আরো অনেক আইটেম আছে।
রুফ-টপ রেস্টুরেন্ট: স্কাইরুফ রেস্টুরেন্ট। লোকেশন: ওশান প্যারাডাইস হোটেল। স্পেশাল ফুড: অজানা।

সল্প মূল্যে ভালো পরিবেশের হোটেলঃ
শালিক রেস্টুরেন্ট
লোকেশন: কলাতলি থেকে হিমছড়ি যেতে পরবে।
স্পেশাল ফুড: মোটামুটি দামে ভালো পরিবেশে লাঞ্চ / ডিনার করতে পারবেন।

হোটেল জামান:
লোকেশন: ওশান প্যারাডাইস হোটেলের উল্টাপাশে। স্পেশাল ফুড: মোটামুটি দামে ভালো পরিবেশে লাঞ্চ /ডিনার করতে পারবেন।

ইসি/