রমযান মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর শিক্ষা - ১

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

রমযান মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর শিক্ষা - ১

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৮

print
রমযান মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর শিক্ষা - ১

রহমত, মাগফিতার ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে বছর ঘুরে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে মহিমান্বিত রমযান। মানবসৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই এ মাসে সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য ঘটনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এ মাসেই নাযিল হয়েছে। বিজয়ের মাসখ্যাত রমযানেই মুসলিমগণ বদরের প্রান্তরে কাফিরদের পরাজিত করে ইসলামের বিজয় নিশান উড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বের দরবারে। রমযানের নানা ঘটনাতে রয়েছে আমাদের মূল্যবান উপদেশ ও শিক্ষা। আল-কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, 

﴿وَكُلّٗا نَّقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِۦ فُؤَادَكَۚ وَجَآءَكَ فِي هَٰذِهِ ٱلۡحَقُّ وَمَوۡعِظَةٞ وَذِكۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ١٢٠﴾ [هود: ١٢٠]

“আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমরা তোমার মনকে স্থির করি, আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ”। [সূরা হূদ, আয়াত: ১২০]

﴿كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ ءَاتَيۡنَٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكۡرٗا ٩٩ مَّنۡ أَعۡرَضَ عَنۡهُ فَإِنَّهُۥ يَحۡمِلُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وِزۡرًا١٠٠﴾ [طه: ٩٩،  ١٠٠]

“পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমরা তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি। তা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৯৯-১০০]

অতএব, ঘটনা শুধু জানানোর জন্যই এখানে উল্লেখ করা উদ্দ্যেশ্য নয়; বরং এর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া মূল লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, কয়েক পর্বে পরিবর্তনের পাঠকদের জন্য মহিমান্বিত এ মাসে ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে। আজ তুলে ধরা হচ্ছে ১ থেকে ৩ রমযান পর্যন্ত ঘটনাগুলো।    

১ রমযান:

ক- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভ:

রমযান মাসকে আল্লাহ তা‘আলা আসমানী কিতাবসমূহের নাযিলের মাস হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এ মাসেই নাযিল হয় মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব ‘আল-কুরআন’। ইবন ইসহাকের মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে হেরা গুহায় জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের আগমনে অহীপ্রাপ্ত হন[1]। তাঁকে বলা হলো:

﴿ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١ خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِنۡ عَلَقٍ ٢ ٱقۡرَأۡ وَرَبُّكَ ٱلۡأَكۡرَمُ ٣ ٱلَّذِي عَلَّمَ بِٱلۡقَلَمِ ٤ عَلَّمَ ٱلۡإِنسَٰنَ مَا لَمۡ يَعۡلَمۡ٥﴾ [العلق: ١،  ٥]

“পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক থেকে। পড়, আর তোমার রব মহামহিম, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।” [সূরা আল-‘আলাক, আয়াত: ১-৫]

ইবন ইসহাক দলীল হিসেবে এ আয়াত পেশ করেন,

﴿شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ وَلِتُكۡمِلُواْ ٱلۡعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ١٨٥﴾ [البقرة: ١٨٥]

“রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর করো।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]

খ- ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম সহীফাপ্রাপ্ত হন:

ওয়াসেলাহ ইবন আসকা‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

"أُنْزِلَتْ صُحُفُ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ لِسِتٍّ مَضَيْنَ مِنْ رَمَضَانَ، وَالْإِنْجِيلُ لِثَلَاثَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الْفُرْقَانُ لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ ".

“রমযানের প্রথম রাতে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের ওপর সহিফাসমূহ নাযিল হয়, রমযানের ছয়দিন অতবাহিত হলে (৭ রমযান) মূসা ‘আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত নাযিল হয়, তেরই রমযান অতিবাহিত হলে (১৪ রমযান) ঈসা ‘আলাইহিস সালামের ওপর ইঞ্জীল নাযিল হয়, আর ২৫ রমযান মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল-কুরআন নাযিল হয়।”[2]

রমযানে আসমানী কিতাবসমূহ নাযিলের হিকমত:

বরকতময় মাস রমযানে আল্লাহ তা‘আলা অধিকাংশ আসমানী কিতাব নাযিল করেন। এ মাসকে আল্লাহ অন্যান্য মাসের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। আর সে মর্যাদার কারণেই মর্যাদাময় কিতাবসমূহ এ মাসেই নাযিল করেছে। আমলের মাসে এসব কিতাব নাযিল করে এর অনুসারীদেরকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করাই মূললক্ষ্য।

