ধ্বংসপ্রাপ্ত অবিশ্বাসীদের জীবন্ত নিদর্শন ‘মাদায়েনে সালেহ’

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫

ধ্বংসপ্রাপ্ত অবিশ্বাসীদের জীবন্ত নিদর্শন ‘মাদায়েনে সালেহ’

ফয়জুল্লাহ সাইফ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

print
ধ্বংসপ্রাপ্ত অবিশ্বাসীদের জীবন্ত নিদর্শন ‘মাদায়েনে সালেহ’

‘হে নবী আপনি বলে দিন, তোমরা জমিনে ভ্রমণ কর। অতঃপর দেখে শিক্ষা লাভ কর যে, কেমন হয়েছিল অস্বীকারকারীদের শেষ পরিণতি’ (সুরা আন’আম-১১)

সৌদি আরবের বর্তমান আল-উলা প্রদেশের মাদায়েনে সালেহ বা আল-হিজর সৌদি পর্যটন আর্কষণসমূহের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

২০০৮ সালে ইউনেস্কো মাদায়েনে সালেহকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাচীন লিহওয়ানদের রাজধানী এই শহরটিই সৌদি আরবের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো স্থান।

লিহওয়ানদের পূর্বে এই স্থানেই ছিল সামুদ জাতির বসবাস। তাদের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহতা’আলা হযরত সালেহকে (আ.) প্রেরণ করেছিলেন।

মাদায়েনে সালেহ স্থানটির নাম আল্লাহর নবী হযরত সালেহ (আ.)- এর নাম থেকে এসেছে। পরবর্তীতে তার কথা না মানায় তার জাতি আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে তিনি এই স্থা্ন থেকে হিযরত করে চলে যান। এরপর থেকে এটি একটি মৃত নগরীতে পরিণত হয়। এই স্থানটি এখনও একটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন বহন করে চলছে।

বর্তমানে মাদায়েনে সালেহের এই স্থানটি সৌদি আরবের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রসমূহের মধ্যে অন্যতম। এখানকার আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘হাতির পাহাড়’ বা ‘জাবালুল ফিল’। হাতির আকৃতির এই পাহাড়টি ৫০ মিটার উঁচু। পাহাড়টি ব্যতিক্রমী আকৃতির কারণে পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

মাদায়েনে সালেহের পুরো অঞ্চলটি কমলা, লেবু ও পামগাছে পরিপূর্ণ, যা এই মৃতস্থানটির মাঝে প্রাণের সঞ্চার করেছে। মরুভ্রমণ এবং ঘোড়দৌড়ের জন্যও স্থানটি আদর্শ।

সিরিয়া থেকে মদীনা পর্যন্ত ওসমানী আমলে নির্মিত রেললাইনের পাশে এ স্থানে ওসমানী যুগের একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে। এই সেনাঘাঁটির পার্শ্ববর্তী রেলস্টেশনটি হিজাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেলস্টেশন। রেলের মেরামত কারখানা, সৈন্যদের থাকার জন্য দুর্গ, মসজিদ, অস্ত্রাগার প্রভৃতির সমন্বয়ে পুরোটি নির্মিত। হযরত সালেহ (আ.)- এর উটের পানি পানের কূপটিও এখানেই।

লিহওয়ান, সামুদ ও নাবাতিয়ানদের প্রাচীন অনেক নির্দশন এই স্থানে রয়েছে, যা এই প্রাচীন জাতিগুলোর স্থাপত্যশৈলীর প্রমাণ বহন করে চলছে। পাথরের পাহাড় খোদাই করে সামুদ ও নাবাতিয়ানদের নির্মিত বিভিন্ন প্রাসাদ ও স্থাপনাগুলো দর্শকদের আজো বিস্মিত করে।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ইতিহাসসমৃদ্ধ মাদায়েনে সালেহ ভ্রমণে আসে। সৌদি আরব এবং সৌদি আরবের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের আগমনে মৃত এই নগরী সদা প্রাণবন্ত থাকে।

এফএস/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