গ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইনাব বিনতে খুযাইমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে বিয়ে:

৩য় হিজরীর ১ রমযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী হিলাল এর যাইনাব বিনতে খুযাইমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে বিয়ে করেন। তিনি ১ রমযানই তাঁর সাথে বাসর করেন। [3]

ঘ- সালাতুল ইসতিসকা প্রচলন:

ইবন হিব্বান রহ. তাঁর সিকাত গ্রন্থে বলেন, মানুষের বৃষ্টির অতিপ্রয়োজন দেখা দিলে ১ রমযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল ইসতিসকা আদায় করতে বের হন। তিনি দু রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং উচ্চস্বরে কিরাত পড়েন। অতপর কিবলামুখী হয়ে চাদর উল্টিয়ে দু‘আ করেন। ইমাম আহমদ রহ. এর মতে এটা ৬ষ্ঠ হিজরীর রমযান মাসে সংঘটিত হয়েছিল।[4] 

২ রমযান:

ক- মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:

৮ হিজরীর ২ রমযান, ৬২৯ খৃস্টাব্দে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রওয়ানা করেন।

খ- কায়রোয়ান শহরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন:

৬৭০ খৃস্টাব্দের ২ রমযান উকবা ইবন ‘আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নেতৃত্বে তিউনেসিয়ার ঐতিহাসিক কায়রোয়ান শহরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

গ- আব্বাসী খিলাফাতের গোড়াপত্তন:

১৩২ হিজরীর ২য় রমযান (১৩ এপ্রিল ৭৫০ খৃ.) আবুল আব্বাস আব্দুল্লাহর খিলাফরে আরোহণের মাধ্যমে আব্বাসী খিলাফতের গোড়াপত্তন হয় এবং উমাইয়া শাসনের অবসান ঘটে।

ঘ- আসকালান শহর ধ্বংসকরণ: 

সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী ১১৯১ খৃস্টাব্দে ২ রমযান ক্রুসেডারদের আক্রমন প্রতিহত করতে আসকালান শহর ধ্বংস করে দেন, যাতে সেখানে পুনরায় খৃস্টানরা বসতি স্থাপন করে বাইতুল মুকাদ্দাস দখল করতে না পারে। তিনি এ শহর ধ্বংসকালে ঐতিহাসিক এক বচন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছিলেন: ‘আল্লাহর কসম, এ শহরের একটি পাথর ধ্বংস করার চেয়ে আমার সব সন্তানের মৃত্যু আমার পক্ষে সহজতর’। 

৩ রমযান:

ক- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধের জন্য বের হন:

২ হিজরীর ৩ রমযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রওয়ানা হন।

খ- ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার মৃত্যু:

জান্নাতী নারীদের সর্দার, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারী, হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার জননী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নয়নের মণি কলিজার টুকরা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা একাদশ হিজরীর ৩ রমযান মঙ্গলবার (৬৩২ খৃ.) রজনীতে মারা যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই মারা যান। মুহাম্মাদ ইবন উমার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

«تُوُفِّيَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِثَلَاثِ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَهِيَ ابْنَةُ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً أَوْ نَحْوَهَا» وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي وَقْتِ وَفَاتِهَا "، فَرُوِيَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ: «تُوُفِّيَتْ فَاطِمَةُ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ» ، وَأَمَّا عَائِشَةُ فَإِنَّهَا قَالَتْ فِيمَا رُوِيَ عَنْهَا: «أَنَّهَا تُوُفِّيَتْ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ» ، وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ فَإِنَّهُ قَالَ: فِيمَا رَوَى يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْهُ، قَالَ: «تُوُفِّيَتْ فَاطِمَةُ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَمَانِيَةِ أَشْهُرٍ».

“ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের তিনরাত অতিবাহিত হলে ২৯ বছর বয়সে মারা যান। আলিমগণ তাঁর মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন। আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর তিনমাস পরে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মারা যান। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর ছয়মাস পরে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মারা যান। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবন হারিস রহ. ইয়াযিদ ইবন আবূ যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর আটমাস পরে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মারা যান।”[5] 

তথ্যসূত্র : [1] সীরাতে ইবন হিশাম, পৃ. ১/২৩৫, [2] মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১৬৯৮৪, জামেউস সগীর, হাদীস নং ১৪৯৭, [3] সিকাত, ১/২২০, তাবাকাতুল কুবরা, ৮/১১৫, [4] সিকাত, ইবন হিব্বান, ১/২৮৬, [5] মুসতাদরাক হাকিম, হাদীস নং ৪৭৬১

এমএফ/ 

 
.




আলোচিত সংবাদ